আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : শুক্রবার ৪ঠা সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৯ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
স্টিয়ারিং- ব্রেক ছাড়াই রাস্তায় টেসলার ‘সাইবারক্যাব’
কোনো স্টিয়ারিং হুইল বা ব্রেক প্যাডেল ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলবে টেসলার নতুন ‘সাইবারক্যাব’। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিন শহরের রাস্তায় পরীক্ষামূলকভাবে কয়েক ডজন চালকবিহীন এই গাড়ি নামিয়েছে মার্কিন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা।
টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্কের নেতৃত্বে চালু হওয়া এই সাইবারক্যাবকে ভবিষ্যতের স্বয়ংক্রিয় পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লঞ্চের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে টেসলা জানায়, ‘কোনো স্টিয়ারিং হুইল নেই, কোনো প্যাডেল নেই।’ এরপর অস্টিনের রাস্তায় সাইবারক্যাবের চলাচল শুরু হয়। লঞ্চ উপলক্ষে আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।
মাস্কের লক্ষ্য, চালকবিহীন গাড়ি নিয়ে মানুষের ভয় ও অনিশ্চয়তা কমিয়ে এ ধরনের পরিবহনকে জনপ্রিয় করে তোলা। টেসলার গাড়ি বিক্রিতে সাম্প্রতিক সময়ে ধীরগতি দেখা দেওয়ার মধ্যে নতুন এই প্রযুক্তিকে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চালকবিহীন ট্যাক্সি বা রোবোট্যাক্সির সংখ্যা এবং সম্পন্ন করা যাত্রার দিক থেকে টেসলার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েমো অনেক এগিয়ে রয়েছে।
টেসলার সিস্টেম মূলত ক্যামেরাভিত্তিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে ওয়েমো ও অ্যামাজনের জুক্সের মতো প্রতিষ্ঠান ক্যামেরার পাশাপাশি রাডার ও লিডার প্রযুক্তিও ব্যবহার করছে।
রোবোট্যাক্সিট্র্যাকার-এর তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাস ও ফ্লোরিডার কয়েকটি শহরে টেসলার ২০০টির বেশি চালকবিহীন রোবোট্যাক্সি রয়েছে। বিপরীতে ১৪টি শহরে ওয়েমোর এমন যানবাহনের সংখ্যা ৪ হাজারের বেশি।
চালকবিহীন গাড়ি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের মধ্যে এখনো যথেষ্ট উদ্বেগ রয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে প্রায় ৭ জনই চালকবিহীন গাড়িতে চড়ার বিষয়ে স্বস্তিবোধ করেন না।
জরিপে ১৬ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তারা চালকবিহীন গাড়িতে চড়তে কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। মাত্র ৭ শতাংশ বলেছেন, তারা এতে খুবই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন।
চালকবিহীন প্রযুক্তি নিয়ে টেসলাকে এখনো বেশ কিছু নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো টেসলার স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং সফটওয়্যার নিয়ে একাধিক তদন্ত করছে।
কুয়াশা, অতিরিক্ত সূর্যের আলো কিংবা কম দৃশ্যমানতার পরিস্থিতিতে কয়েকটি দুর্ঘটনায় সফটওয়্যারের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিছু ঘটনায় পথচারী নিহত হওয়ার বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এ ছাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলা টেসলা গাড়ির ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা কিংবা ভুল পথে চলার অভিযোগও তদন্ত করা হচ্ছে।
এর আগে অস্টিনে টেসলার রোবোট্যাক্সি পরিষেবা চালু হলেও সেসব গাড়িতে স্টিয়ারিং হুইল ও ব্রেক প্যাডেল ছিল। নতুন সাইবারক্যাবে সেই প্রচলিত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও রাখা হয়নি।
মাস্কের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে লাখ লাখ টেসলা গাড়িকে স্বয়ংক্রিয় ট্যাক্সিতে রূপান্তর করা হতে পারে। গাড়ির মালিকরা নিজেদের গাড়ি ব্যবহার না করলে সেগুলো রোবোট্যাক্সি হিসেবে ভাড়ায় চালাতে পারবেন।
তবে এই প্রযুক্তিকে ব্যাপকভাবে ব্যবহারের আগে নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রক অনুমোদন এবং মানুষের আস্থা—এই তিনটি বিষয়েই টেসলাকে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।