আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : সোমবার ২১শে সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৯ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
সংগৃহীত
শিশু স্কুলে, কোচিংয়ে কিংবা বাইরে যাওয়ার পর ঠিক কোথায় আছে—এমন প্রশ্ন নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ নতুন নয়। বিশেষ করে শিশু নিখোঁজ হওয়ার বিভিন্ন ঘটনায় এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে। প্রযুক্তির সহায়তায় এখন ছোট আকারের জিপিএস ট্র্যাকার ব্যবহার করে শিশুর অবস্থান সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ছোট আকারের ব্যক্তিগত ট্র্যাকার, শিশুদের জন্য তৈরি বিশেষ ট্র্যাকার এবং জিপিএস সুবিধাযুক্ত স্মার্টওয়াচ। এসব ডিভাইসে লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের পাশাপাশি জিওফেন্স, লোকেশন হিস্ট্রি, এসওএস বাটন, ভয়েস কলসহ নানা সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে।
তবে শিশুর জন্য ট্র্যাকার কেনার ক্ষেত্রে শুধু দাম বা ফিচারের সংখ্যা বিবেচনা করলেই হবে না। ডিভাইসটির আকার, ওজন, ব্যাটারি ব্যাকআপ, মোবাইল নেটওয়ার্ক, লোকেশন আপডেটের সক্ষমতা, অ্যাপের কার্যকারিতা এবং শিশুর জন্য সেটি কতটা নিরাপদ—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
জিপিএস ট্র্যাকারকে অনেকেই এমন একটি যন্ত্র হিসেবে ভাবেন, যা সরাসরি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে অনুসরণ করে। বাস্তবে প্রক্রিয়াটি কিছুটা ভিন্ন।
জিপিএস স্যাটেলাইট পৃথিবীর দিকে বেতার সংকেত পাঠায়। ট্র্যাকার সেই সংকেত গ্রহণ করে নিজের অবস্থান নির্ণয় করে। এরপর সেই অবস্থানের তথ্য অভিভাবকের কাছে পাঠাতে সাধারণত মোবাইল নেটওয়ার্ক ও সিমের প্রয়োজন হয়।
শিশুদের জন্য ব্যবহৃত অনেক ৪জি ট্র্যাকার এভাবেই কাজ করে। ডিভাইসটি জিপিএসের মাধ্যমে অবস্থান নির্ণয় করে এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সেই তথ্য নির্দিষ্ট অ্যাপ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাঠায়।
এ কারণে শুধু ডিভাইসে ‘জিপিএস’ লেখা থাকলেই সেটি ভালো ট্র্যাকার—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কোন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে, ৪জি সমর্থন করে কি না, লোকেশন কত ঘন ঘন আপডেট হয় এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাপ কতটা কার্যকর—এসব বিষয়ও দেখতে হবে।
জিপিএসের অবস্থান নির্ণয়ের সক্ষমতা সব জায়গায় সমান থাকে না। খোলা জায়গায় সাধারণত ভালো সংকেত পাওয়া গেলেও ভবনের ভেতর, উঁচু ভবনের আশপাশে, ঘন গাছপালা বা অন্যান্য বাধার কারণে নির্ভুলতা কমতে পারে।
জিপিএস ডটগভের তথ্য অনুযায়ী, খোলা আকাশের নিচে সাধারণ স্মার্টফোন প্রায় ৪ দশমিক ৯ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে অবস্থান দেখাতে পারে। তবে পরিবেশ ও সংকেতের ওপর নির্ভর করে বাস্তব নির্ভুলতা পরিবর্তিত হতে পারে।
