আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : সোমবার ১৪ই সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৯ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
সংগৃহীত
মেট্রোরেল প্রকল্পের এমআরটি লাইন-৫-এর নির্মাণকাজ নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীর গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের দীপবরনপুর এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে টার্মিনালটি নতুন জায়গায় স্থানান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত জায়গার জমি হস্তান্তর নিয়ে জটিলতা কাটাতে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আয়োজনে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার পাশাপাশি টার্মিনাল স্থানান্তরের পরবর্তী কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হবে।
ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মসিউর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
ডিটিসিএ সূত্র জানায়, এমআরটি লাইন-৫-এর নর্দার্ন রুট এবং প্রস্তাবিত সাউদার্ন রুটের নির্মাণকাজের কারণে গাবতলী বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের লক্ষ্যে ডিটিসিএ কার্যালয়ে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন মোহাম্মদ মসিউর রহমান।
সভায় রাজউক, বিআরটিসি, ডিএমপি, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি), ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল), ডেসকো, তিতাস গ্যাস এবং ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়সহ প্রায় ৩৫টি সরকারি ও সেবা সংস্থার প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত থাকবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাভারের দীপবরনপুরে প্রস্তাবিত জায়গার অংশবিশেষ গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন। এসব জমি ডিএনসিসির কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ হলে সিটি করপোরেশন জায়গাটি ভরাট ও উঁচু করে টার্মিনাল ব্যবহারের উপযোগী করবে।
এরপর গাবতলীর আন্তঃজেলা বাসগুলো পর্যায়ক্রমে নতুন জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হবে।
ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান বলেন, মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-৫-এর ডিপো এবং প্রয়োজনীয় মালামাল রাখার জায়গা হিসেবে গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকার একটি অংশ ব্যবহারের প্রয়োজন হবে। এ কারণেই টার্মিনালটি সাময়িকভাবে সাভারের দীপবরনপুরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত জায়গাটি গণপূর্ত অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন। সমন্বয় সভায় জমিগুলো সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে। জায়গা প্রস্তুত হওয়ার পর সেখানে বাস চলাচল শুরু হবে। ডিসেম্বরের মধ্যেই স্থানান্তর প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় গাবতলী বাস টার্মিনাল স্থানান্তরে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত হয়। ওই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতেই ডিটিসিএ বিশেষ সমন্বয় সভার আয়োজন করেছে।
এদিকে টার্মিনাল স্থানান্তরের উদ্যোগে পরিবহন নেতাদের অসহযোগিতা ও ধীরগতির অভিযোগও রয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন এলাকার রাজনৈতিক ও পরিবহন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তদবিরের কারণে টার্মিনাল স্থানান্তরের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তাদের দাবি, এ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে সমঝোতা ও তদবির চলছে। এর পেছনে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।
মালিক সমিতির নেতারা আরও অভিযোগ করেন, সাবেক পরিবহন নেতা খন্দকার এনায়েত উল্লাহ এবং মহাখালী বাস টার্মিনালকেন্দ্রিক কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি টার্মিনাল স্থানান্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ বিষয়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট সাদিকুর রহমান হিরুর সম্পৃক্ততারও অভিযোগ করেন তারা।
পরিবহন নেতাদের দাবি, গত বৃহস্পতিবার পূর্বঘোষণা ছাড়াই মহাখালীতে সড়ক অবরোধের ঘটনাটিও সরকারকে বিব্রত করার অংশ। এর মাধ্যমে টার্মিনাল স্থানান্তরের সরকারি উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে বলে তারা দাবি করেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরিবহন নেতাদের অসহযোগিতার বিষয়ে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান বলেন, মালিক সমিতি সরাসরি স্থানান্তরের বিরোধিতা না করলেও তাদের কার্যক্রমে ধীরগতি রয়েছে। তবে মহাখালী কিংবা গাবতলী—যেখানেই অভ্যন্তরীণ প্রতিবন্ধকতা থাকুক, জনস্বার্থে সরকার নির্ধারিত মেগা প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে টার্মিনাল স্থানান্তরের প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করা হবে।