আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : বুধবার ৭ই অক্টোবর ২০২৬, ০২:১০ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
সংগৃহীত
হামাসের নেতৃত্বে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে চালানো হামলার তৃতীয় বার্ষিকী ঘিরে বিদেশে থাকা ইসরায়েলি ও ইহুদিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এনএসসি)। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত ইসরায়েলিদের সতর্কভাবে চলাফেরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক ভ্রমণ সতর্কবার্তায় এনএসসি জানায়, ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠী, হামাস এবং বৈশ্বিক জিহাদি সংগঠনগুলো ৭ অক্টোবরকে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন হিসেবে বিবেচনা করছে। এ কারণে ওই দিন বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলি ও ইহুদি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
সতর্কবার্তায় বুধবার জর্ডান, কাতার, সোমালিল্যান্ড ও মিসর ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মিসরের সিনাই উপদ্বীপও রয়েছে। অন্যান্য দেশে থাকা ইসরায়েলিদের জনসমাগমপূর্ণ স্থানে হিব্রু ভাষায় কথা বলা কমানো, বিক্ষোভ ও বড় সমাবেশ থেকে দূরে থাকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের ভ্রমণ পরিকল্পনা বা নিরাপত্তা বাহিনীতে কাজ করার পরিচয় প্রকাশ করে এমন তথ্য না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে হাজারো হামলাকারী দক্ষিণ ইসরায়েলে প্রবেশ করে হামলা চালায়। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এর পরই গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হয়।
গত দুই বছর ৭ অক্টোবরের বার্ষিকী ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন বড় শহরে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। এ বছরও বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ ও সমাবেশের কর্মসূচি রয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের নেসেট নির্বাচন। নির্বাচন সামনে রেখে মঙ্গলবার তেল আবিবে বৈঠক করেছেন দেশটির সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামির, পুলিশ কমিশনার ড্যানিয়েল লেভি এবং শিন বেতের প্রধান ডেভিড জিনি।
সেনাপ্রধানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দেশের সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা জোরদার, সন্ত্রাস দমন এবং জাতীয়তাবাদী সহিংসতা মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, নির্বাচনের সময় পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাখতে তিনটি সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মন্ত্রিসভার বৈঠকে আশঙ্কা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করতে হামাস ভোটের আগে ইসরায়েলে হামলার চেষ্টা করতে পারে। তবে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েল প্রস্তুত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এবারের নির্বাচন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর ইসরায়েলে প্রথম জাতীয় নির্বাচন। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে চ্যাটজিপিটির মতো প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহারের পর এটিই দেশটির প্রথম জাতীয় নির্বাচন।
এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং সামাজিক উত্তেজনা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির মহাপরিচালক ডিন লিভনে বলেছেন, বিদেশি দেশ ও বিভিন্ন সংগঠন ইসরায়েলের নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারে। এ ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।