এ ছাড়া অনেক ট্র্যাকার জিপিএসের পাশাপাশি এলবিএস ও ওয়াই-ফাই পজিশনিং ব্যবহার করে। ফলে কোনো অবস্থায় জিপিএস সংকেত দুর্বল হলেও অন্য পদ্ধতি ব্যবহার করে আনুমানিক অবস্থান দেখানো সম্ভব হতে পারে।
শিশুর জন্য একটি ট্র্যাকার ব্যবহারের অন্যতম সুবিধা হলো, বাইরে থাকা অবস্থায় তার সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে অভিভাবক ধারণা নিতে পারেন।
কিছু ডিভাইসে জিওফেন্সিং সুবিধা থাকে। এর মাধ্যমে বাসা, স্কুল বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট এলাকাকে নিরাপদ সীমানা হিসেবে নির্ধারণ করা যায়। শিশু ওই এলাকার বাইরে চলে গেলে অভিভাবকের কাছে সতর্কবার্তা পাঠাতে পারে ডিভাইস বা অ্যাপ।
আবার কিছু ট্র্যাকার আগের অবস্থানের তথ্য সংরক্ষণ করে। ফলে শিশুটি কোন পথে বা কোন কোন এলাকায় গেছে, তার একটি ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
কিছু মডেলে থাকে এসওএস বাটন। শিশু কোনো সমস্যায় পড়লে নির্দিষ্ট বাটনে চাপ দিয়ে অভিভাবকের কাছে সতর্কবার্তা পাঠাতে পারে।
তবে এসব সুবিধা থাকার অর্থ এই নয় যে ট্র্যাকার শিশুর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে।
যেকোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মতো জিপিএস ট্র্যাকারও বিভিন্ন কারণে কাজ নাও করতে পারে।
ব্যাটারি শেষ হয়ে গেলে অবস্থান পাঠানো বন্ধ হয়ে যাবে। মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকলেও সমস্যা হতে পারে। আবার শিশু ট্র্যাকারটি খুলে ফেললে বা ডিভাইসটি হারিয়ে গেলে সেটির মাধ্যমে আর অবস্থান জানা সম্ভব হবে না।
এ ছাড়া ঘরের ভেতর বা সংকেত বাধাগ্রস্ত হয় এমন এলাকায় লোকেশন নির্ভুলতা কমে যেতে পারে।
তাই জিপিএস ট্র্যাকারকে শিশুর নিরাপত্তার একমাত্র ব্যবস্থা হিসেবে না দেখে অতিরিক্ত একটি নিরাপত্তা স্তর হিসেবে বিবেচনা করাই যুক্তিযুক্ত।
দেশের বাজারে শিশু, ব্যক্তি, গাড়ি ও পোষা প্রাণীর জন্য বিভিন্ন ধরনের ট্র্যাকার পাওয়া যায়। তবে সব ডিভাইস শিশুদের জন্য উপযোগী নয়।
বিশেষ করে গাড়ির জন্য তৈরি ট্র্যাকার অনেক সময় গাড়ির ব্যাটারি বা স্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়। ফলে এসব ডিভাইস শিশুর জন্য ব্যবহার করতে গেলে আকার, ওজন ও ব্যাটারি সম্পর্কে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
বাজারে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ টাকার একটি ছোট ট্র্যাকারের তালিকাভুক্ত তথ্য অনুযায়ী, ডিভাইসটির আকার প্রায় ২ দশমিক ৫ × ৩ দশমিক ৫ × ১ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার এবং ওজন ২০ গ্রাম।
এতে জিপিএস, এজিপিএস, ওয়াই-ফাই, এলবিএস পজিশনিং, জিওফেন্স, লোকেশন হিস্ট্রি ও এসওএস সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাটারি ৪৫০ এমএএইচ এবং ব্যাটারি লাইফ ২ থেকে ৩ দিন পর্যন্ত দাবি করা হয়েছে।
