আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : সোমবার ৩১শে আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৮ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ঘুমের মধ্যে নিয়মিত লালা ঝরে? যেসব সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে
ঘুমের মধ্যে ছোট শিশুদের মুখ থেকে লালা পড়া খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। তবে বয়স বাড়ার পরও যদি নিয়মিত ঘুমের মধ্যে মুখ থেকে অতিরিক্ত লালা ঝরতে থাকে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের সময় অতিরিক্ত লালা পড়া শরীরের ভেতরের কোনো শারীরিক সমস্যা বা অসুস্থতার লক্ষণ হতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্কদের ঘুমের মধ্যে নিয়মিত লালা ঝরার সঙ্গে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে। নাক ও মুখের অ্যালার্জি, সাইনাসের সমস্যা, অতিরিক্ত অ্যাসিডিটি কিংবা মুখের সংক্রমণের কারণে এমনটি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে স্নায়বিক সমস্যার কারণেও অতিরিক্ত লালা ঝরতে পারে। এমনকি স্ট্রোকের রোগীদের মধ্যেও এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
যেসব কারণে ঘুমের মধ্যে লালা ঝরতে পারে—
১. নাক বা মুখের অ্যালার্জি: নাক কিংবা মুখে অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। এতে ঘুমের সময় মুখ থেকে লালা পড়তে পারে।
২. ঘুমের সমস্যা: ঘুমের সময় মুখের পেশি শিথিল হয়ে গেলে লালা সহজেই মুখের বাইরে চলে আসতে পারে।
৩. সাইনাসের সমস্যা: সাইনাসে প্রদাহ বা নাক বন্ধ থাকার কারণে ঘুমের সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হয়। এ কারণেও লালা ঝরার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৪. অ্যাসিডিটি বা অতিরিক্ত গ্যাস: পেটে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হলে শরীরে লালা উৎপাদনের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। এর ফলেও ঘুমের মধ্যে লালা ঝরতে পারে।
৫. মুখের সংক্রমণ: দাঁত, মাড়ি বা মুখের ভেতরে কোনো ধরনের সংক্রমণ থাকলেও অতিরিক্ত লালা তৈরি হতে পারে।
৬. স্নায়বিক সমস্যা: কিছু স্নায়বিক রোগের ক্ষেত্রেও লালা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে সেরিব্রাল পালসির সঙ্গে অতিরিক্ত লালা ঝরার সম্পর্ক থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের মধ্যে লালা পড়ার সমস্যা কমাতে জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনা যেতে পারে। রাতে ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত মসলাদার খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। কারণ ঝাল ও মসলাদার খাবার অ্যাসিডিটি বাড়াতে পারে, যা পরোক্ষভাবে লালা উৎপাদন বাড়াতে পারে।
ঘুমানোর সময় মাথা কিছুটা উঁচু করে রাখলেও অনেকের ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে লালা পড়ার সমস্যা কমতে পারে। পাশাপাশি প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে।
রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভালোভাবে দাঁত ব্রাশ করা এবং নিয়মিত মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো থাকলে সংক্রমণজনিত অতিরিক্ত লালা ঝরার ঝুঁকি কমতে পারে।
তবে ঘুমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিকভাবে অতিরিক্ত লালা ঝরতে থাকলে বা এর সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, সমস্যাটির প্রকৃত কারণ শনাক্ত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।