• আনন্দ বাংলা

  • আপডেট : শনিবার ৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৯ অপরাহ্ণ

  • অনলাইন সংস্করণ


রুনা খান: ‘মানুষের সক্ষমতার ওপর বিশ্বাস রেখেই এগিয়ে যেতে চাই’

রুনা খান: ‘মানুষের সক্ষমতার ওপর বিশ্বাস রেখেই এগিয়ে যেতে চাই’

ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ বিজয়ী ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান।

এশিয়ার নোবেলখ্যাত ৬৮তম র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ পেয়েছেন বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান। দুর্গম চর ও নদীবেষ্টিত এলাকার প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে দুই দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করে আসছেন তিনি। তাঁর নেতৃত্ব, সাহস, মানবিক দর্শন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য দীর্ঘদিনের কাজের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে এসেছে এই পুরস্কার।

২০০২ সালে একটি ভাসমান হাসপাতাল দিয়ে যাত্রা শুরু করা ফ্রেন্ডশিপ বর্তমানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা, জীবিকা ও নাগরিক অধিকারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে। সংস্থাটির কার্যক্রমের আওতায় বছরে প্রায় ৭৫ লাখ মানুষ সেবা পাচ্ছেন।

র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পাওয়ার পর রুনা খান তাঁর দীর্ঘ পথচলা, প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম, ফ্রেন্ডশিপের অর্জন, মূল্যবোধ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন। আনন্দ বাংলা নিউজের পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো।

আনন্দ বাংলা: র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পাওয়ার খবরটি প্রথম যখন শুনলেন, তখন কেমন অনুভূতি হয়েছিল?

রুনা খান: প্রথমে অবশ্যই খুশি হয়েছিলাম। তবে সেই খুশি ‘আমি এটা করেছি’—এমন ছিল না; বরং মনে হয়েছিল, আল্লাহকে ধন্যবাদ। যারা ২৫ বছর ধরে আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে, আমাদের সঙ্গে হেঁটেছে, তারা এখন অনুভব করবে—তাদের বিশ্বাস সঠিক ছিল।

গত ২৫ বছর ধরে যারা নিষ্ঠা ও শ্রম দিয়ে আমাদের সঙ্গে কাজ করেছেন, তাদের সবার কথা মনে পড়েছে। অনেকে কাজ করে চলে গেছেন, কেউ বিদেশে গেছেন; কিন্তু তাদের অবদানও কম নয়। আমাদের আন্তর্জাতিক সহযোগীরাও সব সময় মাঠে এসে কাজ দেখতে পারেননি। তারা শুধু আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

এই পুরস্কার শুধু কাজের স্বীকৃতি নয়; মহানুভবতা, নেতৃত্ব এবং সেই নেতৃত্বের মাধ্যমে যা অর্জন করা হয়েছে, তারও স্বীকৃতি। আমার কাছে মূল্যবোধ খুব গুরুত্বপূর্ণ। যে কাজ আমি বিশ্বাস করি না, তা করব না। যে পথে বিশ্বাস নেই, সে পথে হাঁটব না। যে মূল্যবোধের সঙ্গে আপস করতে হয়, সে কাজও করব না। আমাদের সংগঠন শুরু থেকেই এই মূল্যবোধ ধারণ করে এগিয়েছে। তাই এই স্বীকৃতি আমার কাছে শুধু আনন্দের নয়, এটি আবারও বিশ্বাস ফিরে পাওয়ার মতো।

আনন্দ বাংলা: ২৫ বছরের এই পথচলা কতটা কঠিন ছিল?

রুনা খান: ভীষণ কঠিন। ভাবুন, একটি পরিবারে বেড়ে ওঠা একটি মেয়ে—যে আর্থিক কষ্ট কী, তা ঠিকমতো কখনও বুঝতে হয়নি; যে প্রকৃত দারিদ্র্য কাছ থেকে দেখেনি, হাসপাতাল বা চরাঞ্চলের বাস্তবতাও জানত না—সে ভাবছে, একটি জাহাজ নিয়ে এমন একটি চরাঞ্চলে যাবে, যেখানে মানুষের কাছে পৌঁছানোই কঠিন!

পুরো যাত্রাটাই ছিল প্রায় অসম্ভব। চারপাশ থেকে প্রশ্ন এসেছে—রুনা, তুমি এটা কীভাবে করবে?

