আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : বুধবার ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
সংগৃহীত
বাংলাদেশে স্ত্রীর সন্দেহজনক মৃত্যুর তদন্তে প্রভাব বিস্তার এবং পুলিশি নথি থেকে নিজের নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রায় ৯০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে কুইন্সল্যান্ডে এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি)।
গ্রেপ্তার ব্যক্তি ৫১ বছর বয়সী আওলাদ হোসেন। তার বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিমিনাল কোডের ৭০.২(১) ধারায় আনা এ অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
এএফপির অভিযোগ, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই বছরে আওলাদ হোসেন বাংলাদেশে পরিচিত কয়েকজনের কাছে ৯০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন। এসব অর্থের একটি অংশ বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ পুলিশের।
এএফপি জানিয়েছে, রেহানা পারভিন নামের এক অস্ট্রেলিয়ান-বাংলাদেশি নাগরিক ও পাঁচ সন্তানের মা ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে নিখোঁজ হন। একই বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের একটি গ্রামে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মৃত্যুর ঘটনাটি সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এরপর অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করে।
এএফপির তথ্যমতে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কুইন্সল্যান্ড পুলিশ সার্ভিসের কাছ থেকে ওই নারীর নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়ার পর তারা প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পরে বাংলাদেশে তার মরদেহ শনাক্ত এবং মৃত্যুর ধরন নিয়ে সন্দেহের তথ্য পাওয়ার পর তদন্তটি অস্ট্রেলিয়ার কমনওয়েলথ ক্রিমিনাল কোডের অধীনে বিদেশে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকের মৃত্যুসংক্রান্ত গুরুতর অপরাধের দিকে নেওয়া হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে এএফপি সিডনি ও ব্রিসবেনের কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরের নথি ও ব্যাংক রেকর্ড জব্দ করে। এসব লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণের পর বাংলাদেশে চলমান তদন্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ সামনে আসে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর এএফপির সদস্যরা কুইন্সল্যান্ডের গুডনা ও রেডব্যাংক প্লেইন্স এলাকায় কয়েকটি বাড়িতে অভিযান চালান। এ সময় আওলাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযান থেকে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে, যা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
এএফপি কমান্ডার স্টিফেন জে বলেন, গুরুতর কোনো অপরাধের তদন্তের ফলাফল প্রভাবিত করতে ঘুষ বা দুর্নীতির চেষ্টা করা হলে তা অস্ট্রেলিয়া ও বিদেশ—উভয় ক্ষেত্রেই গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। তদন্তে প্রভাব বিস্তারের যেকোনো প্রচেষ্টা আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এএফপির সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
তবে এএফপি স্পষ্ট করেছে, এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তা ওই অর্থ গ্রহণ করেছেন—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কথিত ঘুষের অর্থ বাংলাদেশে চলমান তদন্তে কোনো প্রভাব ফেলেছে—এমন প্রমাণও পুলিশের হাতে নেই। এএফপির ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে তদন্তকে প্রভাবিত করার কথিত প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
আওলাদ হোসেনের আইনজীবী তোরিক ডিব জানিয়েছেন, তার মক্কেল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং আদালতে এর বিরুদ্ধে লড়বেন। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (এবিসি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওলাদ হোসেনের জামিনের আবেদন আগামী মাসে শুনানির জন্য নির্ধারিত হতে পারে।
রেহানা পারভিনের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের তদন্তের পাশাপাশি এএফপির তদন্তও চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে হত্যার অভিযোগে কোনো দণ্ড হয়নি এবং অস্ট্রেলিয়াতেও তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে বিচার হয়নি। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ায় যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।
এএফপির দাবি অনুযায়ী, বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ায় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার ক্ষেত্রে এটি সংস্থাটির প্রথম ঘটনা।