আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : রবিবার ২০শে সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
সংগৃহীত
হাঁটতে গেলেই পায়ে ব্যথা, ভারী লাগা বা টান ধরার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। সামান্য হাঁটাহাঁটিতেই অস্বস্তি শুরু হওয়ায় কেউ কেউ দৈনন্দিন চলাফেরাও কমিয়ে দেন। তবে এ ধরনের ব্যথাকে সবসময় সাধারণ ক্লান্তি হিসেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। এর পেছনে বিভিন্ন শারীরিক কারণ থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পেশিতে অতিরিক্ত চাপ, প্রদাহ, জয়েন্টের সমস্যা, স্নায়ুর জটিলতা কিংবা পায়ে রক্ত চলাচলের সমস্যার কারণেও হাঁটার সময় ব্যথা হতে পারে। তাই দীর্ঘদিন এ সমস্যা থাকলে কারণ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতালের চিফ কনসালট্যান্ট এম ইয়াছিন আলী একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত নিবন্ধে হাঁটার সময় পায়ে ব্যথার বিভিন্ন কারণ ও করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন।
পেশিতে অতিরিক্ত চাপ: দীর্ঘ সময় হাঁটা, হঠাৎ বেশি ব্যায়াম করা কিংবা পর্যাপ্ত ওয়ার্মআপ ছাড়া হাঁটা শুরু করলে পেশিতে টান বা স্ট্রেইন হতে পারে। এতে পায়ে ব্যথা দেখা দিতে পারে।
প্লান্টার ফ্যাসাইটিস: পায়ের পাতার নিচের অংশে প্লান্টার ফ্যাসিয়ার প্রদাহ হলে হাঁটার সময় ব্যথা হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা হাঁটার ক্ষেত্রে অস্বস্তি বাড়তে পারে।
জয়েন্টের সমস্যা: হাঁটু, গোড়ালি বা পায়ের অন্যান্য জয়েন্টে অস্টিওআর্থ্রাইটিসসহ বিভিন্ন সমস্যা থাকলে হাঁটার সময় ব্যথা হতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
স্নায়ুর সমস্যা: সায়াটিকা বা নার্ভে চাপ পড়লে কোমর থেকে পা পর্যন্ত ব্যথা ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর সঙ্গে ঝিনঝিন বা অবশভাবও থাকতে পারে।
রক্ত চলাচলের সমস্যা: কিছু ক্ষেত্রে পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজের মতো সমস্যায় হাঁটার সময় পায়ে ব্যথা হতে পারে এবং বিশ্রাম নিলে তা কমে আসতে পারে। এ ধরনের লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
পায়ে ব্যথা হলে প্রথমেই এর কারণ চিহ্নিত করা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যথা বেশি হলে কিছুদিন অতিরিক্ত চাপ এড়িয়ে বিশ্রাম নেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী আক্রান্ত স্থানে ১৫ থেকে ২০ মিনিট বরফ সেঁক দেওয়া যেতে পারে।
নিয়মিত স্ট্রেচিং ও স্ট্রেংথেনিং ব্যায়াম পায়ের পেশি ও লিগামেন্টের শক্তি ও নমনীয়তা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে কাফ মাসলের উপযুক্ত ব্যায়াম উপকারী হতে পারে। তবে ব্যথার কারণ অনুযায়ী কোন ব্যায়াম করা নিরাপদ, সে বিষয়ে প্রয়োজনে ফিজিওথেরাপিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
হাঁটার সময় আরামদায়ক ও পায়ের উপযোগী জুতা ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। শক্ত বা অনুপযুক্ত জুতা পায়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে ব্যথা বাড়াতে পারে।
অতিরিক্ত ওজন পায়ের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যথা বা প্রদাহ কমাতে ওষুধ ব্যবহারের প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তা গ্রহণ করা উচিত। দীর্ঘস্থায়ী বা নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি, শকওয়েভ থেরাপি বা অন্যান্য চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
১. নিয়মিত হালকা ব্যায়াম ও স্ট্রেচিং করুন।
২. হঠাৎ করে অতিরিক্ত হাঁটা বা দৌড়ানো শুরু করবেন না।
৩. হাঁটা বা ব্যায়ামের আগে পর্যাপ্ত ওয়ার্মআপ করুন।
৪. আরামদায়ক ও পায়ের উপযোগী জুতা ব্যবহার করুন।
৫. দীর্ঘ সময় একটানা দাঁড়িয়ে থাকা বা হাঁটা এড়িয়ে চলুন।
৬. দৈনন্দিন কাজে শরীরের সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখুন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন।
হাঁটার সময় পায়ে ব্যথা বারবার হলে, ক্রমে বাড়তে থাকলে বা বিশ্রামেও ব্যথা না কমলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে পা অবশ হয়ে যাওয়া, দুর্বলতা, অতিরিক্ত ফোলা বা ত্বকের রঙের পরিবর্তনের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।