রাশিয়ার জ্বালানি ক্রেতাদের ওপর ১০০% শুল্কের পথ খুলে দিলেন ট্রাম্প

রাশিয়ার জ্বালানি ক্রেতাদের ওপর ১০০% শুল্কের পথ খুলে দিলেন ট্রাম্প

সংগৃহীত

রাশিয়ার ওপর নতুন করে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আইনে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের এই আইনের ফলে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পেয়েছে মার্কিন প্রশাসন। ফলে রাশিয়ার জ্বালানির বড় ক্রেতা ভারত ও চীনও সম্ভাব্য শুল্কের আওতায় পড়তে পারে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, দুই দিন আগে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ ২৬২-১৫৯ ভোটে বিলটি পাস করে। এর আগে আগস্টে সিনেটেও ৮৬-১১ ভোটে বিলটি পাস হয়েছিল। পরে ট্রাম্পের স্বাক্ষরের মাধ্যমে এটি আইনে পরিণত হয়।

প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে আইনটির নামকরণ করা হয়েছে। ইউক্রেনের পক্ষে ওয়াশিংটনের অন্যতম সোচ্চার সমর্থক গ্রাহাম চলতি বছরের জুলাইয়ে মারা যান।

নতুন আইনের অন্যতম লক্ষ্য হলো ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে রাশিয়ার অর্থনৈতিক সক্ষমতা কমানো। এতে রুশ সরকারি কর্মকর্তা, ব্যাংক, জ্বালানি খাত এবং মস্কোর সামরিক কার্যক্রমে সহায়তাকারী বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার বিধান রয়েছে। রাশিয়ার তেল পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলতে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া জাহাজগুলোকেও এর আওতায় আনা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী রাশিয়ার পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে ভারত বা চীনের সব পণ্যে এখনই ১০০ শতাংশ শুল্ক বসেছে। আইনটি ট্রাম্প প্রশাসনকে এই শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিয়েছে। কোন দেশের ওপর কত শুল্ক আরোপ করা হবে, তা পরবর্তী মার্কিন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কেনায় ভারতের ওপর নতুন আইনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিশেষ আলোচনা হচ্ছে। একইভাবে চীনও সম্ভাব্য শুল্কের ঝুঁকিতে রয়েছে। এর আগে সিনেটে পাস হওয়া বিলের প্রতিবেদনে ভারত, চীন, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়াকে রাশিয়ার জ্বালানির বড় ক্রেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

ভারতের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে কি না এবং হলে কত হবে, তা এখনো মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিষয়। ফলে আইন পাস হলেও ভারতীয় পণ্যে তাৎক্ষণিকভাবে ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে—এমন কোনো তথ্য নেই।

বিলটি কংগ্রেসে পাস হওয়ার পর ভারতের পক্ষ থেকে দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। নয়াদিল্লি বলেছে, ১৪০ কোটির বেশি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ অব্যাহত রাখবে।

রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের তেল বাণিজ্যের বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনাতেও এসেছে। ভারতীয় কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এ বাণিজ্যের ওপর যেকোনো বড় পরিবর্তনের প্রভাব শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।

আইনটি কংগ্রেসে ব্যাপক সমর্থন পেলেও এর শুল্ক-সংক্রান্ত ক্ষমতা নিয়ে কিছু মার্কিন আইনপ্রণেতার উদ্বেগ ছিল। অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ হলে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্যের দাম বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন কয়েকজন আইনপ্রণেতা।

তবে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের উভয় কক্ষে পাস হওয়ার পর ট্রাম্পের স্বাক্ষরে আইনটি কার্যকর হয়েছে। এখন রাশিয়ার জ্বালানির বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর নতুন শুল্ক আরোপে মার্কিন প্রশাসন এই ক্ষমতা ব্যবহার করবে কি না, সেটিই নজর রাখার বিষয়।