আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : সোমবার ২৮শে সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তবে একই সঙ্গে শান্তির কোনো সুযোগ হাতছাড়া না করতে কূটনীতির পথও খোলা রাখার কথা বলেছেন তিনি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন আরাগচি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক সফর করেন তিনি।
আরাগচি বলেন, ইরান আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকার পাশাপাশি যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্যও প্রস্তুত। নতুন কোনো আগ্রাসন হলে তার বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেওয়া হবে, এমনকি সংঘাত ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছালেও।
তিনি বলেন, শান্তির কোনো সুযোগ যেন হাতছাড়া না হয়, সে জন্য কূটনীতির চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। তাঁর ভাষ্য, চলমান অচলাবস্থা কাটানোর একমাত্র পথ হলো আলোচনা।
এর আগে শুক্রবার ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব দেয়। এতে বলা হয়, ওয়াশিংটন ইরানের শর্ত মেনে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ফিরবে তেহরান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে আরাগচি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব এখনো তেহরানের কাছে পৌঁছায়নি।
আরাগচির ভাষ্য, ইরানের শর্ত পূরণ করা হলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি আবারও আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর জোর দেন।
এদিকে এনবিসি নিউজকে দেওয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইকেল ওয়াল্টজ ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবকে গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকার কারণে বিশ্বকে জিম্মি হতে দেওয়া যাবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সব ধরনের পথ খোলা রাখবেন।
মার্কিন পক্ষ ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে তেহরান বলছে, কূটনীতির মাধ্যমে অচলাবস্থা নিরসনের সুযোগ এখনো রয়েছে।
এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান জব্দ করা হয়েছে। ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে বলা হয়েছে, ডুবোযানটি ‘রেমাস ৬০০’ (Remus 600) এবং সেটি গোয়েন্দা তৎপরতায় ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে ইরানের দাবি।
তবে এ দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন পক্ষ ইরানের দাবিটি অস্বীকার করেছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্যিক পরিবহন ব্যবস্থায়ও প্রভাব ফেলছে। সংকট নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা নিয়ে উত্তেজনা বজায় রয়েছে।