আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : বুধবার ৯ই সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৯ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলো।
চলতি বছরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রস্তুতি থাকলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা, ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা এবং সরকারের প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে শিগগিরই ভোট আয়োজন কঠিন হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাব্য সময় বিবেচনায় নিয়ে ভোটের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে রমজানের আগে প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি ইসিতে আলোচনায় রয়েছে।
তবে নির্বাচন কবে হবে, কয় ধাপে কোন নির্বাচন আগে হবে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে বিপুলসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনসহ নানা প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়।
বছরের শেষ দিকে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় স্কুল-কলেজকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারে জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে চলতি বছরের পরিবর্তে আগামী বছরের শুরুতে ভোট আয়োজনকে বাস্তবসম্মত মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলে বার্ষিক পরীক্ষার চাপও থাকবে না। এতে ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে প্রশাসনের ওপর চাপ কিছুটা কমবে। পাশাপাশি শীতকালীন আবহাওয়াও ভোট আয়োজনের জন্য তুলনামূলক অনুকূল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, নভেম্বরকে লক্ষ্য ধরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতেও নির্বাচন হতে পারে। এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন দিয়েই স্থানীয় সরকারের ভোট শুরু করার সিদ্ধান্ত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিভিন্ন স্তরে এবং বিপুলসংখ্যক এলাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় এর প্রস্তুতিও দীর্ঘমেয়াদি।
ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের জন্য পৃথক প্রস্তুতি নিতে হয়।
নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নিয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, নভেম্বর ভোটের উপযুক্ত সময় নয়। তবে শেষ পর্যন্ত ভোট জানুয়ারিতে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
তার মতে, জানুয়ারিতে শীতের সময় নির্বাচন হলে ভোটারদের অংশগ্রহণের পরিবেশও ভালো থাকবে। মফস্বলে শীতের সময় মানুষ ভোটকে কেন্দ্র করে প্রচারণা ও রাজনৈতিক আলোচনা উপভোগ করেন।
সাইফুল হক বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পাঁচ-ছয় ধাপে হতে পারে। এরপর পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। ফলে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে। আগামী বছরজুড়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তৎপরতা চলতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী জানিয়েছেন, বিএনপি এককভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবে। তবে দলীয় প্রতীক বা দল থেকে আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে প্রার্থী বাছাই ও চূড়ান্ত করা হবে এবং দল থেকে তাদের সমর্থন দেওয়া হবে। নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত ও শৃঙ্খলা কঠোরভাবে মানতে হবে। কেউ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিজভী আরও বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবেন বা পারবেন না, সেটি নির্বাচন কমিশন ও আদালতের বিষয়। প্রচলিত আইন ও নতুন প্রণীত আইন অনুযায়ী এ বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ও দলীয় মনোনয়ন না থাকায় বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোও নিজেদের প্রার্থীদের মাঠে নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসব দল নিজেদের যোগ্য প্রার্থীদের সমর্থন দিতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।
সাইফুল হক বলেন, যেসব এলাকায় শরিক দলগুলোর অবস্থান ভালো, সেখানে তারা বিএনপির সমর্থন চাইতে পারে। তবে কোনো জোটগতভাবে নির্বাচনে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই বলেও জানান তিনি।
গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরীও শীতকালে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তার মতে, নির্বাচন আয়োজনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসির আলোচনা করা প্রয়োজন। জনগণ যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে ভোট দিতে পারে, সে জন্য উপযুক্ত সময় নির্ধারণ জরুরি। শীতের মধ্যেই নির্বাচন শুরু করা ভালো হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।