আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : বুধবার ২৬শে আগস্ট ২০২৬, ০১:০৮ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
অক্টোবর নয়, নভেম্বর থেকে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শুরু হতে পারে দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এতদিন অক্টোবর থেকে নির্বাচন শুরুর কথা বলা হলেও এবার তা পিছিয়ে নভেম্বর থেকে ভোট গ্রহণের নতুন পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
আগের মতো এবারও ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা হবে। নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি—এই সময়কে নির্বাচন আয়োজনের জন্য তুলনামূলকভাবে উপযোগী সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে দুর্গাপূজা, রমজান, বিভিন্ন পরীক্ষা ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়েই চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আগে অক্টোবর ধরে পরিকল্পনা করে এসেছি। এখনো আমরা সব পরিকল্পনা অক্টোবরের মধ্যে শেষ করব। কিন্তু ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা আমাদের এখন নভেম্বরে। যেদিন ভোট গ্রহণ হবে, তার ৪৫ দিন আগে তপশিল ঘোষণা করা হবে।’
এর আগে ইসি জানিয়েছিল, অক্টোবরের শুরুতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে এবং আগস্টের শেষার্ধে তপশিল ঘোষণা করা হতে পারে। তবে এখন ভোট গ্রহণ নভেম্বর থেকে শুরু করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
তিনি বলেন, এর সঙ্গে পৌরসভা নির্বাচনও হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, ধাপে ধাপে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানোর পর তা ইসিতে ফিরে এসেছে।
তবে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা এবং আইন সংস্কারের বিষয়ে ইসির সুপারিশ এখনো পাঠানো হয়নি।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আমাদের হাতে বিদ্যমান যেসব আইন-বিধি থাকবে, সেগুলো ধরেই আমরা আগাব।’
এর আগে গত ৯ জুলাই স্থানীয় সরকারের কোন কোন প্রতিষ্ঠান নির্বাচন উপযোগী, সে বিষয়ে তথ্য চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় ইসি। মঙ্গলবার পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার তালিকা নির্বাচন কমিশনে পৌঁছেছে।
চলতি অর্থবছরের মধ্যেই দেশের পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন—ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন—অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি বলেন, এসব নির্বাচন আয়োজনের জন্য চলতি বাজেটে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে আগামী সপ্তাহে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। ওই বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
তবে ভোটের তপশিল ও তারিখ নির্বাচন কমিশনই নির্ধারণ করবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করছে নির্বাচন কমিশন।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বিজিবির মহাপরিচালক এবং আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য শুধু নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিই যথেষ্ট নয়; সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও প্রস্তুত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, আবহাওয়া, বর্ষাকাল, বন্যা, পূজা, পাবলিক পরীক্ষা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভোটের সময় নির্ধারণ করা হবে। এখনই নির্দিষ্ট দিন-তারিখ বলা সম্ভব নয়। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন খুব বেশি দেরি হবে না।
সিইসি আরও বলেন, ভোটের তারিখ সরকার নয়, নির্বাচন কমিশনই নির্ধারণ করবে। তবে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থার প্রস্তুতির বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।
সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তুলনামূলকভাবে সহিংসতার প্রবণতা বেশি থাকে। তাই এ বিষয়ে কমিশন বিশেষভাবে সতর্ক থাকবে।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সহিংসতামুক্ত হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও রাজনৈতিক দলগুলোর সেই সদিচ্ছা প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশন কোনো ধরনের সহিংসতা চায় না এবং স্থানীয় নির্বাচনে সহিংসতার প্রবণতা বেশি হওয়ায় এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইন ও বিধিমালা সংক্রান্ত কিছু কাজ বাকি থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে বৃহস্পতিবার ভোটকেন্দ্রের সম্ভাব্য চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার কথা রয়েছে। এরপর ভোটের ২৫ দিন আগে প্রতিটি স্তরের চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ করা হবে।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার তালিকা ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রয়োজন হলে এই সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে রয়েছে—
ধাপে ধাপে এসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তবে চূড়ান্ত সময়সূচি ও তপশিল ঘোষণার পরই নির্বাচনের বিস্তারিত চিত্র স্পষ্ট হবে।