অনেকে বিশ্বাসই করেনি যে সামাজিকভাবে সচ্ছল একটি পরিবারের একজন মানুষ বছরের পর বছর সবকিছু ছেড়ে এভাবে কাজ করতে পারে। সামাজিক অনুষ্ঠান, ক্লাব, দাওয়াত—সবকিছু থেকেই আমাকে দূরে থাকতে হয়েছে। হয়তো কোনো অনুষ্ঠানে ৫ বা ১০ মিনিটের জন্য গেছি, তারপর আবার কাজে ফিরেছি।

বছরের পর বছর এভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে—এটি কেউ বিশ্বাস করেনি। এমনকি সরকারও প্রথম দিকে বিশ্বাস করেনি।

আনন্দ বাংলা: প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে কোন বিষয়টি আপনাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে?

রুনা খান: মানুষের ব্যথা। দারিদ্র্য থেকে মানুষের ব্যথা হয়। পরিবেশ যখন মানুষের বিরুদ্ধে থাকে, তখন ব্যথা হয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে যখন কারও কাছে পৌঁছানো যায় না, তখনও ব্যথা হয়।

আর একটি জনগোষ্ঠীকে যখন ভুলে যাওয়া হয়, যখন তাদের কথা শোনার কেউ থাকে না—সেটিই সবচেয়ে বড় ব্যথা।

আমার কাছে মানুষ সব সময় এক নম্বরে। মানুষকে সাহায্য করতে হলে তার বাস্তবতাকেও সম্মান করতে হবে। একটি চর ভাঙবে, বৃষ্টি আসবে, মানুষ এক চর থেকে আরেক চরে যাবে—এসব আমি বন্ধ করতে পারব না। তাই তাদের বাস্তবতাকে সম্মান করেই কাজ করতে হবে।

একটি ঘটনা কখনও ভুলতে পারি না। আমাদের একটি স্বাস্থ্য ক্যাম্পে এক নারী এসেছিলেন; সঙ্গে ছিল তাঁর দুটি সন্তান। তাঁর স্বামী অসুস্থ, কাজ করতে পারেন না। তারা থাকতেন চরের মধ্যে একটি ছোট ঘরে। চারপাশে শুধু বালু।

আমি জানতে চাইলাম, ‘আপনি আয় করেন কীভাবে? কী খান?’

তিনি বললেন, ‘আমি দুদিন হেঁটে ঢাকায় যাই।’

ভাবুন! দুদিন হেঁটে ঢাকায় আসেন। পথে কোনো গাড়ি বা বাস পেলে ওঠেন। ঢাকায় কয়েক দিন ভিক্ষা করেন। তারপর যা পান, তা নিয়ে আবার বাড়ি ফেরেন। স্বামী ও সন্তানদের জন্য ডাল, ভাত, সামান্য তেল ও মরিচ রেখে যান। সন্তান দুটি রান্না করে বাবাকে খাওয়ায়, নিজেরাও খায়। এরপর ওই নারী আবার ঢাকায় আসেন।

আপনি যদি মানুষ হন, এই দৃশ্য আপনার মনে দাগ কাটবেই। আর যখন দেখবেন, আপনি হয়তো কিছু একটা করতে পারবেন, তখন সেটি আপনার কাছে দায়িত্ব হয়ে যাবে। আমার মনে হয়, সেই দায়িত্ববোধ নিয়েই এতদূর এসেছি।

আনন্দ বাংলা: ফ্রেন্ডশিপ প্রান্তিক মানুষের জীবনে কী ধরনের পরিবর্তন এনেছে?

রুনা খান: আমি বলব, ফ্রেন্ডশিপ মানুষের জীবনে সুখ, আশা ও সুযোগ আনতে পেরেছে। আমরা এমনভাবে কাজ করতে চাই, যাতে একদিন ফ্রেন্ডশিপ সেখানে না থাকলেও মানুষ নিজেদের অর্জিত জ্ঞান ও সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে।

তারা ছোট ছোট সামাজিক উদ্যোক্তা হতে পারে। আমরা কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি করেছি। তারা প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেদের এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন। সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের স্বীকৃতির ব্যবস্থাও হয়েছে।

আমাদের ছেলেমেয়েদের ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কোডিং শেখানো হয়। এবার ৪০ জন শিক্ষার্থী কোডিং প্রশিক্ষণ নিয়ে বের হয়েছে। তারা চরে বসেই অনলাইনে মাসে এক হাজার থেকে এক হাজার ৮০০ ডলার পর্যন্ত আয় করছে। এর চেয়ে বড় পরিবর্তন আর কী হতে পারে?

