আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : সোমবার ১৪ই সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৯ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
সংগৃহীত
জনগণের অর্থে নির্মিত নতুন সড়ক কোনো সংস্থার সমন্বয়হীনতার কারণে আবার কেটে নষ্ট করতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। নতুন সড়ক না কেটে বিকল্প উপায়ে কাজ সম্পন্ন করার জন্য ওয়াসা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ডিএসসিসির আওতাধীন ইনার সার্কুলার রিং রোডের রায়েরবাজার স্লুইস গেট থেকে কামরাঙ্গীরচর লোহার ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, দীর্ঘ দুই থেকে তিন বছর মানুষের ভোগান্তির পর এখন এলাকায় নতুন সড়ক দৃশ্যমান হয়েছে। কিন্তু ওয়াসার ‘বর্ধিত ঢাকা পানি সরবরাহ রেজিলিয়েন্স প্রকল্প’-এর আওতায় নতুন সড়কটি আবার খুঁড়ে প্রায় ৬ ফুট ব্যাসের পানির লাইন বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ওয়াসাকে একাধিক সভায় বিকল্প রুট নির্ধারণের অনুরোধ করা হয়েছে। জনগণকে পুনরায় ভোগান্তিতে ফেলে এবং জনঅর্থের অপচয় করে নতুন সড়ক খোঁড়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।
ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, ১ হাজার ১৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ দশমিক ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ আট লেনের সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে চারটি লেন এক্সপ্রেসওয়ে এবং চারটি লেন সার্ভিস রোড হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
প্রকল্পের আওতায় আরও দুই কিলোমিটার সংযোগ সড়ক, ১০ কিলোমিটার ফুটপাত, ১০ কিলোমিটার ড্রেন, তিনটি ভেহিকুলার ওভারপাস, তিনটি ফ্লাইওভার, আটটি স্লুইস গেট, ছয়টি বাস-বে ও ছয়টি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি দুই কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল এবং প্রায় ৪৮০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ও আটটি টাওয়ার স্থানান্তরের কাজ চলছে।
প্রথম ধাপের কাজের ভৌত অগ্রগতি প্রায় ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রথম ধাপের কাজ শেষ হলে দ্বিতীয় ধাপে লোহার ব্রিজ থেকে পোস্তগোলা পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণ করা হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণবঙ্গের ২১টি জেলার বাস রাজধানীর মূল সড়কের যানজট এড়িয়ে এই রিং রোড ব্যবহার করে উত্তরবঙ্গে চলাচল করতে পারবে বলে জানান ডিএসসিসি প্রশাসক।
এতে রাজধানীর পাশাপাশি কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ ও হাজারীবাগ এলাকার যানজট কমাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আবদুস সালাম বলেন, উন্নয়নকাজ শুরুর আগেই সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি। একই সড়কে বারবার খোঁড়াখুঁড়ি হলে একদিকে জনভোগান্তি বাড়ে, অন্যদিকে সরকারি অর্থের অপচয় হয়।
এর আগে সকালে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলকে সঙ্গে নিয়ে ঐতিহাসিক লালকুঠি (নর্থব্রুক হল)-এর সংস্কারকাজ পরিদর্শন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
এ সময় তিনি বলেন, লালকুঠির সংস্কার পুরান ঢাকার ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও শহর পুনরুজ্জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আধুনিক যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণও ঢাকার টেকসই উন্নয়নের অংশ।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘ডিসিএনইউপি’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৩ সালের ১ জুন লালকুঠির সংস্কারকাজ শুরু হয়। ২০২৬ সালের ৩১ মে ভবনটির মূল সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী চুন-সুরকির গাঁথুনি ও লাল ইটের স্থাপত্য অক্ষুণ্ন রেখে ভবনটি সংস্কার করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে লালকুঠিকে সাহিত্যসভা, চিত্র প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পাঠচর্চার সমন্বিত কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিদর্শনকালে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান এবং বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট, বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জঁ পেমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ফটো ক্যাপশন: