ক দশকে ২ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা ব্যয়, তবুও জলাবদ্ধতায় ডুবছে ঢাকা

ক দশকে ২ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা ব্যয়, তবুও জলাবদ্ধতায় ডুবছে ঢাকা

সংগৃহীত

ড্রেন-খাল নির্মাণ ও সংস্কারে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও কাটেনি নগরীর জলাবদ্ধতা; সমন্বয়হীনতা, অপরিকল্পিত অবকাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা

ঢাকায় দুই থেকে তিন ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিই অনেক সময় নগরজীবনকে কার্যত অচল করে দেয়। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যায় সড়ক। বিকল হয়ে পড়ে যানবাহন, ব্যাহত হয় মানুষের চলাচল, নষ্ট হয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পণ্য ও কর্মঘণ্টা। অথচ জলাবদ্ধতা নিরসনে বছরের পর বছর ধরে বিপুল অর্থ ব্যয় করে যাচ্ছে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা।

ঢাকা ওয়াসা ও দুই সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল পর্যন্ত এক দশকে নালা নির্মাণ ও সংস্কার, খাল পরিষ্কার এবং জলাবদ্ধতা নিরসনসহ বিভিন্ন কাজে অন্তত ২ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। অর্থাৎ হিসাব করলে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এরপরও বর্ষা এলেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফিরে আসে একই চিত্র।

জলাবদ্ধতা নিরসনে এত অর্থ ব্যয়ের পরও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার পেছনে অনিয়ম, অপরিকল্পিত অবকাঠামো, অপর্যাপ্ত নিষ্কাশনক্ষমতা, খাল-জলাশয় দখল ও ভরাট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

দশ বছরে ব্যয় ২ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা

২০১৫-১৬ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নালা নির্মাণ ও সংস্কারে ৬০৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয় করে। একই সময়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ব্যয় করে ৭১১ কোটি টাকা। প্রায় একই সময়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকা ওয়াসার ব্যয় ছিল প্রায় ১০০ কোটি টাকা। তিন সংস্থার ব্যয় মিলিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা।

২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে খাল ও পানি নিষ্কাশনের দায়িত্ব দুই সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর ২০২৪ সাল পর্যন্ত চার বছরে দুই সিটি করপোরেশন আরও অন্তত ৭৩০ কোটি টাকা ব্যয় করে।

আগের ব্যয়ের সঙ্গে এ অর্থ যোগ করলে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জলাবদ্ধতা নিরসন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোতে ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় অন্তত ২ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা। বিপুল এই ব্যয়ের পরও নগরীর জলাবদ্ধতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

এর বাইরে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুই সিটি করপোরেশনের জন্য জলাবদ্ধতা নিরসনে বরাদ্দ ছিল ১৬৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ডিএসসিসির ১১৫ কোটি এবং ডিএনসিসির ৫০ কোটি টাকা।

শত কোটি টাকার ড্রেনেও কমেনি পানি

জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের পরও বিভিন্ন এলাকায় কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার উদাহরণ রয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে শান্তিনগর ও আশপাশের এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় করে ডিএসসিসি। মালিবাগ রেলক্রসিং থেকে বিজয়নগর পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার স্টর্ম ড্রেনেজ লাইন নির্মাণে এ অর্থ ব্যয় হয়।

ডিএসসিসির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নতুন ড্রেন দিয়ে বৃষ্টির পানি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছালেও পরবর্তী ধাপে তা দ্রুত নিষ্কাশন করা যাচ্ছে না। ভাটিতে থাকা পাম্প স্টেশনগুলোর পর্যাপ্ত নিষ্কাশনক্ষমতা না থাকাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারা।

ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কেও একই ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। ২০২১ সালে ওই সড়কের নিচ দিয়ে প্রায় ২০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে এক কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ করে ডিএসসিসি। সেখানে আরসিসি ড্রেন নির্মাণের কথা থাকলেও পরে নকশা পরিবর্তন করে কংক্রিটের পাইপলাইন বসানো হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রধান ড্রেনটি নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। ফলে পলিমাটি ও বর্জ্য জমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রকল্পেই অনিয়মের অভিযোগ

জলাবদ্ধতা নিরসন ও ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বেইলি রোডে ডিএসসিসির ফুটপাত ও ড্রেনেজ উন্নয়ন কার্যক্রমে নির্ধারিত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার না করা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর উপস্থিতি ছাড়া রাতে ঢালাইয়ের কাজ করার অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়।

পরে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।

বর্ষা এলেই ফিরে আসে পুরোনো দুর্ভোগ

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার চিত্র দেখা যায়। এ বছরও সামান্য থেকে মাঝারি বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে নগরবাসীকে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। নিউমার্কেট এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে ব্যবসায়ীদের পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।

৩০ জুন জাতীয় সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৪১টি জলাবদ্ধতাপ্রবণ হটস্পট রয়েছে। এর মধ্যে ডিএনসিসি এলাকায় ১০৮টি এবং ডিএসসিসি এলাকায় ৩৩টি।

ডিএনসিসি জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় তাদের ১০টি অঞ্চলে ২১টি কুইক রেসপন্স টিম গঠন করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংস্থাটি ১১৫ কিলোমিটার রাস্তা ও ১২০ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি ২৯টি খাল উদ্ধার ও সীমানা নির্ধারণে পিলার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আউটলেট ও খাল সংস্কারে নতুন উদ্যোগ

