স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুরের পর সালমান মুক্তাদির: ‘এটা বাংলাদেশ, যদি পারি চলে যাব’

স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুরের পর সালমান মুক্তাদির: ‘এটা বাংলাদেশ, যদি পারি চলে যাব’

ক্যাপশন নেই

রাজধানীর মিরপুরের ইসিবি চত্বরে নিজের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগের পর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির। ঘটনার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা বাংলাদেশ; এখানে আমার দোষ দেওয়ার কিছু নাই। যদি পারি বের হয়ে চলে যাব।’

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইসিবি চত্বর এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্টুডিওর কর্মকর্তাদের দাবি, হামলাকারীরা সেখানে থাকা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়।

সালমান মুক্তাদির জানান, এর আগে স্টুডিও থেকে চাঁদা চাওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছিলেন। তার ধারণা, চাঁদা না দেওয়ার কারণেই হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে কার কাছে কত টাকা চাওয়া হয়েছিল বা কেন তা দেওয়া হয়নি—সে বিষয়ে তিনি নিজে বিস্তারিত জানেন না বলেও জানান।

ঘটনার বিষয়ে গণমাধ্যমের সামনে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘আমাকে বলেছে যে চাঁদা দেয়নি, এই জন্য ঘটনাটি ঘটেছে। এখন চাঁদাতো আমার কাছে চায়নি। চাঁদা চাইলে আমি ডেফিনেটলি দিতাম। যদি আমার পোষাতো তখন আমি অবশ্যই দিতাম। তবে উনারা কেন দেয়নি, কত টাকা দেয়নি—এই ব্যাপারে আমার কোনো আইডিয়া নেই।’

তিনি বলেন, ‘এটা মাত্র পুলিশদের কাছ থেকে শুনলাম। বাহিরের লোকজনদের কাছ থেকে শুনলাম। বাট আই ডোন্ট কেয়ার। যে কারণেই হোক না কেন, হয়েছেতো; এটাই বাংলাদেশ।’

ঘটনার পর দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের আইনের ব্যাপারে আমি নাস্তিক।’

তবে হামলার ঘটনায় নিজের কাজ থামিয়ে দিতে চান না বলেও জানান সালমান মুক্তাদির। তার ভাষায়, ‘লাকিলি আমার পক্ষে এটা কপআপ করা সম্ভব। আমি সব সময় নিজের দমে কাজ করে আসছি। আর এই সেম জিনিসটা আমি করবো। তবে টেনশন হচ্ছে—আমার মতো মনোবল নিয়ে কয়জন আগাতে পারবে?’

ঘটনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘আমাদের যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন—তিনি এসব ভিডিও প্রায়ই দেখেন। উনাকে যদি কিছু বলা হয়, আমি জানি না উনি কতদূর স্বীকার করেন কি না। তবে উনার প্রতি আমার কোনো রাগ বা অভিযোগ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বা দেশের একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে উনার যা করার কথা—উনি ভালো করেই জানেন। আর উনি কতদূর করেছেন, এটা আমার বলা কিছু না। আপনারা আছেন, দেশবাসী আছে; তারাই বলতে পারে যে উনি কতটুকু ভালো কাজ করেছেন।’

ঘটনার পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন সালমান মুক্তাদির। অভিমানের সুরে তিনি বলেন, ‘এটা বাংলাদেশ; এখানে আমার দোষ দেওয়ার কিছু নাই। নতুন করে বলার কিছু নাই। আপনারা বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরতেছেন। বাংলাদেশ এ রকমই; এখানে জন্মেছি, এভাবেই জন্মাবো; যদি পারি বের হয়ে চলে যাব। যারা পারছে না তারা এখানে থেকে যাবে।’

স্টুডিওতে হামলা ও লুটের অভিযোগের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। হামলার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় কারা জড়িত—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।