আনন্দ বাংলা |
আনন্দ বাংলা |
আপডেট : বুধবার ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৯ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
সংগৃহীত
প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানার জীবন, তৎকালীন প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে তার দাম্পত্য এবং মৃত্যুর পরের ঘটনাবলি নিয়ে নতুন বই লিখেছেন ডায়ানার ছোট ভাই চার্লস স্পেন্সার। বইটি প্রকাশের আগেই এতে উঠে আসা বিভিন্ন দাবি ঘিরে ব্রিটিশ রাজপরিবারে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
৬২ বছর বয়সী স্পেন্সারের লেখা ‘সোয়ান সং: ডায়ানা, মাই সিস্টার’ বইটি মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত হওয়ার কথা। এরই মধ্যে বইটির কিছু অংশ প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে ১৯৯৭ সালে ডায়ানার মৃত্যুর পর তৎকালীন প্রিন্স চার্লসকে তিনি ‘অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত’ অবস্থায় দেখেছিলেন বলে দাবি করেছেন স্পেন্সার।
ইতিহাসের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা তার দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে স্পেন্সারের এসব বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করেছে বাকিংহাম প্যালেস।
এক বিবৃতিতে রাজপ্রাসাদ বলেছে, বোন হারানোর বেদনা একজন ভাইয়ের যুক্তিকে আচ্ছন্ন করতে পারে, বিচারবোধকে প্রভাবিত করতে পারে এবং স্মৃতিকেও প্রভাবিত করতে পারে।
ব্রিটিশ অভিজাত পরিবারে জন্ম নেওয়া চার্লস স্পেন্সারের সঙ্গে ব্রিটিশ রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ছিলেন তার গডমাদার। ১৯৮১ সালে ডায়ানা ও তৎকালীন প্রিন্স চার্লসের বিয়ের সময় স্পেন্সারের বয়স ছিল ১৭ বছর।
ডায়ানা ও চার্লসের দুই ছেলে প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স হ্যারি। সময়ের সঙ্গে তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয় এবং ১৯৯৬ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এর এক বছর পর, ১৯৯৭ সালে প্যারিসে গাড়ি দুর্ঘটনায় ৩৬ বছর বয়সে মারা যান ডায়ানা।
ডায়ানার শেষকৃত্যে দেওয়া শোকভাষণে স্পেন্সার বলেছিলেন, তার ‘বিশেষ ধরনের জাদু’ ডায়ানাকে মানুষের মন থেকে কখনো মুছে যেতে দেবে না। বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ২০০ কোটি মানুষ ওই অনুষ্ঠানটি দেখেছিল।
নতুন বইয়ে স্পেন্সার আরও দাবি করেছেন, ডায়ানার মৃত্যুর পর চার্লস তাকে বলেছিলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই তাকে ভুলে যাব।’ এছাড়া ডায়ানার শেষকৃত্যে উইলিয়াম ও হ্যারিকে মায়ের কফিনের পেছনে হাঁটানো উচিত নয় বলে তিনি আপত্তি জানিয়েছিলেন এবং এ নিয়ে চার্লস তার ওপর চিৎকার করেছিলেন বলেও দাবি করেছেন স্পেন্সার।
বাকিংহাম প্যালেসের প্রতিক্রিয়াকে ‘অত্যন্ত উসকানিমূলক এবং নিচু মানের’ বলে মন্তব্য করেছেন স্পেন্সার। ডেইলি মেইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রাজপ্রাসাদের বক্তব্যের মাধ্যমে মূলত তাকে মিথ্যাবাদী বলা হয়েছে।
অক্সফোর্ডে ইতিহাস পড়ার পর প্রায় এক দশক এনবিসি নিউজে কাজ করেন স্পেন্সার। পরে ইতিহাসভিত্তিক বই লিখে পরিচিতি পান। ২০২৪ সালে প্রকাশিত তার স্মৃতিকথা ‘অ্যা ভেরি প্রাইভেট স্কুল’-এ শৈশবে বোর্ডিং স্কুলে যৌন নির্যাতন, অবহেলা ও একাকিত্বের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছিলেন তিনি।