আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : শনিবার ১২ই সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৯ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
সংগৃহীত
রসুন শুধু রান্নার স্বাদ ও গন্ধ বাড়ায় না, হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির সুস্থতার ক্ষেত্রেও এর সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চলছে। নিয়মিত রসুন খেলে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতার মতো স্ট্রোকের কিছু ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
তবে প্রতিদিন এক কোয়া রসুন খেলেই স্ট্রোকের ঝুঁকি নিশ্চিতভাবে কমে যাবে—এমন প্রমাণ নেই। তাই রসুনকে কোনোভাবেই স্ট্রোক প্রতিরোধের ওষুধের বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়।
কাঁচা রসুন কুচি, থেঁতো বা চটকানোর পর এতে অ্যালিসিন নামের একটি সালফারযুক্ত সক্রিয় যৌগ তৈরি হয়। রসুনের ঝাঁঝালো গন্ধের পেছনেও এই যৌগের ভূমিকা রয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, রসুনের কিছু সক্রিয় উপাদান রক্তনালি, রক্তচাপ ও রক্তের কিছু উপাদানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণেই হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্য ও স্ট্রোকের ঝুঁকির সঙ্গে রসুনের সম্পর্ক নিয়ে আগ্রহ রয়েছে।
উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের অন্যতম বড় ঝুঁকি। দীর্ঘদিন রক্তচাপ বেশি থাকলে রক্তনালির দেয়ালে চাপ পড়ে এবং ধমনির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে।
কিছু গবেষণায় রসুনের নির্যাস বা সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের সঙ্গে সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ কিছুটা কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। রক্তনালির প্রসারণ ও রক্ত চলাচল সহজ করার ক্ষেত্রেও রসুনের কিছু উপাদান ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
তবে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের পরিবর্তে রসুন খাওয়া নিরাপদ নয়।
রক্তে অতিরিক্ত এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল থাকলে ধমনির ভেতরে প্লাক জমতে পারে। এতে রক্তনালি সরু হয়ে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কিছু গবেষণায় নিয়মিত রসুন বা রসুনজাতীয় প্রস্তুতি গ্রহণের সঙ্গে মোট কোলেস্টেরল ও এলডিএল কিছুটা কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এই প্রভাব সবার ক্ষেত্রে একই রকম নাও হতে পারে।
ইস্কেমিক স্ট্রোকের একটি বড় কারণ হলো মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী কোনো ধমনি রক্ত জমাটের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া।
রসুনের কিছু উপাদান রক্তের প্লেটলেট একে অপরের সঙ্গে অতিরিক্তভাবে জমাট বাঁধার প্রবণতা কমাতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে এর অর্থ এই নয় যে রসুন চিকিৎসকের দেওয়া রক্ত পাতলা করার ওষুধের বিকল্প।
বরং যারা নিয়মিত রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান, তাদের অতিরিক্ত পরিমাণে কাঁচা রসুন বা রসুনের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
রসুনের কোয়া কাঁচা অবস্থায় চটকে, কুচি করে বা থেঁতো করে কয়েক মিনিট রেখে দিলে অ্যালিসিন তৈরির সুযোগ বাড়ে। এরপর এটি খাবারের সঙ্গে খাওয়া যেতে পারে।
অতিরিক্ত তাপে রান্না করলে অ্যালিসিন তৈরির সঙ্গে যুক্ত কিছু এনজাইমের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। তবে এর মানে এই নয় যে রান্না করা রসুনের কোনো উপকার নেই। বরং নিয়মিত ও পরিমিতভাবে খাবারের অংশ হিসেবে রসুন খাওয়াই বেশি বাস্তবসম্মত।
যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান, তাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ রসুনের কিছু উপাদান রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ছাড়া অস্ত্রোপচারের আগে বা যাদের রক্তক্ষরণের সমস্যা রয়েছে, তারা রসুনের সাপ্লিমেন্ট বা অতিরিক্ত কাঁচা রসুন খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
না, এমন নিশ্চয়তা নেই।
রসুন স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে এবং উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলের মতো কিছু ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে সামান্য সহায়তা করতে পারে। কিন্তু স্ট্রোক প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান এড়িয়ে চলা, নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ করা।
তাই শুধু এক কোয়া রসুনের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকেই স্ট্রোক প্রতিরোধের মূল কৌশল হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।