দারিদ্র্য কমাতে পুরোনো মডেলের নতুন উদ্যোগ, ৫৭৩ কোটি টাকার প্রকল্পে ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন

দারিদ্র্য কমাতে পুরোনো মডেলের নতুন উদ্যোগ, ৫৭৩ কোটি টাকার প্রকল্পে ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন

দারিদ্র্য কমাতে পুরোনো মডেলের নতুন উদ্যোগ, ৫৭৩ কোটি টাকার প্রকল্পে ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন

সেমাউল ও কুমিল্লা মডেলের সমন্বয়ে নতুন পরিকল্পনা | বিদেশে ১০৪ কর্মকর্তার প্রশিক্ষণে প্রায় ১০ কোটি টাকা | কুমিল্লায় প্রশিক্ষণকেন্দ্র নির্মাণে ৬১ কোটি | অনুদানেই প্রায় ১৩০ কোটি টাকা

গ্রামীণ মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বাড়িয়ে দারিদ্র্য কমানোর লক্ষ্য নিয়ে কয়েক দশক আগের দুটি উন্নয়ন মডেলের সমন্বয়ে নতুন একটি প্রকল্প হাতে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দক্ষিণ কোরিয়ার ‘সেমাউল’ মডেল এবং বাংলাদেশের বহুল আলোচিত ‘কুমিল্লা মডেল’-এর কার্যকর উপাদান একত্র করে পরীক্ষামূলকভাবে কুমিল্লা, ফেনী ও বগুড়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তবে প্রায় ৫৭৩ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাবিত এ প্রকল্পে প্রশিক্ষণ, বিদেশ সফর, প্রশিক্ষণকেন্দ্র নির্মাণ, যানবাহন ও বিভিন্ন অবকাঠামো খাতে বড় অঙ্কের বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, কয়েক দশক আগের উন্নয়ন ধারণাকে বর্তমান গ্রামীণ অর্থনীতির বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ করা যাবে, সেটিই প্রকল্পটির বড় চ্যালেঞ্জ।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের উদ্যোগে প্রস্তাবিত ‘সেমাউল প্লাস অ্যান্ড পোভার্টি প্রোগ্রাম’ (এসপিইপিপি) নামের কারিগরি সহায়তা প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে আট বছর ছয় মাস। এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ)।

তিন জেলায় পরীক্ষামূলক প্রয়োগ

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় কুমিল্লা, ফেনী ও বগুড়ায় দারিদ্র্য কমানোর বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্প সফল হলে পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য এলাকায় এর কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্প নথি অনুযায়ী, সরাসরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণের আওতায় আসবেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ। পাশাপাশি প্রায় ২২ হাজার ৮০০ পরিবারকে প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্প ব্যয়ের বড় অংশ দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অনুদান হিসেবে পাওয়ার কথা রয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ বহন করবে বাংলাদেশ সরকার।

সেমাউল ও কুমিল্লা মডেলের সমন্বয়

প্রস্তাবিত প্রকল্পের মূল ধারণা নেওয়া হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার ১৯৭০ সালে চালু হওয়া সেমাউল মডেল এবং ষাটের দশকে বৃহত্তর কুমিল্লায় বিকশিত কুমিল্লা মডেল থেকে।

সেমাউল মডেলের মূল দর্শনের মধ্যে ছিল কঠোর পরিশ্রম, আত্মনির্ভরতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা। অন্যদিকে কুমিল্লা মডেলে সমবায়, সঞ্চয়, তদারকির মাধ্যমে ঋণ প্রদান, স্থানীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা এবং কৃষি সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

নতুন প্রকল্পে এই দুই মডেলের বিভিন্ন উপাদান একত্র করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অর্থাৎ স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড, কৃষি উন্নয়ন, ক্ষুদ্র উদ্যোগ, সঞ্চয় ও সমবায়ভিত্তিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা থাকবে।

‘পুরোনো মডেল’ নিয়ে প্রশ্ন

প্রকল্পের ধারণা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে প্রশ্নও রয়েছে। তাদের মতে, পাঁচ দশক আগের দক্ষিণ কোরিয়া কিংবা ষাটের দশকের বাংলাদেশের গ্রামীণ বাস্তবতা এবং ২০২৬ সালের গ্রামীণ অর্থনীতি এক নয়।

