আবু সাঈদের বাড়ি ও কবরস্থানের উন্নয়নে এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা

আবু সাঈদের বাড়ি ও কবরস্থানের উন্নয়নে এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা

সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদের পৈতৃক বাড়িতে নতুন ঘর নির্মাণ, তাঁর বাবা-মায়ের থাকার ব্যবস্থা এবং কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধনে এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে এ ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী।

মীর শাহে আলম বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনা দূর করতে সরকার কাজ করছে। আবু সাঈদের আত্মত্যাগ তরুণ সমাজ ও ছাত্র-জনতার জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আবু সাঈদ আমাদের অনুপ্রেরণা। তার আত্মত্যাগ তরুণদের মাঝে, সমাজের মাঝে এবং ছাত্র-জনতার মাঝে একটি আন্দোলনকে প্রজ্বালিত করেছিল। সেই আন্দোলনে সারা দেশের লাখো মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল।’

বাড়ি ও কবরস্থানের উন্নয়নে এক কোটি টাকা

শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আবু সাঈদ গণঅভ্যুত্থানের বীর। আমরা আবু সাঈদকে ছড়িয়ে দিতে চাই।’

তিনি জানান, আবু সাঈদের বাড়ির উন্নয়ন, নতুন ঘর নির্মাণ, বাবা-মায়ের থাকার ব্যবস্থা এবং কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য এক কোটি টাকা দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এসব কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

এ জন্য জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় নকশা তৈরির নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।

উত্তরাঞ্চলের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন

উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী, স্বাস্থ্য কার্ড, খাল খনন, কর্মসংস্থান ও খেলাধুলার উন্নয়নসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ সময় আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণ ও তার নামে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

উল্লেখ্য, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রংপুর জেলা স্টেডিয়ামের নাম ইতোমধ্যে ‘শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়াম’ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশের ২৩টি জেলা স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তনের অংশ হিসেবে রংপুর জেলা স্টেডিয়ামেরও নতুন নামকরণ করা হয়।

এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।