আনন্দ বাংলা |
আনন্দ বাংলা |
আপডেট : বৃহস্পতিবার ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৯ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
সংগৃহীত
রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে বসে থাকা নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীমকে (২৪) গাড়িচাপায় মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে আসামিপক্ষের ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে। আপসনামায় বাদীপক্ষ সই করেছে এবং আসামি জামিনে মুক্তি পেলে বা খালাস পেলে তাদের কোনো আপত্তি নেই বলে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আসামিদের হাজির করা হলে আসামিপক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন আদালতকে আপসের বিষয়টি জানান।
আইনজীবী আলমগীর হোসেন বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে ৯ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়েছে এবং ওই টাকা নিহতের পরিবারের সদস্যদের দেওয়া হয়েছে। আপসনামায় সই করে তারা আসামির জামিন বা খালাসের বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘নিহত পথচারী প্রতিবন্ধী ছিলেন। বাদীরা মনে করেছেন আপস করবেন। তারা এ আপসে খুশি। তারা ১০ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। পরে ৯ লাখ টাকা ঠিক করা হয়েছে।’
আইনজীবীর দাবি, আপসের ক্ষেত্রে নিহতের পরিবারকে কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা চাপ দেওয়া হয়নি। তাদের সম্মতিতেই সমঝোতা হয়েছে।
আসামিপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, আপসটি একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে উভয় পক্ষের স্বজন ও প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে হয়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্যদের ৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন আইনজীবী।
গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর বারিধারা ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নেওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মেহেদী হাসান মীমকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর উপস্থিত লোকজন গাড়ি থেকে এক কিশোরকে বের হতে দেখে তাকে আটক করে পুলিশের কাছে দেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ ওই কিশোরের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানায়। বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে নিহতের বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম বাদী হয়ে গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেন। মামলায় গাড়িচালক হিসেবে আকাশ মারককে আসামি করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী তদন্তে গাড়ির ড্রাইভিং সিট থেকে কিশোর আজান আলী শরীফকে বের হতে দেখা যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।
ঘটনার পর কিশোর আজান আলী শরীফকে প্রথমে মামলায় আসামি না করায় নানা প্রশ্ন ওঠে। পরে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে তার সংশ্লিষ্টতা তদন্তে আসে এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তার জামিনের আবেদনও করা হয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি আজান চালাচ্ছিলেন না; তবে তদন্তে তার ভূমিকা নিয়ে যে তথ্য পাওয়া গেছে, সেটি আদালতের বিচারাধীন বিষয়।
মেহেদী হাসান মীম ছিলেন নির্মাণশ্রমিক। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি বাক্প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং পরিবারের জন্য কাজ করে অর্থ সঞ্চয়ের চেষ্টা করছিলেন।
নিহতের পরিবারের সঙ্গে ৯ লাখ টাকার সমঝোতা হলেও মামলার আইনি পরিণতি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। আপসনামায় বাদীপক্ষের সম্মতি আসামির জামিন বা খালাস নিশ্চিত করে না।