আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : বৃহস্পতিবার ১লা অক্টোবর ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
সংগৃহীত
সত্তর ও আশির দশকের বাংলা ও ইংরেজি গানের সুরে নস্টালজিয়ায় ফিরতে রাজধানীতে বসছে বিশেষ সংগীত সন্ধ্যা। আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ৮টায় বসুন্ধরার Saffron Dine রেস্তরাঁয় এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংগীত পরিবেশন করবেন বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের পরিচিত দুই মুখ লাবু রহমান ও আলী সুমন।
‘হাইভওয়েভ’ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সত্তর ও আশির দশকের নির্বাচিত বাংলা ও ইংরেজি গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শ্রোতাদের নিয়ে যাওয়া হবে পুরোনো দিনের সংগীতের আবহে। বড় কোনো কনসার্টের পরিবর্তে ছোট পরিসরে ঘনিষ্ঠ ও আন্তরিক পরিবেশে আয়োজনটি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, পরিচিত সব গানের সুরে অনেকের স্মৃতিতে ফিরে আসবে শৈশব-কৈশোরের দিন, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা কিংবা জীবনের বিশেষ কোনো মুহূর্ত। সেই সময়ের গানকে কেন্দ্র করে শ্রোতা ও শিল্পীর মধ্যে সরাসরি একটি আবেগঘন যোগাযোগ তৈরি করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানের অন্যতম শিল্পী লাবু রহমান বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের দীর্ঘ পথচলার সঙ্গে যুক্ত একজন গিটারবাদক। ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে সংগীতচর্চা শুরু করা লাবু রহমান ১৯৭৫ সালে ‘আনন্দ’ ব্যান্ডে যোগ দেন। ১৯৭৭ সালে তিনি আজম খানের ‘উচ্চারণ’-এর সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে ‘সিম্ফনি’সহ বিভিন্ন ব্যান্ড ও সংগীত প্রকল্পে কাজ করার পর ১৯৮৬ সালে যোগ দেন ‘ফিডব্যাক’-এ।
‘ফিডব্যাক’-এর সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাজ করার সুবাদে বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অ্যালবামের সঙ্গেও তাঁর নাম যুক্ত হয়েছে। ‘উল্লাস’, ‘মেলা’, ‘জোয়ার’, ‘বঙ্গাব্দ ১৪০০’ ও ‘বাউলিয়ানা’সহ বিভিন্ন অ্যালবামে তাঁর সংগীত-অবদান রয়েছে।
গিটারবাদনের পাশাপাশি লাবু রহমান বিভিন্ন সময় দেশের প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের সঙ্গে সেশন মিউজিশিয়ান হিসেবে কাজ করেছেন। গিটার শিক্ষক হিসেবেও রয়েছে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। একই সঙ্গে কণ্ঠশিল্পী ও সুরকার হিসেবেও সংগীতাঙ্গনে কাজ করেছেন তিনি।
অন্যদিকে আলী সুমনও দেশের ব্যান্ড সংগীতের পরিচিত মুখ। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের সঙ্গে যুক্ত থাকা আলী সুমন ১৯৮৭ সালে ‘চাইম’ ব্যান্ডের ভোকালিস্ট হিসেবে সংগীতজীবনে গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত হন। পরে ১৯৯৩ সালে নিজেই ‘পেন্টাগন’ ব্যান্ড গড়ে তোলেন। এ ব্যান্ডে তিনি ভোকালের পাশাপাশি অ্যাকুস্টিক গিটারও বাজিয়েছেন।
নব্বইয়ের দশকে ‘পেন্টাগন’ ব্যান্ডের মাধ্যমে আলী সুমনের সংগীতচর্চা নতুন মাত্রা পায়। বাংলা ও ইংরেজি গানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগীতধারার প্রভাবও ব্যান্ডটির পরিবেশনায় দেখা গেছে।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান হাইভওয়েভের কর্ণধার ফারহাতুল জান্নাত বলেন, তাদের আয়োজনের লক্ষ্য শুধু বিনোদন দেওয়া নয়, মানুষের সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও আবেগের একটি সংযোগ তৈরি করা। বাংলাদেশ বেতারের নাট্যশিল্পী ও উপস্থাপক হিসেবেও কাজ করছেন তিনি।
ফারহাতুল জান্নাত বলেন, সত্তর ও আশির দশকের গান বাংলাদেশের সংগীতজগতের একটি সমৃদ্ধ সময়ের প্রতিনিধিত্ব করে। এসব গানের সঙ্গে শ্রোতাদের ব্যক্তিগত জীবনের নানা স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। তাই বড় পরিসরের জাঁকজমকপূর্ণ কনসার্টের বদলে ছোট ও রুচিশীল পরিবেশে এমন একটি সন্ধ্যা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘খুব বড় বা জাঁকজমকপূর্ণ কোনো অনুষ্ঠান নয়। বরং একটি ছোট, রুচিশীল ও আন্তরিক সন্ধ্যার মধ্য দিয়ে দর্শকদের কিছু সময়ের জন্য সেই পরিচিত সুরের ভুবনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়াই মূল ভাবনা।’
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানের টিকিট Saffron Dine রেস্তরাঁ থেকে সংগ্রহ করা যাবে। সন্ধ্যাটি মূলত সত্তর ও আশির দশকের বাংলা ও ইংরেজি গানের শ্রোতাদের জন্য হলেও পুরোনো দিনের সংগীতের স্বাদ নিতে আগ্রহী যে কেউ এতে অংশ নিতে পারবেন।