আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : মঙ্গলবার ৮ই সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৯ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নতুন আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নতুন আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য পৃথক আচরণবিধি করা হলেও অধিকাংশ বিধানই অভিন্ন রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিধিমালাগুলো সেপ্টেম্বরের শুরুতে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।
নতুন বিধিমালায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ব্যানার, ফেস্টুন, হ্যান্ডবিল ও সীমিত সংখ্যায় বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রচারসামগ্রীর আকার ও ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রার্থীরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রচারণা চালাতে পারবেন। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা বিদ্বেষপূর্ণ তথ্য ছড়ানো, ভুয়া কনটেন্ট তৈরি, চরিত্র হনন কিংবা ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রচার করা যাবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের আইডি ও ই-মেইল ঠিকানা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। এর মাধ্যমে অনলাইন প্রচারণায় প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের পরিচয় শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।
আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো প্রার্থী নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে পারবেন না। একই সঙ্গে মিছিল ও শোডাউনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়েছে। উপজেলা নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রচারণায় পোস্টার ও মিছিল নিষিদ্ধ করার বিষয়টি নতুন বিধিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীর সঙ্গে সর্বোচ্চ পাঁচজন সমর্থক থাকতে পারবেন।
ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ভোটার বা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর সংগ্রহ করা যাবে না। একইভাবে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) বা অন্য কোনো লেনদেনের উদ্দেশ্য দেখিয়ে ভোটারদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিরা। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, চিফ হুইপ, হুইপ, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা ও বিরোধীদলীয় উপনেতা বা সমমর্যাদার ব্যক্তিরা রয়েছেন।
এ ছাড়া সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশনের মেয়র বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রশাসকরাও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।
প্রার্থী ছাড়া চেয়ারম্যান, মেয়র, প্রশাসক বা স্থানীয় সরকারের দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তিরও নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকছে না।
নতুন আচরণবিধিতে প্রচারণায় পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এআই ব্যবহার করে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার সুযোগ বন্ধ করতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
এ ছাড়া উপজেলা নির্বাচনের আচরণবিধিতে হেলিকপ্টার ব্যবহার এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের ওপরও বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে।
পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মূল বিধানগুলো প্রায় একই হলেও প্রচারসামগ্রী ও মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু পার্থক্য রাখা হয়েছে। যেমন, জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে এবং মাইক ব্যবহারের সুযোগ নেই। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলও করতে পারবে।
নতুন আচরণবিধির ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রচারণায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। প্রচলিত পোস্টার, মিছিল ও শোডাউনের বদলে ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন, সীমিত বিলবোর্ড এবং ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারণার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে প্রার্থীদের।