আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : শনিবার ৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৯ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
পৃথিবী ও থেইয়ার সংঘর্ষের পর চাঁদের সম্ভাব্য সৃষ্টি নিয়ে বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণা।
চাঁদের জন্ম নিয়ে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের ধারণায় নতুন তথ্য যোগ হয়েছে। নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, পৃথিবী ও ‘থেইয়া’ নামের একটি মহাজাগতিক বস্তুর ভয়াবহ সংঘর্ষের মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই চাঁদের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।
বিজ্ঞানীদের প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে মঙ্গল গ্রহের আকারের একটি মহাজাগতিক বস্তু পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। ওই বস্তুকেই ‘থেইয়া’ নামে অভিহিত করা হয়।
ধারণা করা হয়, সংঘর্ষের ফলে পৃথিবী ও থেইয়ার বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এসব ধ্বংসাবশেষ ধীরে ধীরে একত্রিত হয়ে চাঁদের সৃষ্টি হয়। তবে নতুন গবেষণা বলছে, চাঁদ তৈরির প্রক্রিয়াটি এত দীর্ঘ সময় ধরে চলার প্রয়োজন নাও হতে পারে।
গবেষকদের মতে, সংঘর্ষের সময় পৃথিবী ও থেইয়া কতটা উত্তপ্ত ছিল এবং তাদের উপাদান কতটা শক্ত ছিল—চাঁদের গঠনে এই দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আগের গবেষণাগুলোতে এসব বিষয়কে তুলনামূলক কম গুরুত্ব দেওয়া হলেও নতুন গবেষণায় সেগুলোকে হিসাবের মধ্যে রাখা হয়েছে। এ জন্য বিজ্ঞানীরা তৈরি করেছেন নতুন ধরনের কম্পিউটার সিমুলেশন, যেখানে সংঘর্ষের সময় পৃথিবী ও থেইয়ার তাপমাত্রা এবং বস্তুগত শক্তির পরিবর্তনও বিবেচনা করা হয়েছে।
গবেষণাটির নেতৃত্ব দিয়েছেন সাউথওয়েস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী অ্যাডিন ডেন্টন। তার মতে, সংঘর্ষে অংশ নেওয়া দুটি মহাজাগতিক বস্তুর শক্তি ও তাপমাত্রা সংঘর্ষের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সিমুলেশনে দেখা গেছে, সংঘর্ষের সময় পৃথিবী ও থেইয়া যত বেশি উত্তপ্ত থাকবে, তাদের উপাদান তত দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে তুলনামূলক ঠান্ডা উপাদান বেশি শক্ত থাকতে পারে। এর ফলে একই ধরনের সংঘর্ষ থেকেও ভিন্ন ফল পাওয়া সম্ভব।
কিছু সিমুলেশনে দেখা গেছে, সংঘর্ষের পর পৃথিবী ও থেইয়া ভেঙে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ তৈরি করে। পরে এসব ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীকে ঘিরে একটি বলয় তৈরি করতে পারে। সময়ের সঙ্গে সেই বলয় থেকে চাঁদের সৃষ্টি হতে পারে—যা প্রচলিত ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে অন্য কিছু সিমুলেশনে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। সেখানে সংঘর্ষের মাত্র প্রায় পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই একটি অক্ষত চাঁদ তৈরি হতে দেখা গেছে।
গবেষণার এই ফলাফল থেকে ধারণা করা হচ্ছে, চাঁদের জন্মের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে ধ্বংসাবশেষ একত্রিত হওয়ার প্রক্রিয়াই একমাত্র সম্ভাব্য ব্যাখ্যা নয়। তবে চাঁদের প্রকৃত উৎপত্তি সম্পর্কে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।