ডিএসসিসি এলাকায় কমলাপুর-টিটিপাড়া, ধোলাইখাল ও হাতিরঝিলের আউটলেট দিয়ে পানি নিষ্কাশিত হয়। তবে এসব আউটলেটের ধারণক্ষমতা অপ্রতুল হওয়ায় নতুন দুটি আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘মেট্রো ঢাকা রেজিলেন্স প্রকল্প’-এর আওতায় গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত আরও একটি আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনাও প্রক্রিয়াধীন।

এ ছাড়া খাল পুনরুদ্ধারে ৮৯৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে কালুনগর, জিরানি, মান্ডা ও শ্যামপুর খাল সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ২৪ জুন অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এ উদ্যোগ অনুমোদন করে।

মাস্টার প্ল্যান হয়েছে একাধিক, বাস্তবায়ন হয়নি পূর্ণাঙ্গভাবে

ঢাকার জলাবদ্ধতা নতুন সমস্যা নয়। স্বাধীনতার পর থেকেই বৃষ্টির সময় নগরীর বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ছিল। তবে সে সময় নগরীর আয়তন ও জনসংখ্যা তুলনামূলক কম থাকায় সমস্যাটিও ছিল সীমিত।

ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঢাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন সময়ে একাধিক মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ১৯৬৮ সালে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ঢাকার প্রথম ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করে। পরে ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পর ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার হাতে দেওয়া হয়।

সর্বশেষ ২০১৫ থেকে ২০৪০ সাল পর্যন্ত ২৫ বছর মেয়াদি ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করে ঢাকা ওয়াসা। পরিকল্পনাটি তিন ধাপে বাস্তবায়নের কথা ছিল। প্রথম ধাপ ২০১৫-২০, দ্বিতীয় ধাপ ২০২০-৩০ এবং তৃতীয় ধাপ ২০৩০-৪০ সাল পর্যন্ত।

তবে এক দশক পেরিয়ে গেলেও পরিকল্পনাটির প্রথম ধাপ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। দ্বিতীয় ধাপেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ঘাটতির কথা বিশেষজ্ঞদের

নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আকতার মাহমুদের মতে, গত এক দশকে জলাবদ্ধতা নিরসনে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, তার বড় অংশই ড্রেন ও খাল পরিষ্কারের মতো স্বল্পমেয়াদি কাজে খরচ হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ড্রেনেজ অবকাঠামোর জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ যথেষ্ট হয়নি বলে তিনি মনে করেন।

তার মতে, ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যানে জলাধার ও ওয়াটার রিটেনশন পন্ড তৈরির মতো যেসব প্রস্তাব ছিল, সেগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে নেওয়া মাস্টার প্ল্যানের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়াকেও তিনি বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন।

ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. আদিল মুহাম্মদ খানও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবের কথা উল্লেখ করেছেন। তার মতে, খাল পরিষ্কার করার পর আবার সেখানে বর্জ্য জমা হলে সেই কাজের স্থায়ী সুফল পাওয়া যায় না। কোথাও পানি জমে থাকা অবস্থায় সড়ক উঁচু করার ফলে আশপাশের মানুষের বসতবাড়িতে পানি ঢোকার মতো সমস্যাও তৈরি হচ্ছে।

এক সংস্থার পক্ষে সমাধান সম্ভব নয়

ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমানের ভাষ্য, ঢাকার খালগুলো আবর্জনায় ভরা, বক্স কালভার্টগুলোর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত, রিটেনশন পন্ডগুলো দখলে এবং নিচু জমি ভরাট হয়ে গেছে। ফলে শুধু সিটি করপোরেশনের পক্ষে জলাবদ্ধতার মতো বড় সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়।

তিনি মনে করেন, এ ক্ষেত্রে ঢাকা ওয়াসা, রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।

অন্যদিকে ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ রাকিবুল হাসান বলেন, ঢাকা ওয়াসা ৪৩টির মধ্যে ২৯টি খাল হস্তান্তর করলেও সেগুলোর সীমানা ও আয়তনের দালিলিক হিসাব দেওয়া হয়নি। তার মতে, ঢাকার প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার পাইপলাইন থাকলেও পর্যাপ্ত সুয়্যারেজ লাইন না থাকায় গৃহস্থালি ও পয়োবর্জ্যে ড্রেন বন্ধ হয়ে যায়।

মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো বড় প্রকল্পের নির্মাণকাজ এবং শহরের সম্প্রসারিত এলাকায় জলাশয় ভরাটের কারণেও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে খালের সীমানা ও অবকাঠামো হস্তান্তর নিয়ে ডিএনসিসির বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন ঢাকা ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল মজিদ। তার দাবি, পাম্পহাউস থেকে ম্যানহোলের কাভার পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অবকাঠামো আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া কি কাটবে জলাবদ্ধতা?

ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে বছরের পর বছর ধরে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। নতুন ড্রেন নির্মাণ, খাল পরিষ্কার কিংবা তাৎক্ষণিক পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নগরীর সামগ্রিক পানি প্রবাহব্যবস্থা, জলাধার সংরক্ষণ, রিটেনশন পন্ড, খাল ও বক্স কালভার্টের সক্ষমতা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একসঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে কি না—এ প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যে একটি বিষয়ই স্পষ্ট—শুধু বরাদ্দ বাড়ানো বা বিচ্ছিন্নভাবে ড্রেন নির্মাণ করলেই ঢাকার জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হবে না। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়ন, সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়, প্রাকৃতিক জলাধার ও প্রবাহপথ রক্ষা এবং নির্মিত অবকাঠামোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ। তা না হলে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও বৃষ্টি এলেই ঢাকার সড়কে জমতে পারে সেই চেনা পানি।