আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : শুক্রবার ১১ই সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
জ্বরের সময় গোসল নিয়ে দ্বিধা? জেনে নিন কখন নিরাপদ, কখন এড়িয়ে চলবেন
জ্বর হলে গোসল করা যাবে কি না—এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই রয়েছে নানা ধরনের ধারণা। কেউ মনে করেন, জ্বরের সময় গোসল করলে শরীরের তাপমাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে। আবার কেউ দ্রুত জ্বর কমানোর জন্য ঠান্ডা পানিতে গোসলের পরামর্শ দেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, দুটির কোনোটিই পুরোপুরি সঠিক নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে জ্বরের সময় গোসল করা নিরাপদ। তবে এক্ষেত্রে পানির তাপমাত্রা, গোসলের সময় এবং রোগীর শারীরিক অবস্থা গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের ফরিদাবাদের অমৃতা হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের প্রধান ও জ্যেষ্ঠ পরামর্শক চিকিৎসক ডা. সঞ্জয় রায়নার মতে, জ্বরের সময় অল্প সময়ের জন্য কুসুম গরম বা হালকা গরম পানিতে গোসল করা যেতে পারে। এতে শরীরের ঘাম, অস্বস্তি ও আঠালোভাব কমে এবং রোগী কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।
তবে গোসলকে জ্বরের চিকিৎসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর মূল উদ্দেশ্য হলো শরীর পরিষ্কার রাখা এবং রোগীর অস্বস্তি কমানো।
জ্বরের সময় শরীরের তাপমাত্রা কমানোর জন্য বরফঠান্ডা বা অতিরিক্ত ঠান্ডা পানিতে গোসল করা ঠিক নয়। খুব ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে শরীরে কাঁপুনি শুরু হতে পারে।
কাঁপুনির সময় শরীরের পেশি দ্রুত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে তাপ উৎপন্ন করে। ফলে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা কমার পরিবর্তে উল্টো বাড়তে পারে। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে যদি কাঁপুনি থাকে, তাহলে ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে অস্বস্তি আরও বেড়ে যেতে পারে।
জ্বরের সময় অতিরিক্ত গরম পানিতে গোসল করাও উপকারী নয়। এতে শরীর আরও গরম হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি কমে গিয়ে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
খুব গরম পানিতে গোসল করলে মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই এ সময় খুব ঠান্ডা কিংবা খুব গরম পানির পরিবর্তে কুসুম গরম পানি তুলনামূলকভাবে ভালো বিকল্প।
জ্বর নিজে কোনো রোগ নয়; এটি সাধারণত শরীরে সংক্রমণ বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার একটি লক্ষণ। তাই জ্বর হলে শুধু শরীরের তাপমাত্রা কমানোর দিকে মনোযোগ না দিয়ে এর কারণও বিবেচনা করা জরুরি।
এ সময় পর্যাপ্ত পানি ও তরল পান করা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং সহনীয় হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জ্বর কমানোর ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে।
বিশেষ করে জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ জ্বরের পেছনে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে এবং কারণভেদে চিকিৎসাও ভিন্ন হতে পারে।
জ্বর থাকলেও অনেকেই স্বাভাবিকভাবে গোসল করতে পারেন। তবে রোগী যদি খুব দুর্বল হয়ে পড়েন, দাঁড়ালে মাথা ঘোরে, অজ্ঞান হওয়ার মতো অনুভূতি হয়, বিভ্রান্তি দেখা দেয়, অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব থাকে কিংবা নিরাপদে দাঁড়িয়ে গোসল করার মতো শারীরিক সক্ষমতা না থাকে—তাহলে গোসল না করাই ভালো।
এ ছাড়া গুরুতর অসুস্থতার সঙ্গে খুব বেশি জ্বর থাকলে নিজের সিদ্ধান্তে গোসল না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
জ্বর হলেই গোসল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। রোগীর শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক থাকলে স্বল্প সময়ের জন্য কুসুম গরম পানিতে গোসল করা সাধারণত নিরাপদ এবং এতে শরীরের অস্বস্তি কমতে পারে।
তবে জ্বর কমানোর জন্য ঠান্ডা পানিতে গোসল করা বা অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার করা উচিত নয়। পর্যাপ্ত পানি পান, বিশ্রাম, প্রয়োজনীয় পুষ্টি এবং জ্বরের মূল কারণ অনুযায়ী চিকিৎসাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মনে রাখতে হবে—গোসল জ্বর সারায় না; এটি মূলত শরীরকে আরাম দিতে সাহায্য করে। জ্বরের সঙ্গে গুরুতর বা অস্বাভাবিক কোনো উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।