তবে একই তালিকায় জিপিএস নির্ভুলতা ৫০ থেকে ৫০০ মিটার পর্যন্ত উল্লেখ রয়েছে। ফলে কেনার আগে শুধু বিজ্ঞাপনের ফিচার নয়, বাস্তবে লোকেশন কতটা নির্ভুল পাওয়া যায় সেটিও যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
সাইনোট্র্যাক এসটি-৯০৩ মডেলের তালিকাভুক্ত দাম ৩ হাজার ৪৫০ টাকা। এতে ১ হাজার ৫০ এমএএইচ ব্যাটারি, জিওফেন্স, রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং এবং আইপি৬৭ ওয়াটারপ্রুফ রেটিংয়ের কথা বলা হয়েছে।
তালিকাভুক্ত তথ্য অনুযায়ী, ডিভাইসটির ব্যাটারি প্রায় ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারে এবং স্ট্যান্ডবাই সময় ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত দাবি করা হয়েছে।
ডিভাইসটি ব্যক্তি ও যানবাহন—দুই ধরনের ট্র্যাকিংয়ের জন্য বাজারজাত করা হয়। তাই শিশুর ব্যবহারের ক্ষেত্রে আকার, বহন করার সুবিধা এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাপের কার্যকারিতা আগে যাচাই করা প্রয়োজন।
সাইনোট্র্যাক এসটি-৯১৫ মডেলের তালিকাভুক্ত দাম ৬ হাজার ৪৯৯ টাকা। এতে ১০ হাজার এমএএইচ ব্যাটারি, জিপিএস, এজিপিএস, এলবিএস পজিশনিং, জিওফেন্স, রুট হিস্ট্রি ও ওয়াটারপ্রুফিংয়ের কথা উল্লেখ রয়েছে।
তালিকাভুক্ত তথ্য অনুযায়ী, ব্যাটারি ৭ দিন পর্যন্ত, মুভ মোডে ৩০ দিন এবং স্ট্যান্ডবাইয়ে ১২০ দিন পর্যন্ত চলার দাবি করা হয়েছে।
তবে ডিভাইসটির ওজন প্রায় ২০০ গ্রাম এবং আকার প্রায় ৭ × ৮ × ২ সেন্টিমিটার। ফলে ছোট শিশুর সঙ্গে বহন বা গোপনে রাখার ক্ষেত্রে এটি তুলনামূলক বড় হতে পারে। মূলত গাড়ি ও মোটরসাইকেলসহ যানবাহনের জন্য তৈরি হওয়ায় শিশুর জন্য ব্যবহারের আগে এর ব্যবহারিক দিকটি বিবেচনা করা জরুরি।
শিশুদের জন্য সরাসরি বাজারজাত করা ডিভাইসের মধ্যে ইজিট্র্যাক্স পিএল২০০ রয়েছে। তালিকাভুক্ত দাম ৮ হাজার টাকা।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এতে ৪জি এলটিই, ২জি ফলব্যাক, জিপিএস/বিডিএস, জিএলওএনএএসএস, এসওএস, দুইমুখী কল, লাইভ ম্যাপ এবং ৯০ দিনের লোকেশন হিস্ট্রির মতো সুবিধা রয়েছে।
অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস অ্যাপের পাশাপাশি ওয়েব ড্যাশবোর্ড ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এক বছরের ওয়ারেন্টি এবং বিটিআরসি অনুমোদনের কথাও জানিয়েছে।
তবে কোনো ডিভাইস কেনার আগে এসব দাবি বিক্রেতা বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে যাচাই করে নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সিম, ডেটা ও অ্যাপ ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত কোনো খরচ রয়েছে কি না, সেটিও জানা প্রয়োজন।
জিপিএস সুবিধাযুক্ত শিশুদের স্মার্টওয়াচও বাজারে রয়েছে। হোকো ওয়াই১০৮-এর মতো কিছু ৪জি কিডস স্মার্টওয়াচে জিপিএস, এলবিএস ও ওয়াই-ফাই পজিশনিং, এসওএস কল, সিম কলিং এবং আইপিএক্স৭ ওয়াটারপ্রুফিংয়ের মতো সুবিধার কথা বলা হয়েছে।
তালিকাভুক্ত দাম প্রায় ৩ হাজার ৯৯০ টাকা এবং ব্যাটারি ৭৩০ এমএএইচ। ব্যাটারি ব্যাকআপ ১ থেকে ২ দিন পর্যন্ত দাবি করা হয়েছে।
