আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : বুধবার ৯ই সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
সংগৃহীত
ফরিদপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেকেন্দার মল্লিক (৫৫) নামে আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৪ জন ডেঙ্গু রোগী জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রকাশিত প্রেস নোটে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেকেন্দার মল্লিকের মৃত্যু হয়। তিনি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।
মৃত সেকেন্দার মল্লিকের বয়স ৫৫ বছর। তার বাড়ি মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ২৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চলতি বছরের শুরু থেকে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ফরিদপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৩৪৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ২৮২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানি ও এডিস মশার প্রজননস্থল বাড়ার সঙ্গে ডেঙ্গুর সংক্রমণও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলার বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রেন ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার ওপর নির্ভর না করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে তিন দিনের বেশি সময় কোনো পাত্রে পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার বংশবিস্তার হতে পারে। তাই নিয়মিতভাবে বাড়ির আশপাশ পরিদর্শন করে জমে থাকা পানি অপসারণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গুর প্রধান উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, দুর্বলতা এবং বমি বমি ভাব। অনেক ক্ষেত্রে জ্বর কমে যাওয়ার পরও রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে। তাই জ্বর কমে গেলেই রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেছেন—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জ্বরের সময় পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে অতিরিক্ত দুর্বলতা, পেটব্যথা, বারবার বমি, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক রক্তপাত, অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব কিংবা অস্থিরতার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ফরিদপুরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও পৌরসভাগুলো মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও সচেতনতা তৈরির জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রচার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে ডেঙ্গুর কারণ, প্রতিরোধের উপায় এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের বিষয়ে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। ব্যক্তি পর্যায়েও সচেতনতা বাড়াতে হবে। বাড়ির ভেতর ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মশার কামড় থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
এদিকে সারা দেশেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু ড্যাশবোর্ডে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতি বছরে দেশে ৪৩ হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য দেখা যাচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের শুরুতে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ৭ সেপ্টেম্বরের হিসাবে চলতি বছরে দেশে ৪২ হাজার ৫৯০ জন হাসপাতালে ভর্তি এবং ১১৭ জনের মৃত্যুর তথ্য দেওয়া হয়েছিল।
এ অবস্থায় ফরিদপুরেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং জনসচেতনতা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।