জরুরি বিল দিতে টাকা নেই? ব্যাংক অ্যাপেই মিলবে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ

জরুরি বিল দিতে টাকা নেই? ব্যাংক অ্যাপেই মিলবে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ

সংগৃহীত

বিদ্যুৎ-গ্যাস বিল থেকে হাসপাতালের খরচ, স্কুল ফি—তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে ব্যাংক অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য চালু হচ্ছে ‘জরুরি পেমেন্ট সেবা’

হঠাৎ কোনো জরুরি খরচ সামনে এলে অনেকেরই সাময়িক অর্থসংকটে পড়তে হয়। বিদ্যুৎ বা গ্যাসের বিল, সন্তানের স্কুলের ফি, হাসপাতালের খরচ কিংবা নিয়মিত কোনো কিস্তি পরিশোধের মতো প্রয়োজনীয় ব্যয় সময়মতো মেটানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন একটি ডিজিটাল ঋণসুবিধা চালু করা হয়েছে।

এই সুবিধার আওতায় নির্দিষ্ট জরুরি পেমেন্ট পরিশোধের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে এই অর্থ গ্রাহকের হাতে নগদ হিসেবে দেওয়া হবে না। বরং নির্ধারিত সেবা বা বিল পরিশোধের ক্ষেত্রেই অর্থটি ব্যবহার করা যাবে।

সেবাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘জরুরি পেমেন্ট সেবা’।

নগদ টাকা নয়, সরাসরি হবে পেমেন্ট

নতুন এই ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—ঋণের অর্থ সাধারণ ঋণের মতো গ্রাহকের হাতে নগদ হিসেবে আসবে না। জরুরি প্রয়োজনের নির্দিষ্ট খাতেই অর্থ ব্যবহার করতে হবে।

এর আওতায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল পরিশোধ, মোবাইল রিচার্জ, সন্তানের স্কুলের ফি, হাসপাতালের বিল, ডিপিএসের কিস্তি এবং বিমার প্রিমিয়াম পরিশোধের মতো প্রয়োজনীয় খরচ মেটানো যাবে।

অর্থাৎ, কোনো গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকলেও নির্দিষ্ট জরুরি পেমেন্টের ক্ষেত্রে এই সুবিধা সাময়িক আর্থিক সহায়তা হিসেবে কাজ করতে পারে।

সুদ নেই, তবে নির্ধারিত ফি দিতে হবে

এই ঋণের ক্ষেত্রে কোনো সুদ নেওয়া হবে না। তবে ঋণের পরিমাণ ও পরিশোধের মেয়াদ অনুযায়ী নির্ধারিত একটি ফি দিতে হবে।

ঋণ পরিশোধের জন্য তিনটি মেয়াদ রাখা হয়েছে—৭ দিন, ১৫ দিন ও ৩০ দিন।

নির্ধারিত ফি কাঠামো অনুযায়ী—

ঋণের পরিমাণ৭ দিন১৫ দিন৩০ দিন
৫০–২৫০ টাকা৩ টাকা৪ টাকা৬ টাকা
২৫১–৫০০ টাকা৫ টাকা৮ টাকা১৫ টাকা
৫০১–১,০০০ টাকা৭ টাকা১২ টাকা২০ টাকা
১,০০১–২,০০০ টাকা১০ টাকা২০ টাকা৩০ টাকা
২,০০১–৩,০০০ টাকা১৫ টাকা৩০ টাকা৫০ টাকা
৩,০০১–৫,০০০ টাকা২০ টাকা৪০ টাকা৭০ টাকা
৫,০০১–৭,০০০ টাকা২৫ টাকা৫০ টাকা৯০ টাকা
৭,০০১–১০,০০০ টাকা৩৫ টাকা৭০ টাকা১৩০ টাকা

উদাহরণ হিসেবে, কেউ যদি ১০ হাজার টাকা এই সুবিধার আওতায় নেন, তাহলে ৩০ দিনের জন্য নির্ধারিত ফি হবে ১৩০ টাকা। একই পরিমাণ অর্থ ১৫ দিনের মধ্যে পরিশোধ করলে ফি হবে ৭০ টাকা এবং ৭ দিনের জন্য ৩৫ টাকা।

কারা পাবেন এই সুবিধা?