স্মার্টওয়াচের সুবিধা হলো, শিশু এটি স্বাভাবিকভাবেই হাতে পরে থাকতে পারে। এতে ফোন কল বা এসওএসের মতো অতিরিক্ত সুবিধাও থাকতে পারে।
তবে শিশুর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—দৃশ্যমানতা।
দামি বা আকর্ষণীয় স্মার্টওয়াচ শিশুর হাতে দৃশ্যমান থাকলে সেটি নিজেই শিশুর প্রতি অন্যের আগ্রহ তৈরি করতে পারে। তাই শুধু বেশি ফিচার বা আকর্ষণীয় ডিজাইনের কারণে স্মার্টওয়াচকে সব সময় সবচেয়ে উপযুক্ত বিকল্প ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
শিশুর জন্য জিপিএস ট্র্যাকার কেনার সময় কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের বাজারে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যেও বিভিন্ন ধরনের ‘জিপিএস ট্র্যাকার’ দেখা যায়। আবার ৩ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা বা তারও বেশি দামের ডিভাইস রয়েছে।
কিন্তু দামের সঙ্গে লোকেশন নির্ভুলতা বা নিরাপত্তার মান সরাসরি সমানুপাতিক—এমন নিশ্চয়তা নেই।
কোনো ডিভাইসে জিপিএসের পাশাপাশি এলবিএস বা ওয়াই-ফাই ব্যবহার করা হতে পারে। আবার কোনো পণ্য মূলত গাড়ি ট্র্যাকিংয়ের জন্য তৈরি হতে পারে। তাই শিশুর জন্য ডিভাইস কেনার সময় পণ্যের নাম বা বিজ্ঞাপনের পরিবর্তে প্রকৃত প্রযুক্তি, ব্যবহারপদ্ধতি ও বাস্তব কার্যকারিতা যাচাই করা জরুরি।
ছোট আকারের ব্লুটুথ ট্র্যাকারও এখন বেশ জনপ্রিয়। অ্যাপলের এয়ারট্যাগ বা অ্যান্ড্রয়েডের ফাইন্ড হাব-সমর্থিত ট্র্যাকার খুব ছোট এবং দীর্ঘ সময় ব্যাটারি চালানোর সুবিধা দিতে পারে।
তবে এগুলো সাধারণ ৪জি জিপিএস ট্র্যাকারের মতো নয়।
এয়ারট্যাগ নিজে মোবাইল নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে নিয়মিত নিজের অবস্থান পাঠায় না। এটি ব্লুটুথ সংকেত ব্যবহার করে। আশপাশের উপযুক্ত অ্যাপল ডিভাইস সেই সংকেত শনাক্ত করলে ফাইন্ড মাই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অবস্থানের তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
অ্যান্ড্রয়েডের ফাইন্ড হাব-সমর্থিত ট্র্যাকারও আশপাশের ডিভাইসের নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করে।
ফলে চাবি, ব্যাগ, লাগেজ বা অন্য কোনো জিনিস খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে এগুলো কার্যকর হতে পারে। কিন্তু শিশুর নিয়মিত ও সরাসরি অবস্থান জানার জন্য এগুলোকে ৪জি জিপিএস ট্র্যাকারের সরাসরি বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।
বয়স ও পরিস্থিতি বিবেচনায় বড় শিশুর হাতে স্মার্টফোন থাকলে সেটিও লোকেশন শেয়ারিংয়ের কাজে ব্যবহার করা যায়।
তবে ফোনের ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়া, ফোন হারানো, বন্ধ করে রাখা বা ইন্টারনেট সংযোগ না থাকার মতো সমস্যা রয়েছে। ছোট শিশুর ক্ষেত্রে আবার আলাদা স্মার্টফোন দেওয়া সব সময় বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে।
জিওফেন্সিং কোনো আলাদা হার্ডওয়্যার নয়। এটি ট্র্যাকার বা স্মার্টফোনের একটি সফটওয়্যারভিত্তিক সুবিধা।
