আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : রবিবার ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৯ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ভোলার চরফ্যাশনের ছাত্রনেতা সোহেল মাল।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম, হামলা-মামলা ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের ছাত্রনেতা সোহেল মাল। নিজের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন ত্যাগ ও নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, দলের সুসময়ে এসে ত্যাগী কর্মীদের অবদান কেন প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে সোহেল মাল দাবি করেন, ছোটবেলা থেকেই আদর্শ নিয়ে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কারণে চরফ্যাশনের জাহানপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিভিন্ন সময়ে হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
সোহেল মালের ভাষ্য, মিছিল-সমাবেশে যাওয়ার পথে একাধিকবার হামলার শিকার হয়ে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এমনকি একপর্যায়ে একটি দোকান থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলেও স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক দুঃসময় পেরিয়ে দল যখন সুসময় দেখছে, তখন কিছু সুবিধাবাদী ব্যক্তি ত্যাগী কর্মীদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এমনকি রাজপথের কর্মীদের ‘জামায়াত’ বা অন্য দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তকমা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
স্ট্যাটাসে সোহেল মাল প্রশ্ন রাখেন, দুঃসময়ে হামলা-মামলা ও ভয়ভীতির মধ্যেও যারা রাজপথে ছিলেন, তাদের সেই সময়ের কর্মকাণ্ডকে রাজনীতি হিসেবে বিবেচনা করা হবে না কেন।
তিনি বলেন, রাজনীতি শুধু সুসময়ের মিছিল-মিটিং কিংবা পদ-পদবির বিষয় নয়; বরং দুঃসময়ে আদর্শের সঙ্গে থাকাই একজন রাজনৈতিক কর্মীর প্রকৃত পরীক্ষা।
সোহেল মাল আরও লিখেছেন, দুঃসময়ে যারা দলের সঙ্গে থেকেছেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন এবং নিজেদের বিশ্বাস থেকে সরে যাননি, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে অতীতের ত্যাগ ও ভূমিকা বিবেচনা করা উচিত।
তার ভাষায়, কিছু ত্যাগ মুখে প্রকাশ করা যায় না এবং কিছু কষ্ট অন্যকে দেখানোও সম্ভব নয়। তবে সুবিধাবাদীদের নানা অভিযোগের কারণে রাজপথের ত্যাগী কর্মীদের ইতিহাস মুছে ফেলা যাবে না।