শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে সরকারের অবস্থান দৃঢ়: তথ্য উপদেষ্টা

শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে সরকারের অবস্থান দৃঢ়: তথ্য উপদেষ্টা

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

ভারতে অবস্থানরত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবিতে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। শেখ হাসিনা নিজে দেশে ফিরবেন—এমনটি নয়, সরকার তাকে ‘ধরে’ দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি শুধু ভারতের ওপর চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে—এমন আলোচনা নাকচ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, “আমরা একটা কথা খুব ক্লিয়ারলি বলতে চাই, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সঙ্গে যখন এটাকে (শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ) কন্ডিশন হিসেবে দেওয়া হয়েছে। এজন্য আমরা প্রায়ই বলছি—শেখ হাসিনা, আপনার আসতে হবে না, আপনাকে আমরা ধরে নিয়ে আসতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “আপনি আসামি, আপনি পলাতক আসামি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এবং চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, তার এখন আর আপিল করার সুযোগ নেই। তার মানে ব্যাপারটা এখন এরকম, তিনি আসবেন এবং তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে। আমরা তাকে ধরে আনতে চাই।”

ভারতে শেখ হাসিনার বক্তব্যে অসন্তোষ

সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলন করা এবং ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে আবার তিনি কিছু মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলছেন, সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন ভারতের প্রতিষ্ঠিত মিডিয়ার সঙ্গে। এটা আনএক্সপেক্টেড।”

শেখ হাসিনা প্রত্যর্পণের আগ পর্যন্ত এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকবেন—এমন প্রত্যাশা ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাকে কোনো বার্তা দেওয়া হবে বলে আশা করেছিল বাংলাদেশ।

শেখ হাসিনা ভারতে কী ধরনের অধিকার ভোগ করছেন, সে বিষয়েও সরকারের কাছে স্পষ্টতা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, “আমরা তাকে আনতে চাইছি, প্রত্যর্পণের দাবিটা স্ট্রং। উনি আসুন, তিনি নিজে আসুন বা আমরা আনি—আমরা এটা করতেই চাই। এর মধ্যে কোনো কৌশল নেই।”

সম্পর্ক উন্নয়নে ভারতের প্রতি আহ্বান

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সম্পর্ক যে পর্যায়ে পৌঁছেছিল, সেখান থেকে উন্নতির জন্য ভারত সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারত। এর মধ্যে শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

সাংবাদিকদের বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছে এ বিষয়ে প্রশ্ন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্য বাংলাদেশের জন্য কতটা সংবেদনশীল ও বিরক্তিকর, তা ভারতীয় পক্ষের বোঝা উচিত।

তিনি আরও বলেন, “আমি মুখে বলছি, কিছু কিছু সিগনালও দিচ্ছি। কিন্তু একইসঙ্গে এমন কিছু করছি, যেটা আসলে নেগেটিভ করে ফেলে। শেখ হাসিনা যখন সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন, আমাদের যে প্রতিবাদলিপি ছিল, সেই প্রতিবাদলিপিতে এই কথাটাই বলা হয়েছে—একটা আস্থার পরিবেশ লাগবে।”

২০২৪ সালের আগস্টে ভারতে আশ্রয়

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি সম্প্রতি আগামী ডিসেম্বর দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন।