আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : সোমবার ৭ই সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৯ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
জাতীয় সংসদে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ ও সংসদীয় কমিটিতে রাখা নিয়ে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে সংসদীয় কমিটিতে রাখা এবং তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকা নিয়ে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে এ নিয়ে আলোচনা হয়। বিরোধীদলীয় নেতা নৈতিকতার প্রশ্নে গাজী নজরুল ইসলামকে কোনো সংসদীয় কমিটিতে না রাখার আহ্বান জানান। পরে তার অনুরোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটি থেকে গাজী নজরুলকে বাদ দেওয়ার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম বিরোধী দলের কোটায় ওই কমিটিতে মনোনীত হননি। ফলে তাকে কমিটিতে রাখার বিষয়ে তাদের আপত্তি নেই।
তবে তিনি বলেন, নৈতিকতার দিক থেকে গাজী নজরুলকে সংসদের কোনো কমিটিতে না রাখাই উত্তম। কারণ তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একজন সংসদ সদস্যকে জাতীয় সংসদের কোনো না কোনো কমিটিতে রাখতে হয়। মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দেওয়া নামের মধ্যে গাজী নজরুল ইসলামের নাম ছিল না বলে সেখানে তাকে রাখা হয়নি।
তিনি বলেন, সংসদীয় অন্য দুটি কমিটিতেও বিরোধী দলের আপত্তি থাকায় তাকে রাখা হয়নি। তবে সংসদ সদস্য হিসেবে তাকে কোনো না কোনো কমিটিতে রাখার প্রয়োজন হওয়ায় অন্য একটি কমিটিতে তাকে রাখা হয়েছে।
আলোচনার একপর্যায়ে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জামায়াতে ইসলামী তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য করার জন্য নির্বাচন কমিশন ও স্পিকারকে চিঠি দিয়েছে। তবে শুধু দল থেকে বহিষ্কার করলেই সংবিধান অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হয় না।
তিনি বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া বা ভোটদানে বিরত থাকার ক্ষেত্রে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বিধান প্রযোজ্য হতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গাজী নজরুল ইসলামের ভোট না দেওয়া বা ভোটদানে বিরত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতার উদ্দেশে বলেন, তারা চাইলে এ বিষয়ে স্পিকার বা নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে বিধি অনুযায়ী সাংবিধানিকভাবে সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান রসিকতার সুরে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাঝে মাঝে তাদের কিছু ‘টিপস’ দেন এবং তারা তা উপভোগ করেন।
তিনি বলেন, গাজী নজরুল ইসলামকে তারা দল থেকে বহিষ্কার করেছেন। ফলে তাকে দলের সদস্য হিসেবে ধরে নিয়ে ফ্লোর ক্রসিংয়ের প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।
বিরোধীদলীয় নেতা আবারও বলেন, নৈতিকতার দিক থেকে গাজী নজরুলকে জাতীয় সংসদের কোনো কমিটিতে না রাখাই উত্তম। ভবিষ্যতে কমিটি পুনর্গঠন বা পরিবর্তনের সুযোগ থাকায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনারও সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার অনুরোধে গাজী নজরুল ইসলামকে সংশ্লিষ্ট কমিটি থেকে বাদ দেওয়া যেতে পারে। কমিটি এখনো চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত না হওয়ায় এ পরিবর্তন করা সম্ভব বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার সম্মানার্থে গাজী নজরুলকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হবে এবং তার বিষয়ে আর চর্চা করা হবে না।
তবে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দল থেকে বহিষ্কার করলেই সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয় না। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বিধান প্রযোজ্য হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে কিংবা সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য নিজে পদত্যাগ করলে আসন শূন্য হওয়ার প্রশ্ন আসতে পারে।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ অবস্থান ও নৈতিকতার প্রশ্নে তার আবেদনকে গুরুত্ব দেওয়ায় তাকে ধন্যবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে ৭০ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা নিয়ে তিনি ভিন্নমতও জানান।
উল্লেখ্য, গাজী নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্কিত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গত ২২ জুলাই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। দল থেকে বহিষ্কারের পরও তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকায় তাকে সংসদীয় কমিটিতে রাখা এবং তার আসন শূন্য করার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।