পাকিস্তানের কাছে হারের পর লিটনের ব্যাখ্যা, মুস্তাফিজকে নিয়ে প্রশ্নে পাল্টা জবাব

পাকিস্তানের কাছে হারের পর লিটনের ব্যাখ্যা, মুস্তাফিজকে নিয়ে প্রশ্নে পাল্টা জবাব

সংগৃহীত

এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটের সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে ফাইনালে ওঠার সুযোগ হারিয়েছে বাংলাদেশ। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচটি নেমে এসেছিল ১৩ ওভারে। বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ১১১ রান করার পর পাকিস্তান ১১.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য পেরিয়ে যায়। ফলে স্বর্ণ ও রৌপ্য—দুই পদকের লড়াই থেকে আপাতত ছিটকে গিয়ে এখন ব্রোঞ্জের ম্যাচ খেলতে হবে লিটন দাসের দলকে।

ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি অধিনায়ক লিটন দাসের কিছু সিদ্ধান্ত ও মন্তব্যও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে স্পিনবান্ধব কন্ডিশনে পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে দুই ওভার করানো এবং তাঁর ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্নের জবাবে লিটনের বক্তব্য নিয়ে তৈরি হয়েছে আলোচনা।

নাগোয়ার টানা বৃষ্টির কারণে মাঠের উইকেট কয়েক দিন ঢাকা ছিল। ম্যাচেও কন্ডিশন ছিল বোলারদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান—দুই দলই স্পিননির্ভর বোলিং আক্রমণ সাজায়। বাংলাদেশের হয়ে মুস্তাফিজ দুই ওভার বোলিং করে ৪১ রান দেন। অন্যদিকে রিশাদ হোসেন ২.৩ ওভারে ১২ রান দিয়ে একটি এবং মাহেদী হাসান ২ ওভারে ১৭ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন।

মুস্তাফিজ প্রথম ওভারে ১৮ রান দেওয়ার পরও কেন তাঁকে দ্বিতীয় ওভার দেওয়া হলো—ম্যাচ শেষে এমন প্রশ্ন করা হলে লিটন বলেন, ‘আজকে মুস্তাফিজ ৩ উইকেট পেলে আপনি এই প্রশ্ন করতেন না।’

মুস্তাফিজকে বোলিং করানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে অধিনায়ক আরও বলেন, তাঁর কাছে সেটিই ছিল সেরা বিকল্প। লিটনের ভাষায়, ‘আমার কাছে বেস্ট অপশন মুস্তাফিজ মনে হয়েছে, আমি করিয়েছি। আপনার কাছে যদি কখনও মনে হয় অন্য অপশন বেস্ট, আপনি করাবেন।’

ম্যাচের হিসাব অবশ্য বাংলাদেশের সিদ্ধান্তকে প্রশ্নের বাইরে রাখেনি। পাকিস্তান ১৩ ওভারের ইনিংসে তুলনামূলকভাবে পেসারদের কম ব্যবহার করে স্পিনারদের ওপর বেশি নির্ভর করে। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের ব্যাটাররা ১১২ রানের লক্ষ্য ৯ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায়।

মুস্তাফিজের ব্যর্থতা নিয়ে লিটনের ব্যাখ্যাও ছিল বাস্তবতার দিকটি তুলে ধরার। বাংলাদেশের অধিনায়ক বলেন, মুস্তাফিজ বহু বছর ধরে দলের অন্যতম সেরা বোলার। তবে ক্রিকেটে সব সময় একইভাবে পারফরম্যান্স আসে না এবং ওই দিন কন্ডিশন তাঁর জন্য উপযোগী ছিল না।

ব্যাট হাতেও অধিনায়ক নিজে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। পাকিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ৩ বলে ২ রান করে বোল্ড হন লিটন। সাইম আইয়ুবের বলে তাঁর ইনিংস শেষ হয়।

বাংলাদেশের ইনিংসে সবচেয়ে বড় অবদান আসে তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাট থেকে। তিনি ২৫ বলে ৪২ রান করেন। শুরুতে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশকে তিনি শেষ দিকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ১১১ রানের লক্ষ্য পাকিস্তানের জন্য শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট বড় হয়ে ওঠেনি।

নিজের ব্যাটিং ব্যর্থতার ব্যাখ্যায় লিটন অনুশীলনের ঘাটতির কথাও উল্লেখ করেন। বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় মাঠে অনুশীলনের সুযোগ না পাওয়া এবং টসে হেরে আগে ব্যাট করতে হওয়াকে তিনি দলের জন্য কঠিন পরিস্থিতি হিসেবে তুলে ধরেন।

লিটনের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় রুমে বসে থাকার পর সরাসরি ম্যাচে গিয়ে অসাধারণ ইনিংস খেলা সহজ নয়। একই সঙ্গে উইকেটও ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে এই ব্যাখ্যার সঙ্গে ম্যাচের বাস্তবতাও আলোচনায় এসেছে। বৃষ্টির কারণে শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো টুর্নামেন্টের সূচিতেই বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালের চারটি ম্যাচই বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত ও শ্রীলঙ্কা উচ্চতর র‌্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়।

বাংলাদেশের জন্য এবারের এশিয়ান গেমসে প্রত্যাশাও ছিল বেশি। ২০১০ সালে পুরুষ ক্রিকেটে স্বর্ণ জেতার পর ২০১৪ সালে রৌপ্য এবং ২০২২ এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ পেয়েছিল বাংলাদেশ। এবার তুলনামূলক পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে আসায় পদকের রং বদলানোর প্রত্যাশা ছিল।

সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে হার সেই প্রত্যাশায় ধাক্কা দিয়েছে। ম্যাচের আগে বাংলাদেশ ফাইনালে খেলার লক্ষ্য নিয়েই এসেছিল বলে জানিয়েছিলেন লিটন। কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। ম্যাচ শেষে এ বিষয়ে তাঁর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য, ‘স্বাভাবিক বিষয়, যখন দেশ ছাড়ি বলছিলাম যে আমরা ফাইনাল খেলতে চাই। সো ওই জায়গাটা আমরা যেতে পারিনি।’

এখন বাংলাদেশের সামনে ব্রোঞ্জ পদকের লড়াই। সেমিফাইনালের পর দলের সামনে নতুন করে নিজেদের সামলে নেওয়ার সুযোগ থাকলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের বোলিং সিদ্ধান্ত, ব্যাটিং ব্যর্থতা এবং অধিনায়কের ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা চলবে।