আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : রবিবার ৩০শে আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৮ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের শিকারদের দেশে ফেরাতে RDMS চালু
মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের শিকার বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশ থেকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, কার্যকর ও সমন্বিত করতে রিপ্যাট্রিয়েশন ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (RDMS) চালু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বোর্ডরুমে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্পেশাল ব্রাঞ্চ বাংলাদেশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নুরুল আমিন, স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডিআইজি, এসসিও জাহাঙ্গীর হোসেন এবং অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের কাউন্সেলর রুবেন গ্রে। স্বাগত বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান। আরডিএমএসের উদ্দেশ্য ও সুবিধা তুলে ধরেন জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর তারিকুল ইসলাম।
সভাপতির বক্তব্যে ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধ এবং উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পুনরেকত্রীকরণ প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থায় আরডিএমএস অন্তর্ভুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। এ প্ল্যাটফর্মে দেশে ফিরে আসা ব্যক্তি ও সারভাইভারদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করা হবে।
তিনি জানান, আরডিএমএস ইতোমধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ডাটাবেজের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। শিশুদের সঠিকভাবে শনাক্ত করার জন্য জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এবং পাসপোর্ট সেবার সঙ্গেও সিস্টেমটি সমন্বয়ের কাজ চলছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় আরডিএমএস তৈরি করা হয়েছে। সিস্টেমটির উন্নয়ন ও আপগ্রেডেশনে অস্ট্রেলিয়া সরকার সহযোগিতা করেছে। এটি একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের শিকার বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশ থেকে দেশে ফেরানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হবে।
বিদেশে থাকা কোনো বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে জাতীয়তা যাচাই, পুলিশ রেকর্ড পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগসহ বেশ কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। এতদিন এসব কাজের বড় একটি অংশ কাগজপত্র ও চিঠিপত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সময় লাগত। নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা এ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও দ্রুত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরডিএমএসের মাধ্যমে প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত মামলার তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা যাবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় বাড়বে, জাতীয়তা ও পুলিশ রেকর্ড যাচাই দ্রুত করা সম্ভব হবে এবং প্রত্যাবাসনের প্রতিটি ধাপের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
এ ছাড়া সিস্টেমটির মাধ্যমে রিয়েল-টাইমে প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিবেদন তৈরির সুযোগ থাকবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি হাইকমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও আরও নির্ধারিত ও সমন্বিত পদ্ধতিতে দেশে ফেরানোর আবেদন করতে পারবে।
ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্যের নিরাপত্তাকেও আরডিএমএসে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিরাপদভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আরডিএমএস চালুর ফলে বিদেশ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত, নিরাপদ, স্বচ্ছ ও মর্যাদাপূর্ণ করার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরডিএমএস উন্নয়ন ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ, জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া সরকারসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ধন্যবাদ জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনের প্রতিনিধি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।