আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : বৃহস্পতিবার ৩রা সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৯ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
মহাকাশে নাসার নতুন টেলিস্কোপ, উন্মোচন করবে মহাবিশ্বের অজানা রহস্য
মহাকাশের অজানা রহস্য উন্মোচনে নতুন মিশনে নেমেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। মহাকাশে পাঠানো হয়েছে ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ’। গত ৩০ আগস্ট ফ্লোরিডার কেপ কানাভেরালের নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন হেভি রকেটে করে টেলিস্কোপটি উৎক্ষেপণ করা হয়।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, মহাবিশ্বের অন্যতম বড় রহস্য ডার্ক এনার্জি বা অন্ধকার শক্তি সম্পর্কে গবেষণা করবে রোমান স্পেস টেলিস্কোপ। পাশাপাশি সৌরজগতের বাইরের গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেট শনাক্ত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এটি।
টেলিস্কোপটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১০ লাখ মাইল বা ১৬ লাখ কিলোমিটার দূরে চাঁদের বাইরের কক্ষপথের ‘ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট-২’ নামের একটি স্থানে অবস্থান করবে। প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা হয়েছে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ।
রোমান স্পেস টেলিস্কোপের জ্যেষ্ঠ প্রকল্প বিজ্ঞানী জুলি ম্যাকেনারি জানান, এই টেলিস্কোপ মহাকাশ গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। দ্রুতগতিতে মহাকাশ জরিপ করতে সক্ষম হবে এটি।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, টেলিস্কোপটির প্রযুক্তির একটি বিশেষ দিক হলো এর ব্যাপক জরিপ সক্ষমতা। পুরো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি জরিপ করতে হাবল স্পেস টেলিস্কোপের প্রায় এক শতাব্দী সময় লাগলেও রোমান স্পেস টেলিস্কোপ একই ধরনের কাজ মাত্র এক মাসে করতে পারবে।
জানা গেছে, টেলিস্কোপটির প্রযুক্তি তৈরির সঙ্গে একটি পুরোনো গুপ্তচর স্যাটেলাইট কর্মসূচিরও যোগসূত্র রয়েছে। তবে বর্তমানে এর মূল লক্ষ্য মহাবিশ্বের বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও মহাকাশের বিভিন্ন রহস্য অনুসন্ধান।
রোমান স্পেস টেলিস্কোপের প্রকল্প ব্যবস্থাপক জ্যাকি টাউনসেন্ড জানান, উৎক্ষেপণের পর প্রায় ৯০ দিন টেলিস্কোপটি চালু ও বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুত করার কাজ চলবে। শীতকালীন ছুটির আগেই টেলিস্কোপটি প্রথম উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি পাঠাবে বলে আশা করছে নাসা।
নাসার পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোমান স্পেস টেলিস্কোপ মহাবিশ্বের অন্যতম নিখুঁত ত্রিমাত্রিক বা থ্রিডি মানচিত্র তৈরি করবে। এর মূল জরিপ শেষ হতে এক বছরের বেশি সময় লাগতে পারে। এই জরিপে ২০০ কোটিরও বেশি গ্যালাক্সির তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, মহাবিশ্বের প্রায় ২৭ শতাংশ ডার্ক ম্যাটার বা অন্ধকার পদার্থ এবং প্রায় ৬৮ শতাংশ ডার্ক এনার্জি দিয়ে গঠিত। ডার্ক ম্যাটারের মহাকর্ষীয় আকর্ষণ এবং ডার্ক এনার্জির মহাজাগতিক বিকর্ষণ পরিমাপের মাধ্যমে মহাবিশ্বের গঠন ও বিবর্তন সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
পাশাপাশি নতুন এক্সোপ্ল্যানেট বা সৌরজগতের বাইরের গ্রহ আবিষ্কারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে টেলিস্কোপটি। বিজ্ঞানীদের আশা, রোমান স্পেস টেলিস্কোপের সংগৃহীত তথ্য মহাবিশ্বের বহু অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে সহায়তা করবে।