লিয়াজোঁ অফিস ধ্বংসে উত্তর কোরিয়াকে ৪ হাজার ৪৬০ কোটি ওন ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

লিয়াজোঁ অফিস ধ্বংসে উত্তর কোরিয়াকে ৪ হাজার ৪৬০ কোটি ওন ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

২০২০ সালে বিস্ফোরণে ধ্বংস হওয়া ইন্টার-কোরিয়ান লিয়াজোঁ অফিসের ভবন।

দক্ষিণ ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে নির্মিত একটি কার্যালয় ২০২০ সালে বিস্ফোরণে ধ্বংস করার ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারকে ৪ হাজার ৪৬০ কোটি ওন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের এক মুখপাত্র এএফপিকে এ তথ্য জানান। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩২৫ কোটি ডলার নয়; বরং ৪ হাজার ৪৬০ কোটি ওন। ডলারে এর পরিমাণ আনুমানিক ৩ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি।

২০২০ সালে উত্তর কোরিয়ার কায়েসং শহরে অবস্থিত ইন্টার-কোরিয়ান লিয়াজোঁ অফিসটি বিস্ফোরণে ধ্বংস করা হয়। দুই কোরিয়ার মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে কার্যালয়টি নির্মাণ করা হয়েছিল।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের করা এটিই প্রথম সরাসরি মামলা। কায়েসং শিল্পাঞ্চলের একটি নিষ্ক্রিয় এলাকায় কার্যালয়টি নির্মাণ করা হয়েছিল। একসময় সেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান উত্তর কোরিয়ার শ্রমিকদের নিয়োগ দিত।

২০২০ সালের জুনে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার কয়েক দিনের মধ্যে উত্তর কোরিয়া লিয়াজোঁ অফিসটি বিস্ফোরণে ধ্বংস করে। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকা কিছু কর্মী বেলুনের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ায় সরকারবিরোধী প্রচারপত্র পাঠিয়েছিলেন। এর প্রতিবাদে পিয়ংইয়ং কার্যালয়টিকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে আখ্যা দিয়েছিল।

দক্ষিণ কোরিয়া সরকার জানিয়েছে, আদালতের রায়ের পর প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা হবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর কোরিয়া বাস্তবে এই ক্ষতিপূরণ দেবে—এমন সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ ভবনটি উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ডে অবস্থিত ছিল এবং পিয়ংইয়ং দক্ষিণ কোরিয়ার আদালতের এখতিয়ার স্বীকার করে না।

তৎকালীন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইনের উদ্যোগে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ইন্টার-কোরিয়ান লিয়াজোঁ অফিসটি চালু করা হয়। এর কয়েক দিন পর মুন তৃতীয়বারের মতো উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের জন্য পিয়ংইয়ং সফর করেন।

পরবর্তী সময়ে দুই দেশের প্রায় ২০ জন করে কর্মকর্তা সেখানে দায়িত্ব পালন করতেন। তবে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে কার্যালয়টির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

২০২৩ সালে তৎকালীন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলের সরকারের সময় মামলাটি করা হয়। উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত ইউন সামরিক আইন জারির ব্যর্থ উদ্যোগের পর ক্ষমতাচ্যুত হন।

২০১৮ সালে দুই কোরিয়ার সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছিল। ওই বছর মুন ও কিম তিনবার শীর্ষ বৈঠকে বসেছিলেন। তবে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে কিম জং উন ও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্কে আবারও অবনতি ঘটে।