আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : শনিবার ৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
থেকে উঠেই সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস ধূমপানের ওপর নির্ভরশীলতা ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। ছবি: সংগৃহীত
ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর—এ কথা কমবেশি সবারই জানা। নিয়মিত ধূমপানে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বাড়ে ক্যানসার, হৃদরোগ ও ফুসফুসের নানা জটিল রোগের ঝুঁকি। তবে অনেকেরই ঘুম থেকে উঠেই সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের শুরুতেই ধূমপানের এই অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য আরও ক্ষতিকর হতে পারে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুম থেকে ওঠার পর দ্রুত প্রথম সিগারেট ধরানোর অভ্যাস মুখ ও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। একই সঙ্গে ঘুম থেকে ওঠার কতক্ষণ পর কেউ প্রথম সিগারেট খান, তা তার নিকোটিননির্ভরতার মাত্রারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুম থেকে ওঠার আধা ঘণ্টার মধ্যে যারা ধূমপান করেন, তাদের মুখ ও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির বায়োবিহেভিয়োরাল হেলথ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক স্টিভেন ব্র্যানস্টেটারের মতে, ঘুম থেকে ওঠার পরপরই সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস থাকলে রক্তে এনএনএএল নামের একটি রাসায়নিকের মাত্রা বেশি পাওয়া যেতে পারে। এই রাসায়নিকের মাত্রা ধূমপানের তীব্রতার সঙ্গে সম্পর্কিত।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, তামাক ব্যবহারের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। তামাক সেবনের কারণে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ে এবং অকালমৃত্যুর সম্ভাবনাও তৈরি হয়।
ফুসফুসের ক্ষতি: ধূমপান ফুসফুসের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। এতে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), ব্রংকাইটিস ও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।
হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি: সিগারেটের ক্ষতিকর রাসায়নিক রক্তনালির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, রক্তচাপ বাড়াতে পারে এবং হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার: ধূমপান শুধু ফুসফুসের নয়, মুখগহ্বর, গলা, অগ্ন্যাশয়, মূত্রাশয়সহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় প্রভাব: দীর্ঘদিন ধূমপান করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হতে পারে। ফলে বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
ঘুমের সময় শরীর বিশ্রাম নেয় এবং বিভিন্ন শারীরিক প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে। ঘুম থেকে ওঠার পরপরই সিগারেট খেলে নিকোটিনসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করে।
বিশেষ করে ঘুম থেকে ওঠার ৩০ মিনিটের মধ্যে নিয়মিত প্রথম সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস থাকলে ধূমপানের ওপর নির্ভরশীলতার মাত্রা বেশি হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সকালে চা বা কফির সঙ্গে সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস থাকলেও ধূমপানের ক্ষতি কমে না।
ধূমপানের ক্ষতি থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো পুরোপুরি ধূমপান ছেড়ে দেওয়া। তবে দীর্ঘদিনের অভ্যাস হওয়ায় অনেকের জন্য হঠাৎ ধূমপান বন্ধ করা কঠিন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
কাউন্সেলিং এবং নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (এনআরটি) অনেকের ক্ষেত্রে ধূমপান ছাড়ার প্রক্রিয়ায় সহায়ক হতে পারে।
সুস্থ থাকতে তাই ধূমপান থেকে দূরে থাকা জরুরি। দিনের শুরুতে সিগারেটের পরিবর্তে হাঁটা, শরীরচর্চা বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।