সবুজবাগে তরুণীর বাসায় কাতারপ্রবাসী যুবককে কুপিয়ে হত্যা

সবুজবাগে তরুণীর বাসায় কাতারপ্রবাসী যুবককে কুপিয়ে হত্যা

রাজধানীর সবুজবাগে ছুরিকাঘাতে কাতারপ্রবাসী যুবক সিফাত উল্লাহ নিহত হয়েছেন।

রাজধানীর সবুজবাগে এক তরুণীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে সিফাত উল্লাহ (৩০) নামে এক কাতারপ্রবাসী যুবক ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই যুবক আহত হয়েছেন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সবুজবাগের আদর্শপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সিফাত উল্লাহর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সবুজবাগ থানাকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান।

তরুণীর বাসায় ঢুকে হামলার অভিযোগ

সিফাত যে তরুণীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন, তার ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেলে সিফাত তার বাসায় দেখা করতে আসেন। এ সময় ওই এলাকার জয়, রাজিব, ইয়াসিনসহ ৬-৭ জন বাসায় ঢুকে সিফাতকে জোরপূর্বক ধরে টেনেহিঁচড়ে নিচে নামানোর চেষ্টা করেন।

এ নিয়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা সিফাতকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করেন বলে অভিযোগ করেন ওই তরুণী। এ সময় হামলাকারীদের মধ্যে রাজিব ও ইয়াসিন নামের দুজনও আহত হন।

গুরুতর আহত সিফাতকে প্রথমে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারে (ওসেক) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়। আহত দুই যুবকও ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন।

‘অনৈতিক কাজের খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছিলাম’

আহত রাজিব ওরফে রাব্বির দাবি, বড়ইতলার ওই বাসায় অনৈতিক কাজ চলছিল—এমন খবর পেয়ে তারা সেখানে যান।

তিনি বলেন, ‘ওই বাসায় গেলে এক যুবক আমাদের ওপর তেড়ে আসে। আমরা এগিয়ে গেলে সে ছুরিকাঘাত করে। সেখানে ধস্তাধস্তি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে আমরা আহত হই।’

সম্পর্ক ও বিয়ের বিষয় নিয়ে বিরোধের দাবি

ওই তরুণীর দাবি, ধোলাইপাড়ের বাসিন্দা সিফাতের সঙ্গে তার প্রায় দুই বছর ধরে সম্পর্ক ছিল। সামনে তাদের বিয়ে হওয়ার কথাও চলছিল। এ বিষয়কে কেন্দ্র করেই হামলাকারীদের সঙ্গে সিফাতের বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে দাবি করেন তিনি।

নিহতের বন্ধু হাসান জানান, সিফাত উল্লাহর বাড়ি রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় এলাকায়। তার বাবার নাম জয়নাল আবেদীন। কাতারে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সিফাত। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ছোট।

ঘটনার বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।