আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : বুধবার ৩০শে সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
সংগৃহীত
মঙ্গল গ্রহের জটিল জলবায়ু ও ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের নতুন তথ্য উন্মোচন করেছেন বিজ্ঞানীরা। নাসার পারসিভারেন্স রোভারের পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলের জেজেরো ক্রেটারে একটি নির্দিষ্ট প্রাচীন হ্রদের পাশাপাশি একাধিক পানিপ্রবাহের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, জেজেরো ক্রেটারের ‘মার্জিন ইউনিট’ নামে পরিচিত অঞ্চলটি কোনো একক প্রাচীন হ্রদের পানিপ্রবাহে তৈরি হয়নি।
সম্প্রতি গবেষণাটি ‘কমিউনিকেশন্স আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
এর আগে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, জেজেরো ক্রেটারের মার্জিন ইউনিটে পাললিক শিলা থাকতে পারে। তবে পারসিভারেন্সের পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ওই অঞ্চলের বেশিরভাগ শিলা মূলত আগ্নেয় বা ইগনিয়াস প্রকৃতির এবং অলিভিনে সমৃদ্ধ।
গবেষণার বিষয়ে পারডু ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী ক্যান্ডিস বেডফোর্ড জানান, এসব শিলা মূলত মাটির গভীরে ম্যাগমা ঠান্ডা হয়ে তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে ক্ষয়প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেগুলো ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি উঠে আসে।
শিলাগুলোর ভেতরের খনিজ স্ফটিক বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন, পরবর্তী সময়ে অন্তত তিনটি পৃথক ধাপে পানির সঙ্গে এসব শিলার রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটেছে।
গবেষণা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ ভূগর্ভস্থ পানি অলিভিনসমৃদ্ধ শিলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। এর ফলে শিলার ফাটলগুলোতে কার্বনেট তৈরি হয়।
দ্বিতীয় ধাপে জেজেরো ক্রেটারের প্রাচীন হ্রদের পানি অথবা পরিবর্তনশীল ভূগর্ভস্থ পানির প্রভাবে শিলাগুলোর রূপান্তর ঘটে। এ সময় সেখানে সিলিকা জমা হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
হাওয়াই ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী এলেনি রাভানিস বলেন, অলিভিন রূপান্তরিত হয়ে কার্বনেট তৈরির সময় সিলিকা অবশিষ্ট হিসেবে থেকে যায়। এরপর তৃতীয় ও শেষ ধাপে আগ্নেয় শিলার মধ্য দিয়ে উষ্ণ তরল বা হাইড্রোথার্মাল তরল প্রবাহিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।
এই প্রক্রিয়ায় ক্যালসিয়াম সালফেট ও ফ্লোরাইটের খনিজ শিরা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ফ্লোরাইটের উপস্থিতি ওই অঞ্চলে একসময় উত্তপ্ত ভূগর্ভস্থ তরল বা হাইড্রোথার্মাল কার্যকলাপ সক্রিয় থাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করছেন বিজ্ঞানীরা।
গবেষণায় পারসিভারেন্স রোভারের মাস্তুলে থাকা সুপারক্যাম যন্ত্রের সাহায্যে মার্জিন ইউনিটের ১৮৫টির বেশি শিলা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, নতুন আবিষ্কার মঙ্গল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের সরাসরি প্রমাণ নয়। তবে অতীতে সেখানে এমন একটি ভূতাত্ত্বিক পরিবেশ ছিল, যা অণুজীবের বেঁচে থাকার জন্য অনুকূল হতে পারে। একাধিক পর্যায়ে পানির প্রবাহের প্রমাণ মঙ্গলের প্রাচীন পরিবেশ ও জলবায়ুর বিবর্তন সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের ধারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।