মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় সংকটে ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় সংকটে ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল

সংগৃহীত

নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। ইরানি বিমান সংস্থাগুলোকে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল আরও সংকুচিত হয়েছে। ফলে বিদেশ ভ্রমণে ইচ্ছুক ইরানিদের অনেকেই এখন স্থলপথের দিকে ঝুঁকছেন।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ইরানি বিমান সংস্থাগুলোকে বিদেশে সেবা দেওয়ার সুযোগ থাকা স্বল্পমেয়াদি সময়সীমা শেষ হয়। এরপর তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও চীনের সঙ্গে ইরানের ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর প্রায় সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

এ ছাড়া ওমান, আজারবাইজান ও জর্জিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইরানি বিমান সংস্থাগুলোকে আকাশসীমা ও বিমানবন্দরসেবা ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। ইরাকের বাগদাদ বিমানবন্দরও ইরানি বাহকের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। তবে নাজাফে ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত ছিল।

এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বাকি থাকা বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থাসহ মোট ২৭টি এয়ারলাইনকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেন, ইরানি বিমানকে জ্বালানি, অবতরণসেবা বা টিকিট বিক্রির মতো সহায়তা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

বিমান চলাচল কমে যাওয়ায় হাজারো যাত্রী এখন স্থল সীমান্ত দিয়ে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে তুরস্ক ও আর্মেনিয়াগামী পথে ব্যাপক যানজটের খবর পাওয়া গেছে। তুরস্ক সীমান্তের বাজারগান ও রাজি ক্রসিংয়ে এবং আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়ereভানের দিকে যাওয়া বিভিন্ন স্থলপথে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে।

চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ইরান থেকে তুরস্কগামী বাসের টিকিটের দাম স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় চার গুণ পর্যন্ত বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আকাশপথের বিকল্প হিসেবে স্থলপথে যাত্রা করাও অনেকের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

ইরানি বিমান চলাচল ও ট্রানজিট বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদরেজা এব্রাহিমপুর প্রতিবেশী দেশগুলোর ইরানি বিমান সংস্থাগুলোকে সেবা দেওয়া বন্ধ করাকে নিষেধাজ্ঞার ‘নতুন মাত্রার বাস্তব প্রয়োগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।

এব্রাহিমপুরের ভাষ্য, আগের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান ইতোমধ্যে ওভারফ্লাইট ফি থেকে বছরে ৩০ কোটি ডলারের বেশি আয় হারিয়েছে। নতুন বিধিনিষেধের ফলে দেশটির বিমান পরিবহন খাত ও সংশ্লিষ্ট শিল্পে আরও চাপ তৈরি হতে পারে।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে শুধু যাত্রী চলাচল নয়, বিমানপথে পণ্য আমদানিও ব্যাহত হতে পারে। ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের সক্ষমতা ২০২৫ সালের আগস্টের তুলনায় ২০২৬ সালের আগস্টে ৪৯ শতাংশ কমে গিয়েছিল। নতুন নিষেধাজ্ঞায় এই সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।