এই সুবিধা মূলত ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য। তবে শুধু ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সবাই এই ঋণ পাবেন—বিষয়টি এমন নয়।

কোন গ্রাহক এই সুবিধার জন্য যোগ্য হবেন এবং তাকে কত টাকা পর্যন্ত দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেবে।

অর্থাৎ, গ্রাহকের ব্যাংকিং সম্পর্ক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতেই সুবিধাটি পাওয়া যাবে।

জরুরি মুহূর্তে কতটা কাজে আসতে পারে?

জরুরি সময়ে অনেক খরচই এমন থাকে, যেগুলো বিলম্ব করা সম্ভব হয় না। বিদ্যুৎ বা গ্যাসের বিল, সন্তানের শিক্ষার খরচ কিংবা হাসপাতালের বিল—এসব ক্ষেত্রে হাতে থাকা অর্থের ঘাটতি সাময়িক সমস্যার কারণ হতে পারে।

নতুন এই সুবিধার লক্ষ্য সেই সাময়িক ঘাটতি মোকাবিলায় একটি ডিজিটাল পথ তৈরি করা। বিশেষ করে যেসব গ্রাহক নিয়মিত ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করেন, তাদের জন্য নির্দিষ্ট পেমেন্ট সরাসরি সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি ঋণের বিকল্প নয়। মূলত স্বল্প সময়ের প্রয়োজন মেটানোর জন্যই সুবিধাটি তৈরি করা হয়েছে।

ডিজিটাল লেনদেনে নতুন মাত্রা

ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে ডিজিটাল পেমেন্টকে আরও যুক্ত করার ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগের গুরুত্ব রয়েছে। কারণ এখানে গ্রাহককে নগদ টাকা হাতে দেওয়ার পরিবর্তে প্রয়োজনীয় বিল বা নির্ধারিত পেমেন্ট সরাসরি সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ফলে একজন গ্রাহকের জরুরি আর্থিক প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহারও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

সিটি ব্যাংকের ডিএমডি অরূপ হায়দার মনে করেন, জরুরি সময়ে সাময়িক তারল্য সংকট মোকাবিলায় এ ধরনের সুবিধা সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে এটি ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারে উৎসাহ তৈরি করতে পারে এবং নগদনির্ভরতা কমিয়ে ক্যাশলেস লেনদেনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—ব্যাংকের সিদ্ধান্ত

এই সুবিধা নিয়ে গ্রাহকদের একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে জানা জরুরি। ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করলেই যে প্রত্যেক গ্রাহক একই পরিমাণ ঋণ পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই।

কারা সুবিধাটি পাবেন এবং প্রত্যেক গ্রাহকের জন্য ঋণের পরিমাণ কত হবে—সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

অর্থাৎ, নতুন এই ব্যবস্থা জরুরি সময়ে একটি বিকল্প অর্থসংস্থানের সুযোগ তৈরি করলেও এর সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকের নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্তই চূড়ান্ত বিষয়।

নগদ ঋণের বদলে নির্দিষ্ট প্রয়োজন

নতুন এই সেবার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ঋণের অর্থ ইচ্ছামতো খরচ করার সুযোগ নেই। বরং নির্ধারিত জরুরি সেবার পেমেন্টের জন্যই অর্থ ব্যবহার করতে হবে।

এতে একদিকে যেমন জরুরি বিল পরিশোধের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে ঋণের অর্থ নির্দিষ্ট প্রয়োজনেই ব্যবহারের কাঠামো রাখা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ‘জরুরি পেমেন্ট সেবা’ এমন একটি ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহারকারীরা সাময়িক অর্থসংকটের সময়ে নির্দিষ্ট জরুরি পেমেন্ট পরিশোধের সুযোগ পাবেন। সুদ না থাকলেও নির্ধারিত ফি দিতে হবে এবং সুবিধা পাওয়া যাবে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সিদ্ধান্তের ওপর।

জরুরি সময়ে দ্রুত পেমেন্টের সুযোগ এবং ডিজিটাল লেনদেনকে উৎসাহিত করার দিক থেকে এই উদ্যোগটি ব্যাংকিং সেবায় নতুন একটি মাত্রা যোগ করতে পারে।