অভিভাবক চাইলে বাসা, স্কুল বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট এলাকাকে একটি ভার্চুয়াল সীমানা হিসেবে নির্ধারণ করতে পারেন। শিশু সেই এলাকার বাইরে চলে গেলে অ্যাপের মাধ্যমে সতর্কবার্তা পাওয়া যেতে পারে।
শিশুর নিয়মিত যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই ফিচারটি অভিভাবকের জন্য বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
শিশুর জন্য ট্র্যাকার বেছে নেওয়ার সময় আকার ও ওজন গুরুত্বপূর্ণ। বড় বা ভারী ডিভাইস শিশুর জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে এবং সহজেই খুলে বা হারিয়ে যেতে পারে।
তবে নিরাপত্তার কথা বলে ডিভাইসটি এমন জায়গায় রাখা উচিত নয়, যেখানে তা শিশুর শরীরে আঘাত করতে পারে বা অন্য কোনো শারীরিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
শিশুকে ডিভাইসটির বিষয়ে জানিয়ে রাখা এবং বিপদের সময় এসওএস বাটন বা অন্য সুবিধা কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, তা শেখানোও গুরুত্বপূর্ণ।
জিপিএস ট্র্যাকার শিশুর নিরাপত্তার একটি অতিরিক্ত ব্যবস্থা হতে পারে। কিন্তু এটি স্কুলের নিরাপত্তা, নিরাপদ যাতায়াত, পরিচিত অভিভাবকের মাধ্যমে শিশুকে আনা-নেওয়া কিংবা জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থার বিকল্প নয়।
পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উচিত শিশুকে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে না যাওয়ার বিষয়ে সচেতন করা, নির্ধারিত ব্যক্তির মাধ্যমে পিক-আপ নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে তা শেখানো।
প্রযুক্তির সঙ্গে এসব ব্যবস্থা যুক্ত থাকলে শিশুর নিরাপত্তা ব্যবস্থাটি আরও কার্যকর হতে পারে।
জিপিএস ট্র্যাকার শিশুকে নিরাপদ রাখার কোনো নিশ্চয়তামূলক যন্ত্র নয়। এটি মূলত শিশুর অবস্থান সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পাওয়ার একটি প্রযুক্তিগত মাধ্যম।
ব্যাটারি, মোবাইল নেটওয়ার্ক, জিপিএস সংকেত, ডিভাইসের অবস্থান এবং সফটওয়্যারের কার্যকারিতার ওপর এর সক্ষমতা নির্ভর করে। তাই ট্র্যাকার কেনার আগে শুধু দাম বা ফিচারের সংখ্যা না দেখে বাস্তব ব্যবহার, আকার, ব্যাটারি, নেটওয়ার্ক, অ্যাপ এবং বৈধতা যাচাই করা জরুরি।
বিশেষ করে শিশুর জন্য ডিভাইস বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ছোট, হালকা ও নির্ভরযোগ্য ডিভাইস বিবেচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি শিশুকে নিরাপদ চলাফেরা ও জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কেও সচেতন করতে হবে।
কারণ কোনো ট্র্যাকারই শিশুর নিরাপত্তার বিকল্প নয়। তবে সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে জরুরি মুহূর্তে শিশুর সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ব্যবস্থা হতে পারে।
তথ্যসূত্র: জিপিএস ডটগভ, অ্যাপল, ইজিট্র্যাক্স বাংলাদেশ, হোকো বাংলাদেশ ও বিডিস্টল।