ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি, জানুয়ারিতে শুরুর সম্ভাবনা

ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি, জানুয়ারিতে শুরুর সম্ভাবনা

সংগৃহীত

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত সম্ভাব্য সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নভেম্বর-ডিসেম্বরে বিভিন্ন পরীক্ষা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি এবং অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে চলতি বছরের পরিবর্তে আগামী জানুয়ারি থেকে ইউপি নির্বাচন শুরু করার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করার বিষয়ে বৈঠকে সবাই একমত হয়েছেন। তবে ভোট শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে চার নির্বাচন কমিশনারসহ মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, শিক্ষা সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ইসি সাত ধাপে ইউপি নির্বাচনের একটি সম্ভাব্য সময়সূচি জানিয়েছিল। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপের ভোট ২৭ মে করার কথা বলা হয়েছিল। তবে ইসি তখনই জানিয়েছিল, এগুলো চূড়ান্ত সময়সূচি নয়; আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর বিভিন্ন পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।

নভেম্বর-ডিসেম্বরে পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগ

বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নভেম্বর ও ডিসেম্বরের ব্যস্ততার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা, বৃত্তি পরীক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রম থাকায় শিক্ষকরা ভোটগ্রহণের কাজে যুক্ত হলে শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে বলে জানানো হয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রম ও মূল্যায়নের কারণে শিক্ষকদের ব্যস্ততা থাকবে। ফলে এ সময়ে নির্বাচন আয়োজন করলে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও নভেম্বর-ডিসেম্বরে ব্যস্ততার কথা জানানো হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনি প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। জানুয়ারি থেকে নির্বাচন আয়োজন করা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য তা তুলনামূলক সুবিধাজনক হবে বলে মত দেওয়া হয়।

জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া যাবে

বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকায় সময়ের ব্যবধান খুব কম। জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া গেলেও এরপর রমজান ও বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা রয়েছে। ফলে এই সীমিত সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো কীভাবে আয়োজন করা যায়, সে বিষয়ে আরও সমন্বয় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আগের যে সময়সূচি বলা হয়েছিল, সেটি ছিল ‘টেন্টেটিভ শিডিউল’ বা সম্ভাব্য সময়সূচি। প্রাক্‌প্রস্তুতিমূলক সভার তথ্যের ভিত্তিতে সেটি তৈরি করা হয়েছিল এবং ১৭ সেপ্টেম্বরের আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর তা চূড়ান্ত করার কথা ছিল।

সানাউল্লাহ বলেন, বৈঠক থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করবে। এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় যে নভেম্বরেই নির্বাচন শুরু হবে কি না।

তিনি আরও বলেন, আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে—এ বিষয়ে বৈঠকে অংশ নেওয়া সবাই একমত হয়েছেন।

সময়সূচি নিয়ে এখনো কাজ করছে কমিশন

ইসি জানিয়েছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার দেওয়া তথ্যের পাশাপাশি বাজেট, জনবল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অন্যান্য প্রস্তুতি বিবেচনা করে চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।

এ বিষয়ে সানাউল্লাহ বলেন, কমিশন আগের পরিকল্পনা থেকে সরে যায়নি। ওই পরিকল্পনা ছিল প্রাথমিক। বৈঠক থেকে পাওয়া নতুন তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে কমিশন সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রগুলোর সিসি ক্যামেরার তথ্যও চেয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ-সংক্রান্ত তথ্য ইসি সচিবালয়ে পাঠাতে মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।