আগে যোগাযোগ ও অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক গ্রাম ছিল বাজার থেকে বিচ্ছিন্ন। বর্তমানে সড়ক যোগাযোগ, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, ডিজিটাল আর্থিক সেবা এবং বাজারব্যবস্থার বিস্তারের ফলে সেই পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে।

বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতেও এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। কৃষির পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা ও বিভিন্ন সেবা খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এ কারণে অর্থনীতিবিদদের প্রশ্ন—পুরোনো মডেলের ধারণাকে নতুন নামে প্রয়োগ করার পরিবর্তে বর্তমান বাস্তবতায় কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারসংযোগ এবং গ্রামীণ বিনিয়োগ বাড়ানোর মতো বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত কি না।

বার্ডের ব্যাখ্যা, হুবহু অনুসরণ নয়

তবে প্রকল্পটির প্রস্তাবকারী প্রতিষ্ঠান বার্ড বলছে, পুরোনো মডেল হুবহু অনুসরণ করার পরিকল্পনা নেই।

বার্ডের পরিচালক ড. শেখ মাসুদুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা বা দক্ষিণ কোরিয়ার সেমাউল মডেল সরাসরি কপি করা হবে না। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দুটি মডেলের কার্যকর উপাদানগুলো ব্যবহার করা হবে।

তার মতে, সেমাউল কিংবা কুমিল্লা মডেলের মূল দর্শন—পরিশ্রম, আত্মনির্ভরতা, সহযোগিতা, স্থানীয় নেতৃত্ব ও জনগণের অংশগ্রহণ—সময় বদলালেও প্রাসঙ্গিক থাকতে পারে। তবে বর্তমান সময়ে প্রয়োগের ক্ষেত্রে সেগুলোকে আধুনিক ও বাস্তবতাসম্মত করে নেওয়া হবে।

তিনি এটিকে একটি কমিউনিটি-ভিত্তিক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, স্থানীয় জনগণের প্রয়োজন ও চাহিদাকেই এখানে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বিদেশে ১০৪ কর্মকর্তার প্রশিক্ষণে প্রায় ১০ কোটি

প্রকল্পের ব্যয় বিভাজন নিয়েই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, দারিদ্র্য কমানোর কৌশল ও মডেল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় যাবেন ১০৪ জন কর্মকর্তা। তাদের ১২টি ব্যাচে প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

এর বাইরে দেশের ভেতরে ৩৮৬টি ব্যাচে প্রশিক্ষণ আয়োজনের জন্য রাখা হয়েছে আরও ৭৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

অর্থাৎ দেশীয় ও বিদেশি প্রশিক্ষণ মিলিয়ে এ খাতে মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৮৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

প্রশ্ন উঠেছে, দারিদ্র্যবিমোচনের একটি প্রকল্পে এত বিপুল অর্থ প্রশিক্ষণ খাতে ব্যয় করা কতটা যৌক্তিক এবং বিদেশে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের মানুষের জীবনে এর প্রত্যক্ষ প্রভাব কতটা পড়বে।

৬১ কোটি টাকায় প্রশিক্ষণকেন্দ্র

শুধু প্রশিক্ষণ খাতেই প্রায় ৯০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবের পাশাপাশি কুমিল্লায় একটি পৃথক ‘এসপিইপিপি প্রশিক্ষণকেন্দ্র’ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। মোট প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় ১০ দশমিক ৭১ শতাংশ এ একটি স্থাপনা নির্মাণেই ব্যয় হওয়ার কথা।

প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য এত বড় অঙ্কের বরাদ্দ থাকার পরও আলাদাভাবে ৬১ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নতুন প্রশিক্ষণকেন্দ্র নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় ১০টি কৃষিপণ্য সংগ্রহকেন্দ্র নির্মাণের জন্য প্রায় ৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে।

অনুদানেই প্রায় ১৩০ কোটি টাকা

প্রকল্পের বড় ব্যয়ের আরেকটি খাত বিভিন্ন ধরনের অনুদান।

কমিউনিটি অবকাঠামো ও অকৃষি ব্যবসার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ৭৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। কৃষি উপকরণ, কৃষি প্রকল্প ও অবকাঠামোর জন্য আরও প্রায় ৫৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

