আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : শুক্রবার ১১ই সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ বিএনপি নেতার
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মান্নান হোসেন শাহীনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা শাহীন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে আসছেন। এ কারণে একটি পক্ষ তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে।
মান্নান হোসেন শাহীন বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়ে যায়। ওই সময় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন মহল্লায় পাহারার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে এলাকাবাসীকে সম্পৃক্ত করতে মাইকিংও করা হয়।
তার দাবি, এর জের ধরে ২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর চাঁদ উদ্যানের ২ নম্বর রোডের শাপলা ভবনের নিচতলায় বাড়িমালিক কল্যাণ সমিতির কার্যালয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
শাহীন বলেন, হামলায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয় এবং তার হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি দীর্ঘ সময় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলেও দাবি করেন। সব মিলিয়ে প্রায় সাত মাস হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি বাসায় ফেরেন।
শাহীন জানান, শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ না হলেও রাজনীতির প্রতি নিজের অবস্থান থেকে তিনি আবারও মাঠে সক্রিয় হন। আসন্ন নির্বাচনে মোহাম্মদপুরের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, স্থানীয় চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াই তার জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, ওয়ার্ডের কোথাও চাঁদা আদায়ের খবর পেলে নিজের নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকলেও তিনি সেখানে গিয়ে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সর্বশেষ ৪ সেপ্টেম্বরের একটি ঘটনার বিবরণও দেন বিএনপি নেতা শাহীন।
তার দাবি, ওই দিন বিকেলে চাঁদ উদ্যানের ৬ নম্বর রোডে সুয়ারেজ লাইনের কাজকে কেন্দ্র করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হচ্ছে—এমন খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে মো. নান্নু, নুরুল ইসলাম, হান্নান ও সেন্টুসহ ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
শাহীন অভিযোগ করেন, চাঁদা দেওয়ার বিরোধিতা করায় তার ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা জিসান আহমেদ তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার ডান হাতে গুরুতর আঘাত লাগে।
এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।
শাহীন আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত একটি পক্ষ ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তার বিরুদ্ধেই চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তার দাবি, কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব হুমকির কারণে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। অতীতে একবার প্রাণঘাতী হামলা থেকে বেঁচে ফেরার পর আবারও হামলার আশঙ্কা করছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন মান্নান হোসেন শাহীন।
তিনি বলেন, চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে যদি তার ওপর হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তবে সংবাদ সম্মেলনে যাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।