আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : বৃহস্পতিবার ৩রা সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৯ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
মেসির স্ত্রী পরিচয়ের বাইরে আন্তোনেলা, গড়েছেন নিজের আলাদা সাম্রাজ্য
লিওনেল মেসি ও আন্তোনেলা রোকুজ্জোর প্রেম ও পরিণয়ের গল্প বিশ্বজুড়ে পরিচিত। মেসির স্ত্রী হিসেবে আন্তোনেলার তারকাখ্যাতি থাকলেও, শুধু এই পরিচয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তিনি। মডেলিং, ফ্যাশন, ব্যবসা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন মেসির জীবনসঙ্গী।
মডেলিংয়ে আন্তোনেলার পথচলা শুরু ২০০০-এর দশকের শেষ দিকে। সে সময় মেসির সঙ্গে তার সম্পর্ক বিশ্বজুড়ে খুব একটা আলোচিত ছিল না। তবে আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ও স্বাভাবিক উপস্থিতির কারণে ধীরে ধীরে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নজরে আসেন তিনি।
২০১৬ সালে আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড রিকি সারকানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন আন্তোনেলা। তার মডেলিং ক্যারিয়ারে এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। এরপর ফ্যাশন দুনিয়ায় তার পরিচিতি আরও বাড়তে থাকে।
পরের বছরই ব্যবসায়িক জগতে পা রাখেন তিনি। মেসির সাবেক সতীর্থ লুইস সুয়ারেজের স্ত্রী সোফিয়া বালবির সঙ্গে অংশীদারত্বে বার্সেলোনায় রিকি সারকানির প্রথম ইউরোপীয় বুটিক চালু করেন আন্তোনেলা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বার্সেলোনার বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলারও উপস্থিত ছিলেন।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ফুটবল অঙ্গনে আন্তোনেলার পরিচিতির পাশাপাশি তার ব্যবসায়িক দক্ষতাও সামনে আসে।
তবে আন্তোনেলার ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুধু ফ্যাশনেই সীমাবদ্ধ নয়। আর্জেন্টিনায় শিশুদের পোশাকের ব্র্যান্ড ‘এনফ্যান্স’-এর সহ-মালিক তিনি। পরিবার ও সন্তানদের প্রতি তার ব্যক্তিগত আগ্রহের সঙ্গেও এই ব্যবসার একটি যোগসূত্র রয়েছে।
খুচরা ব্যবসাতেও সম্পৃক্ততা রয়েছে আন্তোনেলার। আর্জেন্টিয়ায় ‘সুপারমার্কেট ইউনিকো’ নামে একটি সুপারমার্কেট চেইনের কার্যক্রমের সঙ্গেও তিনি যুক্ত।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গেও নিয়মিত কাজ করছেন মেসির স্ত্রী। ২০২৩ সালে ফোনের আনুষঙ্গিক পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘কেসটিফাই’-এর সঙ্গে যৌথভাবে একটি বিশেষ কালেকশন বাজারে আনেন তিনি।
এ ছাড়া অ্যাডিডাস, অ্যালো ইয়োগা ও স্টেলা ম্যাককার্টনির মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের সঙ্গেও কাজ করেছেন আন্তোনেলা। ফিটনেস, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও ফ্যাশন—তার বিভিন্ন ব্র্যান্ড অংশীদারত্বে এসব বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ক্যারিয়ারে আরও একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় যুক্ত হয়। মেসির সঙ্গে প্রথমবারের মতো অ্যাডিডাস এসেনশিয়ালসের প্রচারণায় অংশ নেন আন্তোনেলা। একই ব্র্যান্ডের হয়ে মেসির সঙ্গে এটিই ছিল তাদের প্রথম যৌথ প্রকল্প।
ফ্যাশন ও ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আন্তোনেলার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা ৩ কোটি ৯০ লাখের বেশি। সেখানে নিয়মিত নিজের পারিবারিক জীবনের নানা মুহূর্ত, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রচারণা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেন তিনি।
বিপুল জনপ্রিয়তা ও তারকাখ্যাতির পরও আন্তোনেলার জীবনযাপন অনেকটাই পরিবারকেন্দ্রিক। ঘনিষ্ঠজনদের মতে, বিশ্বখ্যাত ফুটবল তারকা মেসির স্ত্রী হওয়ার পরও তিনি বেশ বিনয়ী ও মাটির মানুষ হিসেবে নিজেকে ধরে রেখেছেন।
মেসির স্ত্রী হিসেবে পরিচিতি অবশ্যই তার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়গুলোর একটি। তবে নিজের ক্যারিয়ার, ব্যবসায়িক উদ্যোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তার মাধ্যমে আন্তোনেলা রোকুজ্জো প্রমাণ করেছেন, তার পরিচয়ের পরিধি শুধু মেসির স্ত্রী হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
মডেলিং থেকে ফ্যাশন, ব্যবসা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—নিজের কাজ ও উদ্যোগের মাধ্যমে ধীরে ধীরে একটি শক্তিশালী ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছেন আন্তোনেলা রোকুজ্জো।