আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : সোমবার ২৮শে সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
সংগৃহীত
জাপানে প্রায় ৩০ বছর আগে আবিষ্কৃত একটি ডাইনোসরের জীবাশ্ম নতুন করে বিশ্লেষণ করে সেটিকে নতুন প্রজাতির বর্মযুক্ত ডাইনোসর হিসেবে শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। ‘নিপ্পনোপেল্টা ইজোয়েন্সিস’ নামের এই ডাইনোসরের জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করে প্রাচীনকালে ডাইনোসরদের এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে স্থানান্তরের বিষয়ে নতুন তথ্য পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
গবেষণার ফলাফল ‘ক্রেটাশাস রিসার্চ’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
নতুন প্রজাতিটির নাম ‘নিপ্পনোপেল্টা ইজোয়েন্সিস’। ‘নিপ্পন’ শব্দের অর্থ জাপান, ‘পেল্টা’ অর্থ ঢাল এবং ‘ইজো’ হলো জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপের ঐতিহ্যবাহী নাম।
১৯৯৫ সালে জাপানের উত্তরাঞ্চলের হোক্কাইডো দ্বীপের সামুদ্রিক পলিমাটি থেকে ডাইনোসরটির জীবাশ্ম উদ্ধার করা হয়। পরে গবেষকেরা কম্পিউটেড টমোগ্রাফি (সিটি) স্ক্যান প্রযুক্তির মাধ্যমে জীবাশ্মটির খুলির পেছনের অংশ, চোয়াল ও দাঁত বিশ্লেষণ করেন।
গবেষকদের মতে, জীবাশ্মটির বয়স প্রায় ৯ কোটি ৩০ লাখ থেকে ১০ কোটি বছর। এটি নোডাসরিড পরিবারের ডাইনোসর, যাদের শরীর হাড়ের তৈরি বর্ম বা প্লেট দিয়ে আবৃত থাকত।
গবেষক ভিক্টোরিয়া আরবুর বলেন, নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে পুরোনো জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করায় প্রাচীন ইতিহাসের অনেক অজানা তথ্য সামনে আসছে।
উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে নোডাসরিড ডাইনোসরের জীবাশ্ম তুলনামূলকভাবে বেশি পাওয়া গেলেও এশিয়ায় এ ধরনের জীবাশ্ম অত্যন্ত বিরল। নতুন আবিষ্কৃত প্রজাতিটির শারীরিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে উত্তর আমেরিকার নোডাসরিডদের মিল থাকায় গবেষকেরা ডাইনোসরের প্রাচীন অভিবাসন নিয়ে নতুন ধারণা পেয়েছেন।
গবেষকদের ধারণা, এই ডাইনোসরের পূর্বপুরুষেরা প্রায় ১০ থেকে ১১ কোটি বছর আগে উত্তর আমেরিকা থেকে এশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিল। সে সময় বর্তমান আলাস্কা ও রাশিয়ার মধ্যবর্তী অঞ্চলে থাকা বেরিং ল্যান্ড ব্রিজ দুই মহাদেশকে স্থলপথে যুক্ত করেছিল।
ক্যালগারি ইউনিভার্সিটির ডাইনোসর প্যালিওবায়োলজিস্ট ডারলা জেলেনিতস্কির মতে, নোডাসরিডরা উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাস করত। ফলে তাদের জন্য ওই সময়ের স্থলপথ ধরে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে।
ডাইনোসরটির জীবাশ্ম সামুদ্রিক পলিমাটি থেকে উদ্ধার হওয়ায় গবেষকেরা ধারণা করছেন, মৃত্যুর পর এর দেহ কোনো নদীতে ভেসে সমুদ্রে গিয়ে পৌঁছেছিল। পরে সামুদ্রিক পলিমাটির নিচে চাপা পড়ে জীবাশ্মটি সংরক্ষিত হয়।
নোডাসরিড ডাইনোসর সাধারণত চার পায়ে চলাফেরা করত এবং উদ্ভিদ খেয়ে জীবন ধারণ করত। তারা উপকূলীয় এলাকায় বসবাস করত বলে ধারণা করা হয়।
কানাডার মিউজিয়াম অব নেচারের জীবাশ্মবিদ জর্ডান ম্যালন বলেন, জীবাশ্মের রেকর্ড অনেক সময় অসম্পূর্ণ থাকে। উঁচু ভূমিতে ক্ষয়ক্ষতির কারণে সেখানে জীবাশ্ম সহজে সংরক্ষিত হয় না। এশিয়ায় নোডাসরিডের জীবাশ্ম কম পাওয়ার কারণ পাথরের রেকর্ডের সীমাবদ্ধতা কিংবা ওই অঞ্চলে ডাইনোসরের কম বৈচিত্র্য—দুই কারণের যেকোনোটি হতে পারে।
গবেষকেরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে আরও খনন ও গবেষণার মাধ্যমে ‘নিপ্পনোপেল্টা ইজোয়েন্সিস’সহ এশিয়ায় বসবাসকারী প্রাচীন ডাইনোসরদের বিবর্তন ও বিস্তারের ইতিহাস সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে।