কুমিল্লায় মা ও দুই বছরের শিশুকে কুপিয়ে হত্যা, আটক যুবক

কুমিল্লায় মা ও দুই বছরের শিশুকে কুপিয়ে হত্যা, আটক যুবক

সংগৃহীত

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় একই বাড়ির তিনজনকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় পেয়ারা বেগম ও তার দুই বছর বয়সী নাতনির মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন রাবেয়া বেগম নামে আরও একজন। এ ঘটনায় পেয়ারা বেগমের ছেলে ইমনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন স্থানীয়রা।

সোমবার সকালে উপজেলার বড় শালঘর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান।

একই বাড়িতে হামলার ঘটনা

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, সোমবার সকালে বড় শালঘর এলাকায় একই বাড়ির তিনজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকেন তারা।

এ সময় ঘটনাস্থলেই পেয়ারা বেগম ও তার দুই বছর বয়সী নাতনির মৃত্যু হয়। অপর আহত রাবেয়া বেগমকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠান। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয়দের হাতে আটক ইমন

ঘটনার পর স্থানীয়রা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে পেয়ারা বেগমের ছেলে ইমনকে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তবে ইমন কীভাবে এবং কী কারণে এই ঘটনায় জড়িত হয়েছেন—এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।

হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়

দুইজনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিলেও তাৎক্ষণিকভাবে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। পারিবারিক কোনো বিরোধ, পূর্বশত্রুতা কিংবা অন্য কোনো বিষয় থেকে ঘটনাটি ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কীভাবে হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং এতে কারা জড়িত—সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দুইজনের মৃত্যু, একজন হাসপাতালে

ঘটনায় পেয়ারা বেগম ও তার দুই বছর বয়সী নাতনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত রাবেয়া বেগমকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

একই বাড়ির তিনজনের ওপর হামলা এবং দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় বড় শালঘর এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতদের মরদেহের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এবং তদন্তের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। তদন্ত এগিয়ে গেলে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় পরিষ্কার হতে পারে।