আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : শুক্রবার ১১ই সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনা আমলের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার
চুক্তিগুলোর কোনগুলো দেশের স্বার্থবিরোধী, তা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানালেন চিফ হুইপ
ভারতের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার। এসব চুক্তির মধ্যে দেশের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বা অনৈতিক কোনো চুক্তি রয়েছে কি না, তা যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপের ভাষ্য, বর্তমান সরকার আগের সরকারের করা বিভিন্ন চুক্তি ও সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করছে। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব থাকবে, তবে সেই বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরে বাংলাদেশি ও কোনো বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের দুটি জাহাজ একসঙ্গে এলে বিদেশি জাহাজকে অগ্রাধিকার দিয়ে খালাস করার মতো ব্যবস্থা দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার অভিযোগ, আগের সরকারের সময়ে এ ধরনের আরও বিভিন্ন চুক্তি করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেসব চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।
শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনার প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, চুক্তিগুলোর বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তবে কোন ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে, এর মধ্যে কতটি বাতিল, সংশোধন বা বহাল রাখার প্রয়োজন হতে পারে—এ বিষয়ে অনুষ্ঠানে বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।
সরকারের অবস্থান তুলে ধরে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করেই অন্যান্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা হবে।
ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলেও অভিযোগ করেন চিফ হুইপ।
স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ না জানানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বিষয়টিকে বাংলাদেশের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের ঘাটতি হিসেবে তুলে ধরেন।
তবে ব্রিকস সম্মেলনের আমন্ত্রণসংক্রান্ত বক্তব্যের বিষয়ে আয়োজনে বিস্তারিত কোনো তথ্য তুলে ধরা হয়নি।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বিপরীতে গত পাঁচ মাসে ২০৫ কোটি ডলার ঋণ ও সুদ পরিশোধ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় কমাতে সরকার কৃচ্ছ্রসাধনের নীতি গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।
এ ক্ষেত্রে সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে রসিদ নিশ্চিত করা, মন্ত্রী-এমপিদের সাধারণ জীবনযাপনে উৎসাহিত করা এবং সরকারি প্রটোকল কমানোর মতো বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারি খাবারের ব্যয় নিয়েও কথা বলেন চিফ হুইপ। তার দাবি, আগের সময়ে সরকারি পর্যায়ে বছরে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা খাবারের বিল হতো।
রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর অংশ হিসেবে এ ধরনের ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিদ্যুৎ খাত নিয়েও আগের সরকারের নীতির সমালোচনা করেন নুরুল ইসলাম মনি।
তিনি বলেন, একটি ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সাধারণত দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগতে পারে। অথচ আগের সরকার বিদ্যুৎ খাতে এমন কিছু চুক্তি করেছে, যার কারণে দেশের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আদানি গ্রুপের সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে চিফ হুইপ দাবি করেন, ওই চুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাংলাদেশের বৈদেশিক নির্ভরতা বেড়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ না পেলেও বড় অঙ্কের ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চুক্তির শর্ত, অর্থ পরিশোধের হিসাব এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
বিদ্যুৎ খাতে দায়মুক্তি-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল এবং বিদ্যুতের দাম নির্ধারণের আগের ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়েও সমালোচনা করেন চিফ হুইপ।
তার বক্তব্যে উঠে আসে, বিদ্যুৎ খাতের চুক্তি ও নীতিগত সিদ্ধান্তগুলোতেও বর্তমান সরকার দেশের স্বার্থ, আর্থিক দায় এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিতে চায়।
অনুষ্ঠানে দেশের অর্থনীতি ও প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন নুরুল ইসলাম মনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে স্বাবলম্বী ও শক্তিশালী অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নিতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
ভারতের সঙ্গে আগের সরকারের করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনার বিষয়টি সামনে আসায় এখন নজর থাকবে—কোন কোন চুক্তি পুনর্বিবেচনার আওতায় আসে, সেগুলোর কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন এবং শেষ পর্যন্ত সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয় তার ওপর।