আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : শুক্রবার ৯ই অক্টোবর ২০২৬, ১০:১০ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
সংগৃহীত
শিশুদের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশের পাশাপাশি দেশে সৃজনশীল অর্থনীতি (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) প্রসারে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, শিশু একাডেমি এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনের পথরেখা নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। দেশের শিশুরা কীভাবে বেড়ে উঠবে এবং তাদের জীবন গঠনে সরকারের ভাবনা কী, তার প্রতিফলন এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে দেখা যায়।
শিশুদের মানবিক গুণাবলি অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই পরিবার, প্রকৃতি, পরিবেশ, পশুপাখি ও কীটপতঙ্গের প্রতি শিশুদের সংবেদনশীল হতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, জলবায়ু, পরিবেশ ও প্রাণিসম্পদ রক্ষার বিষয়টি উন্নয়ন প্রকল্পে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নারীর ক্ষমতায়ন ও ছেলে-মেয়ের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পরিবার থেকেই সমঅধিকারের চর্চা শুরু হওয়া প্রয়োজন। নিজের জীবনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি জানান, তাঁর ছেলে ও মেয়েকে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং সম্পত্তিতেও তাদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতিচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশজুড়ে শুরু হওয়া ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এ প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার ছেলে-মেয়ে অংশ নিয়েছে, যাদের মধ্যে ৪৫ হাজারের বেশি মেয়ে।
তিনি বলেন, শিশুদের শুধু পড়াশোনায় নয়, শিল্পকলা, সংগীত, থিয়েটার ও খেলাধুলায়ও দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। একটি দেশের প্রকৃত শক্তির অন্যতম ভিত্তি তার ‘সফট পাওয়ার’ বা সাংস্কৃতিক প্রভাব।
সৃজনশীল অর্থনীতির পরিকল্পনা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ নামে নতুন একটি ক্ষেত্র উন্মোচনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে থিয়েটার, শিল্পকলা ও চলচ্চিত্রের পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ের তাঁতি, কামার ও কুমারদের মতো কারিগরদের জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা এবং তাঁদের সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর লক্ষ্য হলো, প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা।
বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও ধৈর্যের মাধ্যমে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হবে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মোছা. আরজু আরা বেগম।
অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিজয়ী শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অর্থমন্ত্রী।