দেশি কোচদের আরও সুযোগ দেওয়া উচিত: সুজন

দেশি কোচদের আরও সুযোগ দেওয়া উচিত: সুজন

বাংলাদেশের ক্রিকেটে দেশি কোচদের আরও বেশি সুযোগ দেওয়ার পক্ষে সাবেক ক্রিকেটার ও কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে দেশি কোচদের আরও বেশি সুযোগ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন সাবেক ক্রিকেটার ও কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন। তাঁর মতে, ক্রিকেট এমন কোনো জটিল বিজ্ঞান নয় যে শুধু বিদেশি কোচরাই ভালো শেখাতে পারবেন। বরং দীর্ঘমেয়াদে দলের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেলে দেশি কোচরাই ক্রিকেটারদের আরও কার্যকরভাবে গড়ে তুলতে পারবেন।

বাংলাদেশ দলের বিভিন্ন পর্যায়ে আশরাফুল, তালহা, সালাউদ্দিন, সোহেল ও বাবুলের মতো দেশি কোচদের কাজ করতে দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন সুজন। তাঁর মতে, বিভিন্ন স্তরে স্থানীয় কোচদের দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ আরও আগেই নেওয়া উচিত ছিল। হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) দলে সালাউদ্দিন দায়িত্ব নেওয়ায় জুনিয়র পর্যায়েও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন তিনি।

তবে বিদেশি কোচ পুরোপুরি বাদ দেওয়ার পক্ষে নন সুজন। দলের প্রয়োজন অনুযায়ী স্বল্পমেয়াদে বিশেষজ্ঞ পরামর্শক বা ব্যাটিং কোচ নিয়োগের পক্ষে তিনি। তবে শুধু বিদেশি হওয়ার কারণে কোনো কোচ বাড়তি যোগ্যতা রাখবেন— এমন ধারণার সঙ্গে একমত নন তিনি।

সুজন বলেন, গত কয়েক বছরে বিদেশি কোচদের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেটে কিছু উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে ফাস্ট বোলিং ও ব্যাটিংয়ে কয়েকজন বিদেশি কোচের অবদান উল্লেখযোগ্য। নিল ম্যাকেঞ্জির সময়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ভালো উন্নতি হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে স্থানীয় কোচরা সক্ষমতার দিক থেকে পিছিয়ে— এমন ধারণা মানতে নারাজ সুজন।

ক্রিকেটের মৌলিক বিষয় সব দেশেই একই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইনসুইং বোলিংয়ের ক্ষেত্রে গ্রিপ কেমন হবে কিংবা কীভাবে বল করতে হবে— এসব মৌলিক কৌশল একই। পার্থক্য মূলত বোঝানোর ভাষা ও পদ্ধতিতে। এই জায়গায় দেশি কোচরা অনেক সময় জুনিয়র ক্রিকেটারদের বিষয়গুলো আরও সহজভাবে বুঝিয়ে দিতে পারেন।

আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও বাংলাদেশি কোচরা ভালো করতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন সুজন। তাঁর মতে, দক্ষিণ আফ্রিকা ভিন্ন কোনো গ্রহ নয়; সেখানকার কন্ডিশন ও ক্রিকেটের ধরন সম্পর্কে বাংলাদেশের কোচদেরও যথেষ্ট ধারণা রয়েছে। বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের অন্যতম বড় সাফল্য—অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়—দক্ষিণ আফ্রিকাতেই হয়েছিল বলেও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

কোচিংয়ে দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্বের গুরুত্বও তুলে ধরেন সুজন। তাঁর মতে, বিদেশি কোচরা অনেক সময় নির্দিষ্ট সফর বা মেয়াদের জন্য দলের সঙ্গে কাজ করেন। সফর শেষে তারা চলে গেলে ক্রিকেটারদের নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করার সুযোগ কমে যায়। বিপরীতে স্থানীয় কোচরা সফর শেষ হওয়ার পরও খেলোয়াড়দের সঙ্গে থেকে নিয়মিত কাজ করতে পারেন।

জাতীয় দলের কোচিং কাঠামো নিয়েও নিজের মত দিয়েছেন সুজন। তাঁর মতে, বোলিং কোচ হিসেবে তালহা ও সোহেলের মতো স্থানীয় কোচদের আরও দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। ব্যাটিংয়ে আশরাফুল, ফাস্ট বোলিংয়ে তালহা এবং স্পিনে সোহেল—এভাবে দায়িত্ব ভাগ করে দিলে সহকারী কোচের সংখ্যা না বাড়িয়েও কার্যকর একটি কোচিং কাঠামো তৈরি করা সম্ভব।

তিনি মনে করেন, দলের মূল পরিকল্পনা প্রধান কোচ ও অধিনায়ক করবেন এবং সহকারী কোচদের দায়িত্বও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তাই বিদেশি কোচ নিয়োগের আগে দলের প্রকৃত প্রয়োজন চিহ্নিত করা উচিত।

সুজনের মতে, স্থানীয় কোচদের সক্ষমতা নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকলে সেখানে বিদেশি বিশেষজ্ঞ আনা যেতে পারে। তবে শুধু ‘বিদেশি’ হওয়ার কারণে কোচ নিয়োগ না করে দলের কোথায় কী ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন, সেটিই নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বিবেচনা হওয়া উচিত।