আরেকটি উদাহরণ ইপিআই। আমরা যখন প্রথম যাই, কোনো কোনো চরে ইপিআই হতোই না। যেখানে হতো, সেখানেও কাভারেজ ছিল প্রায় ১৫ শতাংশ। আমাদের এক-দুই বছরের হস্তক্ষেপের মধ্যে সেটি ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

অবশ্যই ইপিআই আমরা একা করি না। সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে করি। আমরা গ্যাপটি চিহ্নিত করি, তারপর সরকারের সঙ্গে কাজ করি।

একবার একজন পুলিশ সুপার একটি টেলিভিশন ক্রুর সামনে বলেছিলেন, ‘ফ্রেন্ডশিপ আসার পর চরে আমাদের কাজ কমে গেছে।’ আমার কাছে সেটিই অনেক বড় স্বীকৃতি।

আনন্দ বাংলা: এত দীর্ঘ পথচলায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল?

রুনা খান: চ্যালেঞ্জ এসেছে মুহূর্তে মুহূর্তে। শুরুতে এমনও হয়েছে, মনে হয়েছে—আল্লাহ, আর এক সপ্তাহ চালাতে পারব। এর বেশি পারব না। কারণ, তখন কেউ আমাদের বিশ্বাস করত না। টাকা দেবে কে!

এমন সময়ও গেছে, যখন সামান্য কিছু অর্থ দিয়ে একটি পরিবারের জীবন বদলে দেওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু আমাদের হাতে সেই অর্থ ছিল না। কোনো অতিরিক্ত অর্থ ছিল না, মাইক্রোফাইন্যান্সও ছিল না।

সে কারণেই ফ্রেন্ডশিপ ইন্টারন্যাশনাল করেছি। আমি আমাদের আন্তর্জাতিক সহযোগীদের বলতাম, আমি এই সমস্যা দেখেছি, দয়া করে টাকা পাঠান। তারা পাঠাতেন।

আজ লুক্সেমবার্গ সরকার, ফরাসি সরকারসহ অনেক প্রতিষ্ঠান আমাদের ওপর আস্থা রাখে। তারা জানে, তারা যে অর্থ দিয়েছে, তা দিয়ে কী কাজ হয়েছে। এই বিশ্বাস অর্জন করাও আমাদের একটি বড় অর্জন।

আনন্দ বাংলা: আপনি বলেছেন, এই পুরস্কার শুধু স্বীকৃতি নয়, দায়িত্বও। সেই দায়িত্ব কতটা বেড়েছে?

রুনা খান: অবশ্যই এটি বড় দায়িত্ব। তবে আমার জীবনে এমন কোনো কাজ নেই, যেটাকে আমি দায়িত্ব মনে করি না। সবকিছুই আমার কাছে দায়িত্ব হয়ে যায়।

এখন আমাদের দাতারা আরও বেশি মানুষের নজরে আসবেন। তাই আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে। যে মূল্যবোধ, নৈতিকতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও প্রভাবের জন্য আমরা এই পুরস্কার পেয়েছি, সেগুলো যেন আরও শক্তিশালী হয়—এটাই গুরুত্বপূর্ণ।

পুরস্কার পাওয়ার পর আমাদের কাজের মান আরও ভালো হতে হবে, আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে।

আনন্দ বাংলা: আপনার কর্মীদের জন্য এই মুহূর্তে কী বার্তা দিতে চান?

