আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : মঙ্গলবার ৬ই অক্টোবর ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
সংগৃহীত
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. ইলিয়াস হোসাইনের একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। ভিডিওতে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়া নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করতে শোনা যায়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে এএসআই ইলিয়াস হোসাইনকে চুনারুঘাট থানা থেকে প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে ভাইরাল ভিডিও এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন।
জানা গেছে, সম্প্রতি চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ী নোমান মিয়ার করা একটি মামলার তদন্তে যান এএসআই ইলিয়াস হোসাইন। সেখানে স্থানীয় কয়েকজনের উপস্থিতিতে ঘুষ নেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বিভিন্ন মন্তব্য করেন। ওই সময় উপস্থিত এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তার বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন।
পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে ইলিয়াস হোসাইনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি যদি বলি পুলিশে চাকরি করি কিন্তু ঘুষ খাই না, তবে কি আমি বায়তুল মোকাররমের ইমাম সাহেব হব? আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই।’
তার এমন বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশের দায়িত্ব, পেশাগত আচরণ এবং ঘুষের অভিযোগ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে থাকে। বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের নজরে এলে তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
এদিকে, ভাইরাল ভিডিওতে থাকা বক্তব্যের সত্যতা, এর প্রেক্ষাপট এবং এএসআই ইলিয়াস হোসাইনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সহকারী পুলিশ সুপার (মাধবপুর সার্কেল) মো. মাফিউর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’
তবে ভাইরাল ভিডিওতে করা মন্তব্যের বিষয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইনের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।