দুই খাত মিলিয়ে অনুদানের পরিমাণ প্রায় ১৩০ কোটি টাকা।

অর্থাৎ বিদেশি ও দেশীয় প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষণকেন্দ্র নির্মাণ এবং বিভিন্ন অনুদান—এই কয়েকটি খাতেই প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে।

যানবাহন ও সরঞ্জামেও বরাদ্দ

প্রকল্পে প্রশিক্ষণকেন্দ্রের অফিস সরঞ্জাম কেনার জন্য ১৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে।

এ ছাড়া তিনটি জিপ কেনার জন্য প্রায় ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা এবং ৪১টি মোটরসাইকেলের জন্য প্রায় ১ কোটি ১ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

কম্পিউটার, ক্যামেরা, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনার জন্যও পৃথক বরাদ্দ রয়েছে।

ফলে প্রকল্পটির ব্যয়ের একটি বড় অংশ সরাসরি দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যাওয়ার পরিবর্তে প্রশিক্ষণ, স্থাপনা, প্রশাসনিক সরঞ্জাম ও অন্যান্য অবকাঠামোগত খাতে ব্যয় হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আগের প্রকল্পের অভিজ্ঞতাও সামনে

নতুন প্রকল্পের প্রস্তাবনাতেই আগের একটি প্রকল্পের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে।

২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ২০টি গ্রামে ‘বার্ড-কোইকা’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। ওই প্রকল্পের আওতায় রাস্তা, স্কুল, পানি সুবিধা, কমিউনিটি সেন্টার এবং জীবিকাভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

কিন্তু বিদেশি অনুদান শেষ হওয়ার পর প্রকল্পটির কার্যক্রম টেকসই হয়নি। প্রকল্প প্রস্তাবনায় এর পেছনে দুর্বল নজরদারি, স্থানীয় সরকারের সীমিত মালিকানা এবং গ্রাম সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়াকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই অভিজ্ঞতার পর নতুন প্রকল্পে একই ধরনের বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ে অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা কতটা টেকসই হবে—সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

টেকসই হওয়ার চ্যালেঞ্জ

দারিদ্র্যবিমোচন প্রকল্পের ক্ষেত্রে শুধু অর্থ ব্যয় বা প্রশিক্ষণ দেওয়াই যথেষ্ট নয়। স্থানীয় পর্যায়ে প্রকল্পের মালিকানা তৈরি, আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের বাজার নিশ্চিত করা, উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাওয়া এবং প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।

আগের প্রকল্পের অভিজ্ঞতায় যেখানে বিদেশি সহায়তা বন্ধ হওয়ার পর কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছিল, সেখানে নতুন প্রকল্পেও একই ঝুঁকি তৈরি হবে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে।

বিশেষ করে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রশিক্ষণকেন্দ্র, সংগ্রহকেন্দ্র ও স্থানীয় সংগঠনগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনার ব্যয় কে বহন করবে, সে বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

পরিকল্পনা কমিশনের পর্যবেক্ষণের অপেক্ষা

প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে ব্যয় নিয়ে ওঠা প্রশ্নের বিষয়ে বার্ডের পরিচালক ড. শেখ মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেই ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে পরিকল্পনা কমিশনের পর্যালোচনা সভায় প্রকল্পটির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং কমিশনের প্রতিনিধিরা একাধিক বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

বার্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিকল্পনা কমিশন যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যয় ও কার্যক্রমকে যৌক্তিক মনে না করবে, ততক্ষণ প্রকল্পটি ইতিবাচক অনুমোদনের পর্যায়ে যাবে না। কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী প্রকল্পটি পুনর্গঠন করে আবার পাঠানো হবে।

ফলে ৫৭৩ কোটি ২১ লাখ টাকার ‘সেমাউল প্লাস অ্যান্ড পোভার্টি প্রোগ্রাম’ শেষ পর্যন্ত কী আকারে অনুমোদন পায়, কোন খাতে কত অর্থ বরাদ্দ থাকে এবং প্রকল্পের দারিদ্র্যবিমোচন কার্যক্রমে সরাসরি কতটা অর্থ পৌঁছায়—তা এখন দেখার বিষয়।