রুনা খান: প্রথমেই তাদের অভিনন্দন জানাতে চাই। কারণ কোনো নেতা কখনও একা নেতা হন না। বিপুলসংখ্যক মানুষ যখন একজন নেতাকে বিশ্বাস করে এবং সেই বিশ্বাস অনুযায়ী কাজ করে, তখনই নেতৃত্ব তৈরি হয়।

আমি শুধু র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কারের জুরি বা কমিটির বিশ্বাস অর্জন করিনি; আমার কর্মীরাও সেই বিশ্বাস অর্জন করেছে।

তাদের ধন্যবাদ দিতে চাই। কারণ অনেক সময় আমার সিদ্ধান্ত বাইরে থেকে সংগঠনের বিরুদ্ধে মনে হতে পারে। কিন্তু তারা আমার পাশে থেকেছেন।

একবার ২০ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্প এসেছিল। কিছু বিষয়ে আমাদের মতের মিল হয়নি। তাই আমি প্রকল্পটি প্রত্যাখ্যান করেছিলাম।

আমার কর্মীরা তখন বলেছিল, ‘আমরা মনে করি, আপনি সঠিক কাজ করেছেন।’

ছয় মাস পর প্রকল্পটি আবার আসে। তখন তারা বলেছিল, বিশ্বের ১৮৭টি সংগঠন এই প্রকল্পটি করতে চাইছে। আমি বলেছিলাম, হবে না। কারণ আমার কর্মীদের শ্রম, তাদের সময়—আমি এমন একটি কাজে নষ্ট করতে পারি না, যেটি আমি জানি কাজ করবে না।

তাই তাদের প্রতি আমার বার্তা—সাহস রাখুন। আপনাদের সাহসের জন্যই আমি আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।

আনন্দ বাংলা: প্রান্তিক মানুষের জন্য ফ্রেন্ডশিপের পরবর্তী স্বপ্ন কী?

রুনা খান: আমার স্বপ্ন হলো মানুষ যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। দেশের ওপর তাদের বিশ্বাস থাকে—তারা ন্যায়বিচার পাবে, প্রয়োজনীয় সেবায় প্রবেশাধিকার পাবে।

তবে শুধু সেবা দিলেই হবে না। সেবার মান ও নির্ভরযোগ্যতা থাকতে হবে। কারণ নির্ভরযোগ্যতা ও মানই বিশ্বাসের মূল ভিত্তি।

আমি চাই মানুষ নিজেরাই এসব সেবা পাওয়ার সক্ষমতা অর্জন করুক। তারা আয় করুক, নিজের পায়ে দাঁড়াক। আমাদের প্রয়োজন হলে আমাদের সঙ্গে পথ খুঁজে নিক, কিন্তু শেষ পর্যন্ত যেন নিজেদের শক্তিতে দাঁড়াতে পারে।

একটি দেশের ৩০ শতাংশ মানুষ যদি দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় বাস করে, তাহলে সেটি তো লাখ লাখ মানুষ। দেশের এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে দেশ এগোতে পারে না। তাদের সবাইকে সঙ্গে নিতে হবে।

আর আমি বিশ্বাস করি, তাদের সেই সক্ষমতা আছে। একটি চরের একজন শিক্ষক কতটা লড়াই করেন, সেটি দেখুন। তাঁর একজন শিক্ষার্থীও রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।

মানুষের সক্ষমতা আছে। আমাদের বাঙালিদের মধ্যেও সেই সক্ষমতা আছে। তাহলে আমরা পারব না কেন?

আনন্দ বাংলা: আগামী দিনে ফ্রেন্ডশিপকে কোথায় দেখতে চান?

রুনা খান: আমি আমার প্রতিষ্ঠানকে এমন জায়গায় দেখতে চাই, যেখানে ১০০ বছর পরও একই মূল্যবোধ নিয়ে কাজ করা হবে—যে মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

সবকিছু বদলে যাবে। আজ হয়তো ভাসমান হাসপাতালের প্রয়োজন আছে, কাল হয়তো থাকবে না। একদিন হয়তো আমাদের বর্তমান কাঠামোটিও থাকবে না।

কিন্তু মানুষের প্রয়োজন সব সময় থাকবে। মানুষের প্রয়োজন শুনতে হবে, সেই প্রয়োজন পূরণ করতে হবে, যেখানে ঘাটতি আছে সেটি পূরণ করতে হবে এবং যে মূল্যবোধের ওপর আমি এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি, সেই মূল্যবোধ নিয়েই কাজ করতে হবে।

নিজেকে আমি ভবিষ্যতে এমন জায়গায় দেখতে চাই, যেখানে পরবর্তী নেতৃত্ব, তার পরের নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যতের সব নেতৃত্বের মধ্যে এই দায়িত্ববোধ ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত করতে পারি।

আমি যদি সেটি করতে পারি, তাহলেই মনে করব—আমি যা করতে চেয়েছিলাম, তা করতে পেরেছি।